- দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৩
আগুন ঝড়ে প্রায় জনমানব শূন্য হাওয়াই।স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে তৎপর প্রশাসন।সহায়তার হাত বাড়ালেন সঙ্গীত শিল্পী থেকে ধনকুবের
দশকের সবচেয়ে বড়ো অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত গোটা হাওয়াই। দাবানলে পুড়ে এখনো পর্যন্ত ৯৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবথেকে খারাপ অবস্থা দেশের মাওয়াই ও লাহাইনা দ্বীপে। গোটা শহরটাই এখন যেন ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেঙ্গে পরেছে একের পর এক বাড়ির দেওয়াল। বহু মানুষ ঘর ছাড়া। সংবাদ সংস্থার খবর,প্রাণ বাঁচাতে অনেকে প্রশান্ত মহাসাগরের জলে ঝাঁপ দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বিপদাপন্নদের উদ্ধার করে আনার। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য তাঁরা পাননি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা আগুনের দাপট এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অনেকেই এর জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন। অভিযোগ আসছে যে, বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা স্বরূপ যে সাইরেন বাজানোর কথা তা অনেক ক্ষেত্রে করা হচ্ছে না। এতে বিপদ আরো বাড়ছে। হাওয়াই-এর গর্ভনর, জোশ গ্রিন এই ভয়াবহতার জন্য ঘণ্টায় ৮০ মাইল বেগের অগ্নিঝড়কে দায়ী করেছেন। যার প্রভাবে এলাকার তাপমাত্রা বেড়ে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যে কারণেই প্রায় জনমানব শূন্য হয়ে গেছে মাওয়াই আর লাহাইনা। যা জীবজন্তু ছিল তাও আগুনে ঝলসে পুড়ে গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, হাওয়ার প্প্রবল বেগের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে আগুন আর তারই ফলে একসঙ্গে তিন চার জায়গা ঘটছে অগ্নি সংযোগ। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অন্যত্র। তাই আগুন নেভানোর কাজ ক্রমশ কঠিন তর হয়ে উঠেছে। যে কজন আহত হয়েছেন উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, এখনো অনেকে নিঁখোজ। তাঁদের সন্ধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। মাওয়াইতে মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স ত্রাণশিবির গড়ে উঠেছে সেখানেই আশ্রয় পেয়েছেন বিপন্নরা। প্রচুর স্বেচ্ছাসেবীর তাঁদের সাহায্য করছেন।
উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, এখনো পর্যন্ত দ্বীপগুলোর ৩ শতাংশই খুঁজে দেখতে পেরেছেন। তাই কতজন যে সাহায্যের আশায় তাঁদের অপেক্ষা করছে তা জানা কোনো মতেই সম্ভব নয়। বিপর্যয় মোকাবিলাকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা যে হোর্স পাইপ ব্যবহার করেছেন তা থেকে বেরনো জলের বেগ আগুনের তুলনায় খুবই কম। সে কারণে কোনোমতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে। আর আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে চারদিকে একটা ধোঁয়ার আবরণ তৈরি হয়েছে। তাই আশেপাশে তাঁরা কিছুই দেখতে পারছেন। এইসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে তাঁদের কাজ করে যেতে হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের এখন মাওয়াইততে আসতে বারণ করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলো এখন প্রায় খালি হয়ে গেছে। মাওয়াইএর করুণ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল থেকেও আসছে সাহায্যের আশ্বাস । আমেরিকার প্রখ্যাত ধনকুবের জেফ বেঁজো ও তাঁর সঙ্গী লরেন স্যাঞ্চেজ ১০ কোটি টাকা অর্থসাহায্য করার ঘোষণা করেছেন। সঙ্গীতশিল্পী ওপ্রা উইনফ্রেও আর্ত মানুষদের তোশক, বিছানা ও অন্যান্য নিত্যপ্রইয়োজণীয় জিনিস সরবরাহ করেছেন। সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ চাইছেন দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দ ফিরুক হাওয়াউই।
❤ Support Us





