- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৬, ২০২৫
নৈহাটির ভোটার তালিকায় নাম, ইমরানের স্ত্রীর ! পাক যোগ নিয়ে অর্জুনের তীর
বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। ‘এসআইআর’ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এরই মধ্যে নতুন বিস্ফোরণ! নৈহাটির ভোটার তালিকায় নাকি জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তানি নাগরিক ! অভিযোগ, করাচির বাসিন্দা সালেয়া খাতুন বাংলায় বাস করছেন, হয়েছেন ভোটারও। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রশাসনের দিকেও। অভিযোগকারী, ব্যারাকপুরের সাংসদ, বিজেপি নেতা অর্জুন সিং।
অর্জুনের দাবি, ‘অভিক্সুক্ত মহিলা করাচির বাসিন্দা। পাকিস্তানি নাগরিকত্বের সব নথি হাতে আছে। ওঁর মেয়েরও পাকিস্তানের পাসপোর্ট রয়েছে। অথচ এ রাজ্যে এসে তাঁরা থেকে গিয়েছেন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে। এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ অর্জুন সিংয়ের আরো অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসনিক শিথিলতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা লাগাতার ঘটছে। বিজেপি নেতার দাবি, ‘আমি নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে সব নথি পাঠিয়ে দিয়েছি। অবিলম্বে ওঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে পুশব্যাক করা উচিত। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন অবহেলা চলতে পারে না।’
নৈহাটি বিধানসভার অন্তর্গত এ টি ঘোষ লেনের বাসিন্দা সালেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। সূত্রের খবর, সালেয়ার পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে রিনিউ হয়নি ভিসা। ফলে তিনি কার্যত অবৈধ ভাবে রাজ্যে বসবাস করছেন। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে বলেন, ‘ভোটার কার্ড দেয় নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি তাদের অধীনেই পড়ে। ওনারা দেখুক, কীভাবে নাম উঠেছে। এটা ঠিক, সালেয়া পাকিস্তানের বাসিন্দা। ওঁর স্বামী কর্মসূত্রে দুবাইয়ে ছিলেন। ২৮ বছর আগে বিয়ের সূত্রে তিনি এই রাজ্যে আসেন। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম কীভাবে উঠল, সেটা দেখা উচিত কেন্দ্রীয় কমিশনের।’
বিধায়কের এই মন্তব্যে নতুন মোড় নিয়েছে বিষয়টি। কারণ, তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন সালেয়ার পাকিস্তানি নাগরিকত্বের বিষয়টি। অন্য দিকে, সালেয়ার স্বামী মহম্মদ ইমরান জানিয়েছেন, ‘আমার স্ত্রী ১৯৯১ সালে করাচি থেকে এখানে এসেছেন। ২০০৮ সালের আগেই ভোটার তালিকায় নাম উঠেছিল। তারপর থেকেই ভোট দিচ্ছেন।’ ক্যামেরার সামনে স্ত্রীকে আনতে রাজি না হলেও ইমরান পাকিস্তানি নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে পরিবারের দাবি, প্রশাসন মানবিকতার খাতিরে সালেয়াকে বৈধ পাসপোর্ট দিক। তাদের বক্তব্য, ‘ওঁর বয়স এখন অনেক। এ দেশেই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের বডড়ো সময়। এখন নাগরিকত্বের অনুমতি না পেলে তিনি কোথায় যাবেন?’
রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দলের ‘অবহেলা ও গাফিলতির’ কারণেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে রাজ্যে ঢুকে পড়ছেন বিদেশিরা। বিপরীতে তৃণমূলের বক্তব্য, ‘ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি নেতারা সেটা জানেন না নাকি?’ এদিকে, বিরোধীরা মনে করছেন, আগামী ভোটের আগে এ ঘটনা নতুন করে জ্বালিয়ে তুলবে রাজনৈতিক উত্তাপ। কারণ, কয়েক বছর আগেই ভুয়ো পাসপোর্ট-কাণ্ডে আজাদ মল্লিক নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে উঠেছিল অনুরূপ অভিযোগ। ইডির জেরায় তিনিও নিজের পাক-যোগ স্বীকার করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বহু বাংলাদেশি নাগরিগের অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস ও নকল পরিচয়পত্র দিয়ে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
❤ Support Us







