Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ২৭, ২০২৬

তুমুল হট্টগোলের মাঝে লোকসভায় পেশ প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল, কটাক্ষ কংগ্রেসের। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগ ঘিরে তীক্ষ্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তুমুল হট্টগোলের মাঝে লোকসভায় পেশ প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল, কটাক্ষ কংগ্রেসের। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগ ঘিরে তীক্ষ্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্র আন্দোলন এবং ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভে সপ্তাহখানেক ধরে অচল সংসদ।  এ আবহেই সোমবার লোকসভায় পেশ হয়েছে ‘প্রশ্নফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল’। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে আনা এই সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে সংসদের ভিতরে যেমন বিক্ষোভ, তেমনই বাইরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত। কেন্দ্রের দাবি, সরকারি পরীক্ষাকে প্রশ্নফাঁস চক্রের হাত থেকে বাঁচাতে কঠোর আইন প্রয়োজন। বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, প্রকৃত দায় এড়িয়ে সরকার এখন ‘লোকদেখানো’ আইন এনে রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভে দফায় দফায় লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষই মুলতুবি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। প্রস্তাবিত আইনে সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে বর্তমান তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে পাঁচ থেকে দশ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্র, পরীক্ষা মাফিয়া এবং বেআইনি পরীক্ষা ব্যবসার বিরুদ্ধে এ আইন কার্যকর অস্ত্র হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পরীক্ষা-ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরদিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিলটির অনুমোদন দেয়। এদিন, বিল পেশের মুহূর্তে সংসদের পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস, ছাত্রদের উপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, যন্তর মন্তরের ঘটনায় জবাবদিহি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে বিরোধীরা স্লোগান দিতে থাকেন। বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই বিলটি পেশ হয়। বিল পেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভার অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেন।

কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার আইন কঠোর করার কথা বললেও প্রকৃত সমস্যার মূল কারণ— পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ— সে বিষয়ে কেন্দ্র সরকার নীরব। কংগ্রেসের একাধিক নেতা এই সংশোধনী বিলকে ‘লোকদেখানো উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা রাজনৈতিক বার্তা দিলেও, পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে তা যথেষ্ট নয়। এ ইস্যুতেই সোমবার সংসদ ভবনে ঢোকার আগে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। অথচ এখনো পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, খবরটি তিনি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি।

প্রিয়ঙ্কার এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করার সময় জানিয়েছিল, কেন্দ্র তাদের তিনটি মূল দাবি মেনে নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনোরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা মামলা করা হবে না। ‘সিজেপি’-র মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছিলেন, কেন্দ্র এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সে আশ্বাস বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। সংসদ ভবনের বাইরে সোমবার সকাল থেকেই কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে মকর দ্বারের সামনে জড়ো হন বহু সাংসদ। পরে সেখানে যোগ দেন রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতারা। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। স্লোগানে উঠে আসে ‘ভোটচুরি’, ‘প্রশ্নপত্র চুরি’ এবং ছাত্রদের উপর ‘রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের’ অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং পেলেট গানের ব্যবহার গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি দাবি করেন।

এরই মধ্যে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আরও তীব্র আক্রমণ শানান। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিহারে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে AK-47 থেকে গুলি চালানো হয়েছে এবং দিল্লিতে ছাত্রদের উপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। রাহুলের এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, পুলিশের AK-47 ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর শামিল। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধীর দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোরতম আইন আনছে, উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় সংসদে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া হলে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে আলোচনা না হলে আর কোথায় হবে?’

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই লোকসভায় প্রথমে অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হট্টগোলের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের স্লোগানের মধ্যেই জিতেন্দ্র সিং সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। এরপরই আবার দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভা মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। রাজ্যসভাতেও একই ছবি দেখা যায়। কংগ্রেস সভাপতি তথা বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পেলেট গানের ব্যবহার এবং যন্তর মন্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা দাবি করলেও চেয়ারম্যান তা নাকচ করেন। তার জেরেই রাজ্যসভাও বারবার মুলতুবি হয়। এ দিনের বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল জন্তর মন্তরের আন্দোলনে ‘র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান কর্মসূচির দিন র‍্যাফের এক জওয়ান মোট সাত রাউন্ড পেলেট গুলি চালিয়েছিলেন। তার মধ্যে পাঁচটি গুলি আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগে। ‘সিআরপিএফ’-এর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ‘সিআরপিএফ’ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। এদিকে বিহারের সিওয়ানে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিচালনার ঘটনাতেও নতুন মোড় এসেছে। পুলিশের গুলিচালনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর এক পুলিশ আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে, কার গুলিতে আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তদন্তে জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীদের একাংশ নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করলে তিনি পাল্টা পেলেট গান ব্যবহার করেন। ওই ঘটনায় অন্তত তিন জন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ বছরের ছাত্র সাহিল লোচাব, ২৫ বছরের ইরশাদ শেখ এবং একটি ইংরেজি পত্রিকার ২৮ বছর বয়সি সাংবাদিক। সাহিলের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এ ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে দিল্লিতে কেন পেলেট গানের মতো অস্ত্র ব্যবহার করা হলো! বিরোধীদের অভিযোগ, এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অপ্রয়োজনীয়। অন্য দিকে, ‘সিআরপিএফ’-এর ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিং জানিয়েছেন, বাহিনী সম্পূর্ণ ঘটনাটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সঙ্গে কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।এর আগে প্রকাশিত আর একটি প্রতিবেদনে র‍্যাফের আইজি সীমা ধুন্ধিয়ার অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সে তথ্যও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সদর দফতরকে জানানো হয়নি। বৈঠকে আইজি নির্দেশ দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে র‍্যাফের কোনও সদস্য পেলেট গান বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।

এ সমস্ত ঘটনার মধ্যেই সোমবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানপ্রদত্ত। কেবলমাত্র কোথাও আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে না। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, যদি পুলিশের বাড়াবাড়ির অভিযোগ ওঠে, তা হলে তার স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সারা দেশে বিক্ষোভ মোকাবিলার জন্য অভিন্ন প্রোটোকল তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেয় শীর্ষ আদালত। শুনানিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনের সময় বহু পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। সে বিষয়েও সুপ্রিম কোর্ট সমান গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, পুলিশ হোক বা ছাত্র— যে কোনো ব্যক্তির উপর আঘাতই সমান উদ্বেগের বিষয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে কি না। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারও শুনানি চলবে।

এ দিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের অভিঘাত শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নেই। কলকাতার ধর্মতলায় গত শুক্রবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। সোমবার সকালে পার্ক সার্কাসের কড়েয়া এলাকা থেকে ওয়াকার আজম এবং গার্ডেনরিচ সংলগ্ন নাদিয়াল এলাকা থেকে জাভেদ আখতার নামে আরও দু-জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  অভিযোগ, ধর্মতলার বিক্ষোভে ভাঙচুর ও অশান্তির সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েক জনকে সোমবার ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে। তাঁদের খালি পায়ে ধর্মতলার রাস্তা দিয়ে হাঁটানো হয়। পরে নতুন দুই ধৃতকে আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ তাঁদের হেফাজতের আবেদন জানাবে। রাজ্য সরকারের দাবি, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের ঢুকিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাবি করেন, অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা ছাত্র নন, সিজেপি-র সদস্যও নন এবং নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’র নামও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। এই মামলায় সদ্য কার্যকর হওয়া রাজ্যের গুন্ডাদমন আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ‘গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে’।

শুক্রবারের ধর্মতলা মিছিলের ডাক দিয়েছিল ‘এসএফআই’-সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। পাশাপাশি সিজেপিও পৃথক জমায়েতের ডাক দিয়েছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের হেনস্থা, তাঁদের লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়া এবং পুলিশের উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা রুজু হয়েছে। সে সব মামলার তদন্তেই এখনও চলছে ধরপাকড়। সব মিলিয়ে, একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কেন্দ্রের কঠোর আইন আনার উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন, পুলিশি পদক্ষেপ, আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক সংঘাত— এই চারটি স্রোত মিলেই সোমবারের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল পরীক্ষা ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!