- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৩০, ২০২৫
পেহেলগাঁও হামলার জের, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড পুনর্গঠন করল মোদি সরকার
পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কয়েকদিনের মধ্যেই, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড বা এনএসএবি-এ পুনর্গঠন করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। প্রাক্তন আর অ্যান্ড ডব্লিউ-এর প্রাক্তন প্রধান অলোক জোশীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জম্মু-কাশ্মীরে হামলার পিছনে আন্তঃসীমান্ত যোগ ও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরে পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। পাকিস্তান কেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এই হামলার দায় স্বীকার করবার পর থেকেই, ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নয়াদিল্লি। ফলশ্রুতি হিসাবে সীমান্তে উত্তেজনা অব্যহত। ভারত-পাক সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা, জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও বিরোধীদের তরফে এই হামলার পিছনে ভারতের ইন্টেলিজেন্স-এর ব্যর্থতা ও মোদি সরকারের সেনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হয়েছে। এই আবহে, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা বোর্ড বা এনএসএবি-এ পুনর্গঠন করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। প্রাক্তন আর অ্যান্ড ডব্লিউ-এর প্রাক্তন প্রধান অলোক জোশীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জম্মু-কাশ্মীরে হামলার পিছনে আন্তঃসীমান্ত যোগ ও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
অলোক জোশী ছাড়াও এই বোর্ডে আরো ৬ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডার এয়ার মার্শাল পি.এম. সিনহা, প্রাক্তন দক্ষিণাঞ্চল আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ.কে. সিং এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মন্টি খান্না – এঁরা সকলেই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। এছাড়াও রয়েছেন রাজীব রঞ্জন বর্মা ও মনমোহন সিং, প্রত্যেকেই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার। কমিটিতে আছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস কর্মকর্তা বি. ভেঙ্কটেশ বর্মা।
প্রসঙ্গত পহেলগাঁও হামলার পরেপরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক হয়েছিল। ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স এবং ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স-এর বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকাল ৩টায় একটি ক্যাবিনেট বৈঠক হবার কথা রয়েছে। জানা যাচ্ছে, সিসিএস-এর দ্বিতীয় বৈঠকে পহেলগাম ঘটনার পর ভারতের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জঙ্গী হামলার বিষয়ে বিষদে তথ্য জানানো হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে, সেখানে জানানো হয় যে, এই হামলার সঙ্গে সীমান্তপারের জঙ্গী সংগঠনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। মোদি সরকার এরপর একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করে, যার মধ্যে অন্যতম সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, ভারতীয় সেনার চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং ৩ বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সূত্র অনুসারে, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে কোন ঘটনার জবাব কেমন হবে, কোন সময় হবে, কীভাবে হবে। প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন, পহেলগাঁও-এর নৃশংস হামলার পর ভারত কোনোভাবাই চুপ করে থাকবে না, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
❤ Support Us






