Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

সংসদের বাজেট অধিবেশনে ফের অচলাবস্থা ! পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পথে বিরোধী শিবির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংসদের বাজেট অধিবেশনে ফের অচলাবস্থা ! পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পথে বিরোধী শিবির

সংসদের চলতি অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্রতর হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে টানা অচলাবস্থাবাক্‌যুদ্ধ ও অধিবেশন মুলতবির আবহে এ বার লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পথে হাঁটতে চলেছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, শাসক দলের প্রতি প্রকট পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ে সংসদে বিরোধীদের কথা বলার অধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে হওয়া বিরোধী দলগুলির বৈঠকে এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, তৃণমূল সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দল অধিকাংশ বিরোধী দলই এ প্রস্তাবের পক্ষে। সংসদের বিধি অনুযায়ীস্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন।

এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক দিন ধরে চলা লাগাতার সংঘাত। সোমবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অধিবেশন শুরু হতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী সাংসদরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলতে শুরু করেন। স্পিকার ওম বিড়লা জানানএ বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় বাজেটের আলোচনার সময় তোলা যেতে পারে। কিন্তু বিরোধীদের একাংশ তাতে রাজি না হওয়ায় সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী সাংসদদের দাবি ছিলবিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আগে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এ দাবিকে ঘিরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্পিকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করার’ অভিযোগ তোলেন এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করে দেন। স্পিকার বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর পর্বে শুধু প্রশ্ন তোলাই নিয়ম। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে জিরো আওয়ার বা বাজেট আলোচনার সময় করা যেতে পারে। সংসদ পরিকল্পিত ভাবে গোলমাল করার জায়গা নয়।’ পরে সরকারি সূত্রে জানানো হয়সংসদের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর উপর শারীরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে না আসার পরামর্শ দেন বলে দাবি করা হয়। এমনকীবিরোধী দলের কয়েক জন মহিলা সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হওয়াকেও সে পরিকল্পনার’ অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

পুরের পর আবার অধিবেশন শুরু হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। বিকেল ২টায় সংসদ বসলে চেয়ারে থাকা সন্ধ্যা রায় কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে বাজেট বিতর্ক শুরু করতে বলেন। থারুর তখন জানানতাঁর বক্তৃতা শুরুর আগে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীকে কিছু বিষয় উত্থাপনের সুযোগ দেওয়া উচিত। উত্তরে ওম বিড়লা জানান, রাহুল গান্ধী বাজেট নিয়ে কথা বলতে চাইলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু রাহুল গান্ধীর বক্তব্যস্পিকার ও বিরোধী সাংসদদের মধ্যে একটি বৈঠকে বাজেট আলোচনার আগে তাঁকে কিছু বিষয় তুলতে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। স্পিকার সে সমঝোতা মানছে না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রায় জানানএমন কোনো সমঝোতার কথা তাঁর জানা নেই এবং নোটিস ছাড়া কাউকে কোনো বিষয় তুলতে দেওয়া সম্ভব নয়। এ সময় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু হস্তক্ষেপ করে বলেনএমন কোনো চুক্তি হয়নি। তিনি আরও বলেনস্পিকার সম্পর্কে কিছু বলতে হলে স্পিকারকেও সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত দিনের মতো সংসদ মুলতবি করে দেওয়া হয়।

সংসদ ভবন চত্বরে পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল বলেন, ‘সংসদে বিরোধীদের জন্য কোনো জায়গা নেই। গোটা অধিবেশন জুড়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কিছুই বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারপক্ষ যা খুশি বলতে পারেকাউকে আক্রমণ করতে পারেএমনকি মৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কটূক্তি করতে পারে। অথচ স্পিকার কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলছেন।’ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে কি নাএ প্রশ্নে তিনি কৌশলী জবাব দিয়ে বলেন, ‘অ্যাকশন দেখলেই সব বোঝা যাবে।’

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চলায় ৮ জন কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। এর কয়েক দিন পরেই স্পিকার অভিযোগ করেনরাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনার সময় কিছু কংগ্রেস সাংসদ প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিত কাজ’ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ‘নির্দিষ্ট তথ্যের’ ভিত্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে না আসার অনুরোধ করেছিলেন। এ অভিযোগকে চরম মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর অভিযোগপ্রধানমন্ত্রী স্পিকারের আড়ালে লুকোচ্ছেন। পরে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেনস্পিকারের উপর সরকারের প্রবল চাপ রয়েছে বলেই তাঁকে এমন বক্তব্য দিতে হচ্ছে। অন্য দিকে, এক সময়ে এনডিএ সঙ্গী অকালি দল সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদল বলেন, ‘গত ১৮ বছরে সংসদকে এমন ভাবে চলতে দেখিনি। যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কথা বলতেই না দেওয়া হয়তা হলে সংসদ চালানোর অর্থই বা কী?’ বিজেপি অবশ্য এই অচল পরিস্থিতির জন্য বিরোধীদেরই কাঠগড়ায় তুলছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর অভিযোগকংগ্রেস সাংসদদের আচরণ স্পিকারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তাঁরাই সংসদ অচল করতে চাইছেন। সব মিলিয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও গভীর হতে চলেছেতা স্পষ্ট। বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব সংসদীয় রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, এ উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথাকে কেন্দ্র করে। ওই বইয়ে ২০২০ সালের ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্পর্কে যে মন্তব্য রয়েছেতা নিয়ে সংসদে কথা বলতে বা উদ্ধৃতি দিতে চান রাহুল গান্ধী। কিন্তু স্পিকার সেই অনুমতি দেননি। অথচ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে অতীতে একাধিক বার সংসদে বিভিন্ন বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করেছেনতখন তাঁকে বাধা দেওয়া হয়নি— এই দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। এসবের প্রতিবাদে বিরোধীরা অধিবেশন বয়কট করেছে।  


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!