Advertisement
  • দে । শ
  • নভেম্বর ২, ২০২৬

কলকাতায় নিতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির মহামিছিল, উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু-শমীক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় নিতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির মহামিছিল, উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু-শমীক

বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলায় এ বার রাজপথে পাল্টা কর্মসূচী বিজেপির। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতায় মহামিছিলের আয়োজন করেছে গেরুয়া শিবির। মিছিলের নেতৃত্ব দিতে শহরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মিছিলে দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকের জমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে। মিছিল শেষে ধর্মতলায় সভাও করবেন বিজেপি নেতারা। সেখানে নিতিনের পাশাপাশি বক্তব্য রাখার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পাল্টা হিসাবেই এ মিছিলকে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছনোর কথা নিতিনের। তবে তার আগে বিহারের ভাগলপুরেও একই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি। বিহার বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ১১টা নাগাদ ভাগলপুরের লাজপথ পার্ক থেকে সেবাজ্যোতি চক পর্যন্ত মিছিল করবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। সেখানকার কর্মসূচি শেষ করেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল ৩টে নাগাদ কলেজ স্ট্রিটের কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়ার কথা কলকাতার মিছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ধরে এগিয়ে মিছিল পৌঁছবে ধর্মতলায়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন দলের শীর্ষ নেতারা।

নিতিনের সফরকে কেন্দ্র করে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে প্রস্তুতিও তুঙ্গে। রবিবার রাতেই মিছিলের পথ ও সভাস্থলের পরিস্থিতি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক নেতা। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, স্বপন দাশগুপ্ত, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং-সহ দলের বহু পরিচিত মুখের মিছিলে থাকার কথা। এ ছাড়াও বিধায়ক, সাংগঠনিক পদাধিকারী ও জেলা নেতৃত্বের একাংশকে কর্মসূচিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী এবং সৌমিত্র খাঁ-সহ দলের একাধিক পদাধিকারীও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে কলকাতার কর্মসূচি একক কোনো ঘটনা নয়। বিরোধীদের ধারাবাহিক আক্রমণের জবাব দিতে একই দিনে দেশের একাধিক শহরে পথে নামছে বিজেপি। হায়দরাবাদে মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে থাকার কথা কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি-সহ দলের অন্য নেতাদের। হরিয়ানার রোহতকেও নিতিন নবীনের নেতৃত্বে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি হয়েছে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী হিংসায় নিহতদের স্মরণে মাথায় কালো কাপড় বেঁধে মিছিলে হাঁটেন বিজেপি নেতারা। সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে চাইছে পদ্মশিবির।

বিজেপির এই পাল্টা কর্মসূচির পিছনে রয়েছে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক তৎপরতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও পদত্যাগের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বেড়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ভোট চুরির অভিযোগের জবাব এক দিন তাঁদের দিতেই হবে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। রাহুলের পাশাপাশি সমাবেশে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

মমতার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় স্বাভাবিক নির্বাচনী ফল নয়। ভোট চুরি করেই বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছে বলে দাবি তাঁর। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের এই অবস্থানকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে যখন চাপানউতর চলছে, তখনই পাল্টা ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বিরোধীদের আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বদলে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করছে শাসক দল। বিজেপির বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে পরিকল্পিত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সে অভিযোগের জবাব দিতেই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি।

বাংলাতেও গত কয়েক দিন ধরে এই স্লোগানকে সামনে রেখে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ‘নিউ ইন্ডিয়ান’ মাঠে সভা করে গেরুয়া শিবির। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দু–টি সভাতেই প্রধান বক্তা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ বার সেই কর্মসূচিকে কলকাতার রাজপথে নিয়ে আসছে বিজেপি। জেলার সভাগুলির পরে শহরের বুকে বড়ো মাপের মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে রাজ্য বিজেপি যে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে বিজেপির আক্রমণের মধ্যেই পাল্টা সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। দিল্লির সমাবেশের ব্যাপকতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনে রাজধানীতে এমন সমাবেশ তিনি আগে দেখেননি। তাঁর মতে, এই জমায়েতই বিজেপির বিদায়ের দিন ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা — এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতার মিছিল বিজেপির কাছে শুধু একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনেরও মঞ্চ। এক দিকে বিরোধীদের ভোট চুরির অভিযোগ, অন্য দকে বিজেপির অরাজকতার পাল্টা অভিযোগ — দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ধর্মতলার সভা থেকে নিতিন নবীন, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীরা বিরোধীদের আক্রমণের কী জবাব দেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে কী বার্তা দেন, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলের আগ্রহ। বিশেষত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি নেতৃত্বের এই প্রথম সারির যৌথ কর্মসূচি বাংলার আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিশা কতটা স্পষ্ট করে, সে দিকেও নজর থাকবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!