Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২২, ২০২৫

ইন্দোরে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী ‘‌হিঙ্গোট যুদ্ধ’ চলাকালীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত ৩৫ জন

ইন্দোরে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী ‘‌হিঙ্গোট যুদ্ধ’ চলাকালীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত ৩৫ জন

দীপাবলির পর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ঐতিহ্যবাহী ‘‌হিঙ্গোট যুদ্ধ’ চলাকালীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত ৩৫ জন। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের শরীরের বেশ কিছুটা অংশ আগুনে পুড়ে গেছে।
ইন্দোর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে গৌতমপুরায় দীপাবলির দ্বিতীয় দিনে বছরের পর বছর ধরে হিঙ্গোট যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ মঙ্গলবারও পালিত হয়। গৌতমপুরার তুরা দল এবং রুঞ্জির কালাঙ্গি দল এই যুদ্ধে মুখোমুখি হয়। সেনাবাহিনীকে বলা হয় কালগি এবং তুরা। দেবনারায়ণ মন্দিরের কাছে প্রায় ২০০ ফুট দূরে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে, হাতে ঢাল এবং কাঁধে হিঙ্গোটের থলি ঝুলিয়ে, যোদ্ধারা বাঁশের লাঠি জ্বালিয়ে এবং তাদের প্রতিপক্ষের দিকে জ্বলন্ত গোলা নিক্ষেপ করে।
প্রতি বছরের মতো হাজার হাজার মানুষ তুরা এবং কালাঙ্গি দলের মধ্যে তীব্র লড়াই দেখার জন্য এবং দুই পক্ষের যোদ্ধাদের উৎসাহিত করার জন্য আশেপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। ভিড় সামলানোর জন্য প্রশাসন দমকল বাহিনী, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ মোতায়েন করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতার জন্য হিঙ্গোটের আগুন এদিক–ওদিক ছড়িয়ে পড়ে। এই লড়াইয়ে ৩৫ জন আহত হন। অধিকাংশকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ইন্দোরের একটা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত সময়ের আধ ঘন্টা আগেই যুদ্ধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতি বছর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন এবং দর্শক আহত হন। ২০১৭ সালে একজন যুবক প্রাণ হারিয়েছিলেন। ফলে অনুষ্ঠানটি নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে দাখিল করা এক আবেদনে এই ঐতিহ্যের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনে এই লড়াইকে অমানবিক এবং জীবনের হুমকি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু গ্রামবাসীরা ঐতিহ্য এবং সাহসিকতার শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক হিসেবে এই প্রথাকে সমর্থন করে চলেছে।
জনশ্রুতি অনুসারে, হিঙ্গোট যুদ্ধের সূত্রপাত মুঘল যুগে। যখন মারাঠা সৈন্যরা গেরিলা যুদ্ধের সময় বারুদ ভর্তি ফাঁপা হিঙ্গোট ফল অস্থায়ী গ্রেনেড হিসেবে ব্যবহার করত। হিঙ্গোট একটা বুনো ফল, যার বাইরের খোসা শক্ত। শুকিয়ে গেলে এই ফলের ভেতর থেকে আঁশ বার করে তেতরে বারুদ ভর্তি করে এবং হলুদ কাদামাটি দিয়ে সিল করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রটি একটা ধর্মীয় নৈবেদ্যতে রূপান্তরিত হয়, যা যুদ্ধকে সাহসিকতার উৎসবে রূপান্তরিত করে। গৌতমপুরা এবং আশেপাশের গ্রামের অনেক যুবকের কাছে হিঙ্গোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ গর্বের বিষয় এবং নির্ভীকতা ও বিশ্বাসের প্রদর্শন। যদিও এই লড়াইয়ে চরম ঝুঁকিও রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!