Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৪, ২০২৫

প্রয়াত অধ্যাপক জি.এন সাইবাবার স্মরণে জমায়েত, আটক ‘টিস’-এর পড়ুয়ারা। বাম-ডান তরজায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত অধ্যাপক জি.এন সাইবাবার স্মরণে জমায়েত, আটক ‘টিস’-এর পড়ুয়ারা। বাম-ডান তরজায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক জি.এন. সাইবাবার মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করেছিলেন কয়েকজন পড়ুয়া। হাতে ছিল অধ্যাপকের ছবি, সামনে জ্বালানো কিছু মোমবাতি। না ছিল স্লোগান, না কোনো ভাষণ। তবু বিতর্ক এড়ানো গেল না। টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর মুম্বই ক্যাম্পাস থেকে ৪ পড়ুয়াকে সোমবার রাতে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। আরো কয়েকজনের খোঁজে ক্যাম্পাসে চলল তল্লাশি।

পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়াই ‘অবৈধ জমায়েত’ করেছেন ছাত্রছাত্রীরা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে অন্তত ১০ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ তালিকায় রয়েছে ‘জাতীয় স্বার্থে ক্ষতি’, ‘সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি’ এবং ‘অবৈধ সমাবেশ’-এর মতো ধারা। টিস-এর এক পড়ুয়া জানান, ‘আমরা কেবল দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেউ কোনো স্লোগান দেয়নি। কোনো উত্তেজক বক্তব্যঅ দেওয়া হয়নি। প্রয়াত অধ্যাপকের প্রতি নীরব শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে আমরা এক জায়গায় হয়েছিলাম, কিন্তু তা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের উপর আক্রমণ চালালো।’

জানা যাচ্ছে, এই জমায়েত চলাকালীনই সেখানে হাজির হন ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘ডেমোক্র্যাটিক সেক্যুলার স্টুডেন্টস ফোরাম’-এর সদস্যরা। অভিযোগ, তাঁরা সাইবাবার ছবি ছিঁড়ে ফেলে, পড়ুয়াদের হেনস্থা করা হউ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পড়ুয়াদের ছবি তোলেন এবং একাধিক ডানপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে তা পোস্ট করা হয়। তাতে ট্যাগ করা হয় মুম্বই পুলিশ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে। এর পরেই শুরু হয় পুলিশের সক্রিয়তা। সোমবার সন্ধেয় ট্রমবে থানার একাধিক পুলিশ ভ্যান এসে পৌঁছয় টিআইএসএস ক্যাম্পাসে। ছাত্রছাত্রীদের ঘর থেকে ডেকে এনে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সে সময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত এক ছাত্র জানিয়েছেন, অন্তত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে পুলিশ ক্যাম্পাস জুড়ে টহল দিচ্ছে।’ পড়ুয়াদের আরো অভিযোগ, যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

‘টিস’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রদের জমায়েতের বিষয়ে আগে থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তাঁরা গোটা ঘটনার কথা জানতে পারেন। তবে পুলিশের বক্তব্য, এই জমায়েতে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের সমর্থনে স্লোগান তোলা হয়েছিল, যাঁরা ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় এখনও বন্দি। কিন্তু ছাত্রদের পালটা বক্তব্য, ‘স্লোগানের প্রশ্নই ওঠে না। পুলিশ মিথ্যে অভিযোগ আনছে।’ ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে একজন ছাত্রদের হাতে একটি ওয়ারেন্ট তুলে দেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে সেটি গ্রেপ্তারি না সার্চ ওয়ারেন্ট, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। আটক ছাত্রদের সমর্থনে হোস্টেলের বাইরে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের নাম-ঠিকানাও পুলিশ সংগ্রহ করছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, জি.এন. সাইবাবা ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইংরেজির অধ্যাপক। শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ভীমা করেগাঁও মামলা এবং মাওবাদী যোগাযোগের অভিযোগে ১০ বছর জেলে কাটাতে হয়। গত বছর এই সময়, সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতায় মৃত্যু হয় তাঁর। এক বছর পর কেবল তাঁকে স্মরণ করতে গিয়েই এত কিছু ঘটে যাবে, ভাবেননি কেউই। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ‘অভিযুক্ত’ ছাত্রদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে। এ ঘটনা নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি মহারাষ্ট্র সরকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!