Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৭, ২০২৫

ফুটওভার ব্রিজে মেজরের হাতে নতুন প্রাণের জন্ম, অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ঝাঁসি স্টেশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফুটওভার ব্রিজে মেজরের হাতে নতুন প্রাণের জন্ম, অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ঝাঁসি স্টেশন

ঝাঁসি রেলস্টেশনের চিরচেনা ব্যস্ততা—লাউডস্পিকারে ঘোষণার গলা, চা-ওয়ালার হাঁক, ট্রেন ধরতে আসা যাত্রীদের দৌড়াদৌড়ি—তার মাঝেই আচমকা যেন সময় থমকে গেল। বিকেলের ছায়া যখন ধীরে ধীরে ঘনাচ্ছে, তখনই স্টেশনের ফুটওভার ব্রিজে ঘটল অভূতপূর্ব ঘটনা। যন্ত্রণায় কাতর এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন এক সেনা চিকিৎসক। তিনি তখন ছুটিতে, সাধারণ পোশাকে, কিন্তু দায়িত্ববোধে অটুট সৈনিক। শিশুর কান্না মিলিয়ে গেল রেলের হুইসেলে, আর ঝাঁসি স্টেশন হয়ে উঠল এক অনন্য মানবিকতার সাক্ষী।

৩১ বছর বয়সি মেজর রোহিত বাচওয়ালা, ঝাঁসির মিলিটারি হাসপাতালের চিকিৎসক, এদিন হায়দরাবাদগামী ট্রেন ধরতে স্টেশনে এসেছিলেন। একা, আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রীর মতোই। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তিনিই হয়ে উঠলেন এক গর্ভবতীর শেষ ভরসা। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো পনভেল-গোরখপুর এক্সপ্রেসে ওই মহিলা হঠাৎ প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও সন্তান। আতঙ্কিত স্বামী ‘রেল মদত’ অ্যাপের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থার আগেই এগিয়ে আসেন মেজর রোহিত। তিনি কান পেতে বুঝতে পারেন কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটছে। নিজের ট্রেনের চিন্তা ভুলে ছুটে যান ফুটওভার ব্রিজের দিকে। সেখানে তখন এক অস্থায়ী ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে প্রসূতিকে। না কোনো হাসপাতাল, না চিকিৎসা সরঞ্জাম, না জীবাণুমুক্ত পরিবেশ। তবু সেনা চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ ও মনোবল তাঁকে এক মুহূর্ত দ্বিধাগ্রস্থ করেনি। চটজলদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ৪ জন সাহসিনী রেলকর্মী—লিলি কুশওয়াহা, রাখি কুশওয়াহা, জ্যোতিকা সাহু ও কবিতা আগরওয়াল । পকেট ছুরি, হেয়ার ক্লিপ আর ধুতি দিয় তৈরি অস্থায়ী পর্দার আড়ালে সেই নারী পেলেন নিরাপদ প্রসবের স্বস্তি। জন্ম নিল কন্যাসন্তান। আর জন্ম নিল এক নতুন দৃষ্টান্ত। ঘণ্টাখানেক পরে, মা ও কন্যাসন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাম্বুল্যান্সে। চিকিৎসকেরা জানান, মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ।

এ ঘটনার সাক্ষী থাকা সাধারণ যাত্রীরা হতবাক, আবেগে ভাসা। কেউ মোবাইলে ভিডিও করলেন, কেউ চোখ মুছলেন নীরবে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল সেই মানবিক মুহূর্তের চিত্র। দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড়— ‘দেশের সৈনিক কখনো ছুটিতে থাকেন না’, ‘এই হল আসল হিরো’—ভরে উঠল মন্তব্যের ঘর। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য, সিনেম্যাটিক, তবে এ তো কল্পনা নয়— চরম বাস্তব। আর এই বাস্তব আমাদের প্রশ্ন তোলে, আমাদেরও আয়নায় মুখ দেখায়। উঠে আসে একাধিক প্রশ্নও। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব, স্টেশনে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি, ট্রেনযাত্রায় নিরাপত্তা—এসব গুরুতর প্রশ্ন নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা।

তবু সমস্ত বিতর্কের উপরে রয়ে গেল নির্ভীক সিদ্ধান্ত। কোনো স্বীকৃতি নয়, কোনো সাংবাদিক সম্মেলন নয়—মা ও নবজাতকের হাসপাতালে পৌঁছনোর পর, চুপচাপ নিজের গন্তব্যে যাত্রা শুরু করলেন মেজর রোহিত বাচওয়ালা। আমরা যখন ‘বীরত্ব’ শব্দটি উচ্চারণ করি, তখন প্রায়শই আমাদের কল্পনায় আসে যুদ্ধক্ষেত্র, অস্ত্র, জয়-পরাজয়ের গল্প। কিন্তু বীরত্ব শুধু রণাঙ্গনে প্রকাশ পায় না। ফুটওভার ব্রিজের মাঝেও, যেখানে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এক প্রসূতি, সেখানে এক সৈনিকের পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা আর সাহসিকতা মিলিয়ে উঠে আসতে পারে বীরত্বের অন্য সংজ্ঞা ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!