Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ
  • মে ২৮, ২০২৬

শিলচর ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণে আদৌ আগ্রহী রাজ্য ?

প্রদীপ দত্ত রায়
শিলচর ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণে আদৌ আগ্রহী রাজ্য ?

শিলচর রেলওয়ে স্টেশনকে ভাষা শহিদ রেলস্টেশন নাম করার দাবিতে রাজ্য সরকারের মনোভাব বরাবর নেতিবাচক । না হলে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় এই নামকরণের অনুমোদন দিলেও শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের অনীহার জন্য এটা আটকে রয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী এ ইস্যুতে জোর গলায় বলেছেন রাজ্য সরকার এনওসি দিয়ে দিয়েছে । এখানে এনওসি দেওয়ার কোনও বিষয় জড়িত নেই । ২০১৫ সালে কেন্দ্র রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর নামকরণের বানানটা কেমন হবে, তা অনুমোদন করে কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে । এ চিঠির জবাব রাজ্য সরকার আজ অবধি দেয়নি । তাই রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক ।


অসমের ডিমাসা সাহিত্য পরিষদ ক্যামপ্রাইর বক্তব্য খন্ডন করেছে । পরিষদ স্পষ্টই বলেছে ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ভাষিকগোষ্ঠীর ভাবাবেগ জড়িত নয় । ৬১ সালের আন্দোলনে ডিমাসাদেরও সমর্থন ছিল তাদের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট । শিলচর রেল স্টেশনের নাম ভাষা শহিদ স্টেশন হলে তাদের আপত্তি নেই ।


শিলচর রেলস্টেশনকে ভাষা শহিদ স্টেশন করার দাবিটি দীর্ঘদিনের হলেও এটা যাতে বাস্তবায়িত না হয়, সেজন্য নানাভাবে প্যাঁচ কষা হচ্ছে । সম্প্রতি ডিমাসা লেখক ফোরামের সভাপতি মুক্তেশ্বর ক্যাম্প্রাই নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে, ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশি আখ্যা দেওয়ানো হয়েছে । একথা বলবার কারণ, মুক্তশ্বরের ভাষায় রাজ্য সরকারের সুর বাজছে । তাঁর হয়তো জানা নেই, ৬১’র ভাষা আন্দোলনে বাঙালি, মনিপুরি, ডিমাসা, চা বাগান সম্প্রদায় সহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল । এমন একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে বেফাঁস মন্তব্য বরাক উপত্যকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে এটা অনুমান করা কঠিন নয় । অসমের ডিমাসা সাহিত্য পরিষদ ক্যামপ্রাইর বক্তব্য খন্ডন করেছে । পরিষদ স্পষ্টই বলেছে ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ভাষিকগোষ্ঠীর ভাবাবেগ জড়িত নয় । ৬১ সালের আন্দোলনে ডিমাসাদেরও সমর্থন ছিল তাদের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট । শিলচর রেল স্টেশনের নাম ভাষা শহিদ স্টেশন হলে তাদের আপত্তি নেই ।


বরাকের এ দাবি দীর্ঘদিনের । বহুভাষী মানুষের সমর্থনও অজানা নয় । স্টেশনের সামনে বর্ণমালার বোধিবৃক্ষ তৈরি হয়েছে । প্রতিবছর ১৯ মে এলেই নতুন নামকরণের দাবিতে থরো থরো কম্পন শুরু হয় । সরকার নিশ্চল বসে থাকে । নতুন নামের দাবিদাররা ঝিমিয়ে পড়েন । স্থানীয় শাসক নিশ্চিত হয়ে নিশ্চুপ বসে থাকে । বসে থাকি আমরা সবাই


ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে যে ১১ জন শহিদ হয়েছিলেন, তাঁদের সে আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন এরকম নামকরণের মধ্যে হতে পারে । সর্বশেষ অসম সাহিত্য সভার কেন্দ্রীয় সভাপতি বসন্তকুমার গোস্বামীও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে চিঠি লিখেছেন । বসন্ত গোস্বামীর চিঠির পর হঠাৎ ভুইফোড়ের মত উদয় হয়েছে ডিমাসা লেখক ফোরাম নামক সংগঠনের । এই সংগঠনটি গড়ে তোলার পিছনে কে কলকাঠি নাড়ছে সেটা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হবার কথা নয় । যেন তেনো প্রকারে ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণকে আটকে দেওয়াটাই কি রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য ? বরাকের এ দাবি দীর্ঘদিনের । বহুভাষী মানুষের সমর্থনও অজানা নয় । স্টেশনের সামনে বর্ণমালার বোধিবৃক্ষ তৈরি হয়েছে । প্রতিবছর ১৯ মে এলেই নতুন নামকরণের দাবিতে থরো থরো কম্পন শুরু হয় । সরকার নিশ্চল বসে থাকে । নতুন নামের দাবিদাররা ঝিমিয়ে পড়েন । স্থানীয় শাসক নিশ্চিত হয়ে নিশ্চুপ বসে থাকে । বসে থাকি আমরা সবাই ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!