Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৩, ২০২৩

তীব্র দহনে জ্বলছে উত্তর ভারত। পশ্চিমবঙ্গের সাত জেলায় বইবে তাপপ্রবাহ, সতর্ক থাকার বার্তা নবান্নর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তীব্র দহনে জ্বলছে উত্তর ভারত। পশ্চিমবঙ্গের সাত জেলায় বইবে তাপপ্রবাহ, সতর্ক থাকার বার্তা নবান্নর

রোদ নয়, যেন গনগনে আগুনের আঁচে ঝলসে যাচ্ছে চোখ-মুখ। দিনের বেলায় বাইরে বের হলেই গরম হাওয়ার ঝলকানিতে রীতিমতো হাসফাঁস অবস্থা। ঘাম তাপমাত্রা সহনশীলতার বাইরে। আবহাওয়া দফতর অবশ্য এখন কোনো আশার খবর শোনাতে পারছে না। উপরন্তু, জেলায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, অস্বস্তিকর অবস্থা আগামীদিনেও চলবে। তীব্র গরমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কলকাতা সহ হাওড়া,হুগলি, দুই ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। বুধবার আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিনও এ প্রবণতা বজায় থাকবে। সে সঙ্গে আবহবিদরা জানাচ্ছেন,দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে।  কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এসব জেলায়। আগামী ১৭ এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত পর্যন্ত তযার মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রীতিমতো লু বইতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা।। এসময় উষ্ণতা স্বাভাবিকের থেকে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার যা অবস্থা তাতে বাঙালির নববর্ষ উদযাপন তীব্র দহন জ্বালার মধ্যে দিয়েই কাটবার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গরম মোকাবিলায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাচ্চারা সাধারনত গরমে বেশি কাহিল হয়ে পড়ে। তাই এবছর গরমের ছুটি এগিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা দফতর। মে নাসের চতুর্থ সপ্তাহে ছুটি পড়ার কথা ছিল কিন্তু ২ মে থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলো। তবে, তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জেলা স্তরে মালদহ ও পূর্ব বর্ধমানে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সকাল সাড়ে ছটা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টাপর্যন্ত পঠন-পাঠন চালু থাকবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এছাড়াও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তীব্র গরম মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের  কথা বলা হয়েছে । যেমন–নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিমাণ মতো জল খাওয়া, যতটা সম্ভব হাল্কা রঙের ও ঢিলে ঢালা আরামদায়ক পোশাকের পরা, বাইরে বেরোলে রোদ থেকে বাঁচতে  ছাতার ব্যবহার, তেল মশলা যুক্ত খাবার যত কম খাওয়া, শশা-তরমুজ জাতীয় জলযুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খেতে হবে, লেবুযুক্ত পানীয়, কিংবা সরবত পান করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা উত্তর ভারতেই পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগের। ইণ্ডিয়ান মেট্রোলোজিকাল ডিপার্টমেণ্ট জানিয়েছে, শীঘ্রই দেশের তাপমাত্রা দিল্লি,উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশায় তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে পৌঁছে যাবে। ইতিমধ্যে ওড়িশায় তাপবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গরম থেকে স্কুল পড়ুয়াদের বাঁচাতে সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, আশার কথা যে, দক্ষিণ গুজরাত, কোঙ্কন ও গোয়া, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং অরুণাচল প্রদেশে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কেরলের দক্ষিণাঞ্চলেও হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আবহবিদরা দায়ী করেছেন বঙ্গোসাগরে কোনো উচ্চচাপযুক্ত বলয় না থাকাকে। সাধারণত বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়া এত শুষ্ক প্রকৃতির হওয়ার অন্যতম কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্প না থাকা। জলীয় বাষ্প না থাকলে বৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। আর জলীয় বাষ্প আসতে পারে বঙ্গোপাসাগরে তৈরি হওয়া উচ্চচাপ বলয় থেকে,। কিন্তু দুর্বল নিম্নচাপ বলয়ের কারণে তা সম্ভব নয়। আর একটি কারণ অবশ্যই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। যে কারণে পশ্চিমবাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডে তাপপ্রবাহের কোনো বিরাম নেই।

পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন,  নগরায়ন ও উন্নয়নের অজুহাতে গাছপালা কেটে দেওয়া উত্তরোত্তর উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে গগনচুম্বী অট্টালিকার কারণে গরম হাওয়া বাইরে যেতে বাধা পায়। তাই তা একজায়গায় আটকে থেকে উষ্ণতা আরো বাড়িয়ে তোলে। শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয় তৈরি করার জন্য গরম বাতাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন। কিন্তু শহরের ঘিঞ্ঝি পরিবেশের জন্য তা হয় না। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়ি নির্মাণে চুন, সুড়কি ও  ধাতব জিনিসের ব্যবহার । ধাতু তাপের সুপরিবাহী । তাই অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় জিনিস ব্যবহার করলে তাপমাত্রা আরো বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে। কলকাতার  বর্তমানে হিটল্যণ্ডে যে পরিণত  হয়েছে তার অন্যতম কারণ এই  অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাছ কাটা  ও নগরোন্নয়নের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!