- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
দুর্গাপুজোর পরেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ সমস্ত রাজ্যে শুরু ভোটার তালিকা সংস্কার অভিযান, চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নির্বাচন কমিশনের
বিহারের পর এবার গোটা দেশ জুড়ে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর কাজ। সমস্ত জল্পনার পরিসমাপ্তি করে কর্মসূচির সম্ভাব্য সময়ও ঘোষণা করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পুজোর পর অর্থাৎ অক্টোবর মাস থেকে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু হবে।
অক্টোবরের ২ তারিখ দুর্গাপুজো ও তার পর আরো কয়েকটি বড়ো উৎসব, যেমন লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোর সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যপী ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, পুজোর মরসুম শেষে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য এ মুহুর্তে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনো রাজ্য ও কেন্দ্রের আলোচনার শীর্ষে। প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠায়, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির প্রবল প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। আধার কার্ডকে প্রাথমিক ভোটার যাচাইয়ের দলিল হিসেবে গণ্য না করার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে প্রামাণ্য নথি তালিকায় আধার কার্ডকে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বারবার ‘এসআইআর’ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন। ৫০ বছর আগের জন্মশংসাপত্র সংগ্রহের সমস্যাকে সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, আধার না মেনে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম চালানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন, এই তালিকা সংশোধনের পিছনে ‘এনআরসি’র মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকানো রয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ড সংক্রান্ত রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার যাচাইয়ের বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, যদিও এটি নাগরিকত্ব প্রমাণ নয়। এই নির্দেশনা আপাতত বিহারের জন্য প্রযোজ্য হলেও, এতে স্পষ্ট যে কমিশন আধারকে যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ খুলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও এখন আধারকে ‘আইডেন্টিটি’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং রাজ্যবাসীকে আধার কার্ড করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এসআইআর এমন এক কাজ যা ২-৩ মাসে হয় না, বরং এর জন্য ৩ থেকে ৪ বছর সময় দরকার।’ চরম বিতর্কিত আবহেই বুধবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। দেশের সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এছাড়াও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন বৈঠকে। বৈঠকে দুর্গাপুজোর পর থেকে দেশের সকল রাজ্যে এসআইআর কার্যক্রমের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যান্য রাজ্যের প্রস্তুতির মানও যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ভোটার যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় স্বীকৃত দলিলের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ভোটার যাচাই প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও সঠিক করবে বলে দাবি কমিশনের।
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে ২০০২ সালের পর আর এসআইআর হয়নি, সেখানে ২ দশকের বিরতির পর ফের এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী বছর এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগে সঠিক ও আপডেটেড ভোটার তালিকা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলে বিহারে শুরু হওয়া বিতর্কিত এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নির্বাচন কমিশন তা চূড়ান্ত করেছে। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। উল্লেখ্য, ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে অধিকাংশ রাজ্যে শেষবারের মতো এসআইআর সম্পন্ন হয়েছিল। দিল্লিতে সর্বশেষ এই কাজ হয় ২০০৮ সালে, উত্তারাখণ্ডে ২০০৬ সালে। বিহারের ২০০৩ সালের তালিকাই বর্তমানে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার এর পরিধি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ পরিমার্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
❤ Support Us








