Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ২, ২০২৫

বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে বদল । বঙ্গবন্ধু নন, স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষক জিয়াউর রহমান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে বদল । বঙ্গবন্ধু নন, স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষক জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে বদলে গেল স্বাধীনতা ঘোষণাকারীর নাম। বাদ দেওয়া হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। অতিরঞ্জিত চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস বদল করা হচ্ছে – মন্তব্য গবেষক রাখাল রাহার।

জুলাই-আগষ্ট মাসে ‘গণ অভ্যুত্থান’ – এর পর থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলছিলেন বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনের ছাত্রনেতারা। হাসিনা সরকারের পতনের পরে ভেঙে ফেলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর মূর্তি, ভাস্কর্য। এবার নতুন ইতিহাস লেখার কাজ শুরু হলো।সেদেশের পাঠ্যপুস্তকে ৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকারীর নাম হিসবে শেখ মুজিবের পরিবর্তে জিয়াউর রহমান নাম প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।

নতুন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বইয়ে সাহিত্য ও ইতিহাসে নানান পরিবর্তন করছে ‘নতুন বাংলাদেশ’, মুছে ফেলা হয়েছে ‘জাতীর পিতা’ হিসাবে থাকা মুজিবুর রহমানের নাম। দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবার অন্যভাবে পড়বে পড়ুয়ারা। পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু অংশ যেমন বাদ পড়ছে তেমনই নতুন তথ্য যোগ হচ্ছে বলে খবর। ইউনুস জমানায় ৭১ এ শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লিগের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা, যার ডাকে দেশের স্বাধীনতায় প্রাণ দিয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ, পাকিস্তান আর্মি ধর্ষণ করেছিল হাজার হাজার নারীকে- বাঙালির অস্তিত্বের লড়াইয়ের সেই ইতিহাস মুছে ফেলবার কাজ চলছে। মুছে ফেলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে ক্ষতবিক্ষত একটা দেশ সন্তানস্নেহে কেমন করে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।/ তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো/ রক্ত যখন দিয়েছি আরো দেবো এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ…” ৭ মার্চ শেখ মুজিবের এই ভাষণ আমরা শুনেছি, শুনতে শুনতে রক্ত গরম হয়েছে, লাখ লাখ মানুষের সম্মিলিত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বাঙালি হিসাবে হাত মুঠো করে ফেলেছি অজান্তে। বাংলাদেশের নতুন পঞ্চমশ্রেনির পাঠ্যপুস্তকে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের নতুন বইয়ে ‘পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা’ শীর্ষক রচনায় লেখা হয়েছে ‘২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে ২৭ মার্চ আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মুজিবুর’ বইয়ে আরো বলা হয়েছে, ‘ স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত মুজিবুরের বার্তাও জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন। চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ে একই বদল করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই বইয়ে ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক লেখায় মুজিবুরের ৭ মার্চের বক্তৃতার পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের ছবি। পঞ্চম শ্রেণির এই বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামে অধ্যায়ে মুজিবুর এবং অন্য চার নেতা ছাড়াও রয়েছে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানির ছবি। আগের পাঠ্যবইয়ে ওই অংশে মুজিবুর এবং অন্য চার নেতার ছবি ছিল। নতুন সংস্করণে ওই অংশে প্রথমে রয়েছে ভাসানির ছবি। তার পাশে রয়েছে মুজিবের ছবি। বাকি চার নেতার ছবিও রয়েছে তার সঙ্গে। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে।

এছাড়াও জুলাই-আগষ্টের বাংলাদেশের ‘গণঅভ্যুত্থান’ – এর কথা লেখা হয়েছে নতুন বইয়ে। ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ নামক প্রবন্ধে আবু সাঈদ এবং মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ সহ আন্দোলনের সকল শহীদদের ছবি ও স্মরণবাক্য লেখা সংযোজিত হয়েছে। লেখক ও গবেষক রাখাল রাখা পাঠ্যপুস্তকের এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর মতে ‘অতিরঞ্জিত চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস বদল করা হচ্ছে।’ ইতিহাস নিজের পথে চলে, ফিরে ফিরে আসে। আগামীর বাংলাদেশ হয়তো আবার একদিন নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের পুরনো ইতিহাস পড়বে।

ইউনূসের অন্তর্বতী সরকার ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা দিবস বা কালোদিবস হিসাবে এতদিন বাংলাদেশে পালিত হতো, তাও বাতিল করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!