- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- মে ২৭, ২০২২
নজরুল ১২২। জন্মদিনের উৎসবে, পুরস্কৃত সৃজনের ২৩ প্রতিভা—গৌতমভদ্র, গৌতম হালদার হর্ষ দত্ত থেকে প্রচেত গুপ্ত … ।
ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্রকে বিদ্যাসাগর পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম। পাশে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, ডানদিকে বিশিষ্ট চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন । আলোকচিত্র: দীপক গুপ্ত ।
সব খবর খবর নয়। আনুষ্ঠানিকতার বহর মাত্র। আবার, কোনও কোনও খবর আকারে ছোট, আড়ম্বর আর পরিসরে সীমিত হলেও ঘটনাময় সময় আর সমাজের নিহিত ইচ্ছাকে উজ্জ্বল করে তোলে। ২৬ মে, কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে, সমর্পিত মাধুর্যে বাংলার ২৩ বিদগ্ধ প্রতিভাকে পুরস্কৃত করে, সম্মান জানানোর সংবাদটি কী কারণে কোনও কোনও সংবাদ মধ্যমে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি । কেউ কেউ কেন জানি এড়িয়ে গেলেন।
বাঙালির জনপ্রিয়, চিত্তজয়ী কবিকে তাঁর জন্মদিনে সম্মানিত করার ব্যতিক্রমী, সমষ্ঠিময় প্রয়াস প্রথম না হলেও সর্বশেষ অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব অন্যরকম । দ্বিতীয়ত, নজরুলের নামে নয়, তাঁর পূর্বগামী ২৩ মনীষার নামে অঙ্কিত পুরষ্কারে সম্মানিত হলেন বৈদগ্ধ্যের নবীন-প্রবীণেরা । চিন্তার সীমাবদ্ধতা আর যান্ত্রিকতাকে নাকচ করে এ অনুষ্ঠানে, প্রগাঢ় শ্রদ্ধায় বিদ্যাসাগর পুরস্কার দিয়ে স্বীকৃতি জানানো হল সাম্প্রতিক কালের অন্যতম সেরা ইতিহাসবেত্তা গৌতম ভদ্রকে । বিরল প্রতিভার নাট্যকার গৌতম হালদারকে গিরীশ, হর্ষ দত্তকে বঙ্কিম, বিজয় দে-কে মাইকেল, অলোক রায় চৌধুরীকে নজরুল, বজলে রহমানকে পঞ্চানন, অধর ক্ষেপাকে লালন এবং বিভূতিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন প্রচেত গুপ্ত ।
আলোকচিত্রে গৌতমভদ্র, হর্ষ দত্ত, প্রচেত গুপ্ত ।
গৌতম ভদ্র কেবল ইতিহাসবিদ নন। নতুন ইতিহাস চিন্তার অন্যতম স্থপতি । বিলম্বিত হলেও প্রতিষ্ঠানিকতা এবার তাঁর বিরল জ্ঞানচর্চা, ন্যায়ভাবনা আর পঠন-পাঠনের বিস্তৃতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নাটকের প্রতিভা গৌতম হালদার। আমাদের সংস্কৃতির প্রাঙ্গনে এক সবুজ ঐশ্বর্য। তাঁকে সম্মানিত করে গিরিশচন্দ্র ঘোষকে অন্যভাবে স্মরণ করিয়ে দিল পুরস্কার কমিটি । গল্পকার, উপন্যাসিক প্রচেত গুপ্ত নাগরিকতা বোধের একজন বিরল রূপদর্শী । বিভূতিভূষণ পুরস্কারের মর্যাদা তাঁর শুভ্রতা আর সূক্ষ্ণতাবোধকে নিকটস্থ করে দিল আরও।
একক কোনও প্রতিষ্ঠান নয়, একসঙ্গে একই মঞ্চে সমবেত হয় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, নৃত্য আকাদেমি, সঙ্গীত একাদেমি, নজরুল আকাদেমি, চারুকলা পর্ষদ, লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, যাত্রা আকাদেমি এবং নাট্য আকাদেমি ইত্যাদি। নজরুল প্রতিভার সঙ্গে এরকম বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠানের নির্মিত সংযোগ অবশ্যই অত্যন্ত জরুরি আর অতি প্রাসঙ্গিক প্রচেষ্টা ।
জ্যৈষ্ঠের কবি, বিদ্রোহের কবি, অখণ্ড বাঙালির অবিভাজ্য কবির জন্মদিনের স্মরণানুষ্ঠানে বহু প্রজ্ঞার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলার চির-উজ্জ্বল মনীষাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত এই অনুষ্ঠানসূচি, কলকাতার সংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এঁকে দিল বর্ণময়, অন্যরকম চিহ্ন ।
❤ Support Us









