- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ১০, ২০২৫
দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহত করল ভারত। পাল্টা জবাবে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের ঘাঁটি
পাকিস্তানের ধারাবাহিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের আক্রমণের কড়া জবাব দিল ভারত। শনিবার গভীর রাতে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে। পাকিস্তানের রাফিকি, মুরিদ, চাকলালা ও রহিম ইয়ার খান-এর বিমানঘাঁটি ছাড়াও সুক্কুর, চুনিয়া, পাশরুরের রাডার সাইট এবং সিয়ালকোটের বিমান ঘাঁটি টার্গেট করে চালানো হয় অত্যন্ত নিখুঁত বায়ুসেনার হামলা।
শনিবার সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত জানালেন পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্রী, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি, এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। ভারতের পশ্চিম সীমান্ত বরাবর পাকিস্তান লাগাতার উসকানি দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ড্রোন, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়ে বেসামরিক এলাকা আর সামরিক স্থাপনায় হামলা করছে তারা। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি বলেন, ‘পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সীমান্তে জমায়েত করছে, ভারতীয় সেনাঘাঁটি আর অন্যান্য বেসামরিক অঞ্চলে হামলা চালানো চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হবার সম্ভাবনার দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। জোরদার নজরদারি চালানো হচ্ছে। আমরা উত্তেজনা বাড়াতে চাই না, যদি পাকিস্তান শান্তির পথে না হাঁটে, আমরা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দিতে সর্বদা সজাগ রয়েছি।’
Special briefing on Operation Sindoor (May 10, 2025)
https://t.co/JjpAdt9HsD— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) May 10, 2025
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা জানান, ‘ভারতীয় সেনা বাহিনী সমস্ত হুমকি ভেস্তে দিয়েছে, দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বেশিরভাগ হামলার পথ বা ভেক্টর আমরা সফলভাবে নষ্ট করতে পেরেছি। তবুও উধমপুর, পাঠানকোট, আদমপুর ও ভুজের কিছু এয়ার স্টেশনে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু সামরিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে, কয়েকজন সেনা জওয়ান আহত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন,’হাসপাতাল, স্কুল চত্বরে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ। জবাবে আমরা শুধুমাত্র চিহ্নিত সামরিক ঘাঁটিতে নির্ভুল ও নিয়ন্ত্রিত আঘাত হেনেছি। আমাদের যুদ্ধ-বিমানের মাধ্যমে টেকনিক্যাল অবকাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রাডার আর অস্ত্রাগারে হামলা চালানো হয়েছে।’ পাকিস্তানের ‘অপপ্রচার’-এর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান উইং কমান্ডার সিং। তিনি চলেন, ‘পাকিস্তান দাবি করেছে যে আদমপুরে ভারতের এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সুরতগড় ও সিরসা এয়ারফিল্ড, নাগরোটার ব্রহ্মোস ঘাঁটি এবং চণ্ডীগড়ের গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস হয়েছে—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি টাইমস্ট্যাম্প-সহ ছবি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, দিল্লিকে লক্ষ্য করে ছোড়া পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ফাতেহ-টু প্রতিহত করল ভারত। হরিয়ানার সিরসায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল হস্তক্ষেপে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয় এই মিসাইল। এই ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত উপমহাদেশের মাটি। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস, শোরকোটের রফিকি ঘাঁটি আর চাকওয়ালের মুরিদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ভারত। অত্যাধুনিক ড্রোন এবং এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতের ছোড়া ৬ টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি তারা মাঝপথে আটকাতে পেরেছে। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারতের একটি হামলায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মাঝরাতে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। স্থানীয়রা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে পড়েন।’
পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতের নাম ‘অপারেশন বুনইয়ান উল মারসুস’, অর্থ – ‘সিসা দিয়ে গড়া প্রাচীর’। পাকিস্তানের দাবি, ভারতের পাঠানকোট, উধমপুর আর পাঞ্জাবের বিয়াসে অবস্থিত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ওই দাবি উড়িয়ে জানিয়েছে, অধিকাংশ শত্রুপক্ষের ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত ঘেঁষা একাধিক রাজ্যে যেমন পঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীরে ব্ল্যাকআউট এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের ফাতেহ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ফাতেহ-১ ও ফাতেহ-২ মডেল। ফাতেহ-১-এর পাল্লা ১৪০ কিমি, ফাতেহ-২ সেখানে প্রায় ৪০০ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। শনিবার পাকিস্তানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল ফাতেহ-২। যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার হুঁশিয়ারি, ‘ভারতের লাগাতার উসকানির পর, আমাদের কাছে জবাব দেওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা ছিল না। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভারত তাতে রাজি নয়।’
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের বর্বর আক্রমণে ২৬ জন নিহত হন। এ ঘটনার পিছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিরা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই পড়শি দুদেশের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়েছে। যুদ্ধের আবহে, পরিস্থিতি শান্ত করতে জি-৭ দেশগুলি দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আবেদন জানিয়েছে। হস্তক্ষেপ করেছে আমেরিকাও। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে, লাগাতার অভিযান চালিয়ে ভারত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শুধু সীমান্ত প্রতিরক্ষা নয়, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট আক্রমণ চালিয়ে করে শত্রুর ঘাঁটি ধ্বংস করতেও প্রস্তুত তারা। একই সঙ্গে, বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য না করে, কেবলমাত্র সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের সংযম বজায় রাখার বার্তাকে আমল দিয়েছে নয়াদিল্লি।
❤ Support Us






