- বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
মায়ানমারের জুন্টা সেনার ভয়ংকর এয়ারস্ট্রাইক ! বিদ্রোহী অধ্যুষিত রাখাইনে নিহত ৪৯
মায়ানমারের বিদ্রোহী-অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে ফের ভয়াবহ বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে। আরাকান আর্মির দখলে থাকা কিয়াকতাও টাউনশিপের কাছে একটি ব্যস্ত বাজার এলাকায় সোমবার দুপুরে এই হামলা চালানো হয়। আরাকান আর্মির দাবি, যুদ্ধবিমান থেকে বাজারের ভিড় লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম মান্দালয় থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে কিয়াকতাও টাউনশিপের কাছে ওই বাজার এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হামলার সময় বাজারে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। আচমকা বিমান হামলায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাখাইনে উদ্ধারকাজে যুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক ওয়াই হুন আউং জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন প্রদেশে যতগুলি প্রাণঘাতী বিমান হামলা হয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে একটি হাসপাতালে বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, রাখাইনই সেই অঞ্চল, যেখান থেকে একসময় ব্যাপক সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
মায়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়েছে। ওই বছরের অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা দখলের পর দেশের পরিস্থিতি দ্রুত অশান্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই জুন্টা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।
রাখাইন প্রদেশে জুন্টাবিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয় রয়েছে আরাকান আর্মি। অন্যদিকে, চিন প্রদেশে তাদের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন জুন্টাবিরোধী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এই জোটের সঙ্গে ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর মতো বিভিন্ন প্রতিরোধ সংগঠন যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ইয়াও আর্মি এবং মনিওয়া পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের নামও রয়েছে। এই সংগঠনগুলি একত্রিতভাবে জুন্টা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনে নতুন করে এই বিমান হামলার ঘটনায় মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
❤ Support Us








