- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১০, ২০২৩
অধীরের করা মামলায়, পঞ্চায়েত নির্বাচনি হিংসায় বিএসএফের আইজি, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল আদালত
পঞ্চায়েত নির্বাচনে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরও করা নির্বাচনকে ভণ্ডুল করল? প্রহসনে পরিণত করা হল নির্বাচনকে, কার নির্দেশে? এসব করার সাহস কার হল? কার নির্দেশে হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সন্ত্রাসে পরিণত করা হল? যার ফলে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল, আহতরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না ? এই বিষয় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করার পর প্রধান বিচারপতির নির্দেশ শুনে আদালত থেকে বেরিয়ে এসে বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বললেন, “রাজ্যের শাসক যখন কিছুই শুনছে না। তখন আদালতের আজকের এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট, মনে হচ্ছে এখনও বিচার পাওয়ার জন্য আদালত আছে।”
সোমবার অধীর চৌধুরীর করা মামলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ‘হিংসা’র ঘটনায় বিএসএফের আইজি এবং রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট জমা দিতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট। হাই কোর্টের নির্দেশ, আহত ব্যক্তিদের ভাল চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির করা এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে আহতদের। প্রয়োজনে বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে রাজ্যকে। তা ছাড়াও নিহতদের শেষকৃত্যে রাজ্যকে সব রকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ময়নাতদন্তের ভিডিয়োগ্রাফি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাগুলি নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। রিপোর্ট আসার পরেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
সোমবার এই মামলায় আদালতে সওয়াল করতে উঠে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছে। খুন, মারধর, ব্যালট পেপার লুট করা হয়েছে। এ রাজ্যে গণতন্ত্রকে উপহাসে পরিণত করে তোলা হয়েছে।” অধীর রঞ্জন চৌধুরী আদালতে দাবি করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন চক্রান্ত করে এই নির্বাচনে বাহু শক্তির পরিচয় দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উনি (রাজীব) আমাদের দেশে পঞ্চায়েতরাজ শুরু করেছিলেন। স্থানীয় স্তরে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার সমাজের সর্বস্তর। এমন সময়ে একটুও দেরি না করে আদালতের দরজায় ছুটে এসেছি।”
সওয়াল করার পাশাপাশি আদালতে নিরপেক্ষ কোনও সংস্থাকে দিয়ে পঞ্চায়েতে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার দেওয়ার আর্জি জানান বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। আদালতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “ধর্মাবতার, নিরপেক্ষ কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। কেন আদালতের নির্দেশ মানা হল না, যার ফলে প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হল? প্রাক্তন কোনও বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত করা হোক।” এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “সিবিআইকে দিয়ে খুনের তদন্ত করা হোক। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে জানি না কোথায় থামবে। একশোরও বেশি আহতদের হাসপাতালে সঠিকভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ৮০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ অবজ্ঞা করা হয়েছে।”
প্রধান বিচারপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সওয়াল শোনার পর তাঁর উদ্দেশে বলেন, “আপনার আবেদন মতো আমরা তিনটি বিষয় খুঁজে পেয়েছি। হত্যার তদন্ত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদালতে অভিযোগ জানিয়ে অধীর বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষরা সঠিক চিকিৎসা। হাজার হাজার বুথে লুট হয়েছে। মাত্র ৬৯৬টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হয়েছে।” এর পরই রাজ্যের কৌঁসুলির উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “অভিযোগ করা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে সঠিক পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। কেন? কত কেস রেজিস্ট্রার হয়েছে, সেই তথ্য দিন।
প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, “পিটিশনে অনেক কিছু পরিষ্কার করে বলা নেই। কোথায় চিকিৎসা হচ্ছে না, নির্দিষ্ট করে তা মামলায় বলা নেই। অধীরের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার পিটিশনে অনেকগুলো জায়গায় অসম্পূর্ণ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া বাকি আবেদনগুলি আদালত অবমাননা মামলায় অন্য ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে।” পরে হাই কোর্টের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে অধীর জানান, তিনটি দাবি নিয়ে তিনি আদালতে এসেছিলেন। আদালত তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনেছে। আদালতের বক্তব্য শুনে মনে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরছে। এবার মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূমে হাকিমবাবু যে মেডিসিন দিয়ে এসেছেন তাতে দেখছেন না নির্বাচনে কত কাজ হয়েছে। দিল্লির বিজেপি বাংলার বিজেপিকে পাত্তা দেয় না। দেখছেন না কেমন অদৃশ্য সমঝোতা, দিদিকে পঞ্চায়েত ছেড়ে দিল।”
এদিন কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল এই মামলায় হাজির ছিলেন না। এই প্রসঙ্গে অধীর বলেন, “দেখছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অমিত শাহ কেমন চার দিচ্ছে। পঞ্চায়েত দিয়ে দিচ্ছে। আমি বলছি, দিদিমনি আপনি পঞ্চায়েত লুঠ করে জিতে গেছেন। খোকাবাবুকে কোলে বসিয়ে এবার কেক কাটুন।” এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শীর্ষ আদালতে রক্ষাকবচ না মেলায় অধীর বলেন, “খোকাবাবুর কোনও আঁচ লাগবে না। দেখলেন না দিদিভাই মোদিকে হিমসাগর আম পাঠিয়েছিল। মোদি কিসে ঠান্ডা থাকেন দিদিভাই জানেন। কেষ্টা ধরা পড়েছে, হাকিম ধরা পড়বেন, আসানসোলের একজন ধরা পড়বেন।
❤ Support Us






