- দে । শ
- জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকারের কড়া গাইডলাইন, জারি একাধিক নির্দেশিকা
নিপা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের আবহে রাজ্য সরকার বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশ করল। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে গঠিত ৫ সদস্যের চিকিৎসক দলের সুপারিশে এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। নিপায় আক্রান্ত রোগী, নিপার উপসর্গ থাকা রোগী, তাঁদের পরিচর্যাকারী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই মূলত এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
গাইডলাইন অনুযায়ী, নিপায় আক্রান্ত বা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর রক্ত, শরীরের তরল পদার্থ, লালা, হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। রোগীর সঙ্গে বন্ধ বা সীমাবদ্ধ জায়গায় সময় কাটানো ব্যক্তিকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে দু’বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এই সময়ে কোনও উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। একইভাবে, নিপায় আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা রোগীর জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে এলে কিংবা সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এই সময়ে প্রতিদিন ফোন করে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন। উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে, নিপা আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা রোগীর দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ করতে হবে। যাঁদের কোনও উপসর্গ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সেবনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
অন্যদিকে, যাঁদের মধ্যে নিপার উপসর্গ দেখা যাবে, তাঁদের অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। যেহেতু নিপা সংক্রমণের জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি, তাই পরীক্ষামূলকভাবে বিকল্প দুটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রোগীদের নমুনা দ্রুত RTPCR পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে। গাইডলাইন অনুযায়ী, একদিনের মধ্যে অন্তত দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি নিপা আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা রোগীর সংস্পর্শে আসেন, কিন্তু তাঁদের নিজের কোনও উপসর্গ না থাকে, সেক্ষেত্রে মাস্ক, PPE কিটসহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিপা সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ২ সপ্তাহ একটি বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিপায় আক্রান্ত বা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব মূলত ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের উপরই থাকবে। যাঁদের নিপা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, তাঁদের প্রতি ৫ দিন অন্তর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। লালারস, ইউরিন এবং রক্ত—এই তিন ধরনের নমুনার রিপোর্ট যদি একদিনের মধ্যে আলাদা আলাদাভাবে দু’বার নেগেটিভ আসে, তবেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে। অন্যথায় নয়।
এছাড়াও, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও নিপা আক্রান্ত রোগীকে অন্তত ৯০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্য জুড়ে নিপা সংক্রমণ প্রতিরোধে এই গাইডলাইন মেনে চলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
❤ Support Us






