- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ৫, ২০২৬
নেপালে শুরু মহানির্বাচন, জেন জি বনাম ওলি দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বন্ধ শিলিগুড়ি সীমান্ত
বেকারত্ব, মুল্যবৃদ্ধি, সেন্সরসিপ-এর বিরুদ্ধে জেন-জি আন্দোলন। ক্ষোভ, প্রতিবাদ, ভাঙচুর, ক্ষমতাচ্যুত সরকার থেকে অন্তবর্তী সরকার; দীর্ঘ অস্থিরতা শেষে ফের গনতান্ত্রিক সংসদীয় পথে নেপাল। হিমালয়ের কোলের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নেপাল সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি।
২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলন কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল, সেই আন্দোলনে ৭৫ জনের প্রাণহানি, শতাধিক আহত, এবং রাজধানী কাঠমান্ডুর নানা অংশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল। তবু সে উত্তাপ ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে কিনা— সে প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার, সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে নেপালে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নেপালের ১০,৯৬৭টি বুথে এবং ২৩,১১২টি কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মোট ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোট নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি ১১০টি আসন পূর্ণ হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে। সে দেশের নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, দুর্গম এলাকা থেকে ব্যালট বাক্স হেলিকপ্টারে আনা হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
জানা যাচ্ছে, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৩ লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী। গোয়েন্দা নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি, এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি, সবই ভোটপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা। বিশেষ করে ভারত-নেপাল সীমান্ত, মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে, আগামী ৬ মার্চ সকাল থেকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য পুনরায় খোলা হবে। ৭২ ঘণ্টার এই সীমান্ত বন্ধের কারণে দু-দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থগিত। শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্তের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনের কারণে সীমান্তবর্তী ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স চলাচল চালু রয়েছে। শুধুমাত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে নেপালের নাগরিকরা ভারতে ফিরে যেতে পারছেন। একইভাবে নেপালে আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটক বা শ্রমিকরা দেশে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন।
নেপালের জাতীয় নির্বাচনের মূল আকর্ষণ দুই প্রজন্মের যুযুধান লড়াই। একদিকে রয়েছেন চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, যিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ। তিনি কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র, র্যাপার রাজনীতিবিদ বলে পরিচিত। জেন-জি আন্দোলনে শাহ প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে বিশেষজ্ঞ মহলের মত। তিনি এবার রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির প্রার্থী। ওলির খাসতালুক ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বালেন শাহের বাকপ্রতিভা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের তৎপরতা ইতিমধ্যেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তিনি কালো চশমা ও ফ্লাম্বয়ান্ট স্যুটে জনসভায় উপস্থিত হন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ রাখেন। নির্বাচনী ইস্তেহারে তিনি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ প্রশাসন তৈরি ও পুরনো রাজনৈতিক দলের দুর্নীতি সামনে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নেপাল কংগ্রেসও প্রজন্মগত নবায়নের চেষ্টা করছে। দলটির প্রধান শের বাহাদুর দেউবা ৫ বারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এবার, ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা দলের তরুণ এবং প্রগতিশীল চেহারা হিসেবে সামনে এসেনছে। এছাড়া রবি লামিচানের নেতৃত্বাধীন ‘আরএসপি’ আন্দোলনের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের গণ-আন্দোলনের সময় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের অভাবের বিরুদ্ধে উত্তাল হয় কাঠমাণ্ডু। সে আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল সুশিলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। দীর্ঘ অস্থিরটা পেরিয়ে এবারের ভোট তাই ভারতের প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রজন্মগত পরিবর্তন এবং নেপালের ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করার এক বড়ো সুযোগ। বিপুল সংখ্যক জেন জি ভোটাররা, যারা সাধারণত রাজনীতিতে দূরে থাকেন, তাদের অংশগ্রহণ এ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রায় ৮ লাখ প্রথমবারের ভোটার আজ ভোট দিচ্ছেন, যারা গত বছরের আন্দোলনের অংশ ছিলেন। তাদের ভোটই নির্ধারণ করতে পারে, বালেন শাহ কি নতুন যুগের সূচনা করবেন নাকি পুরনো রাজনৈতিক শক্তি আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবে।
❤ Support Us






