- বি। দে । শ
- জুন ৮, ২০২৬
ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ভূমিকম্প! নিহত ৫, সুমামির সতর্কতা জারি
ফিলিপিন্সের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৮। দক্ষিণ ফিলিপিন্সের মিন্দানাওয়ের উপকূলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পন টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ এখনও চলছে।
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড)-এর মতে, ভূমিকম্পটি মিন্দানাওয়ের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে, যা তীব্র ভূকম্পন এবং সুনামি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে। জিএফজেড প্রথমে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৭.৩ থেকে বাড়িয়ে ৮.২ করলেও পরে এর মাত্রা ৭.৮ নির্ধারণ করে। ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো দ্রুত সুনামি সতর্কতা জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পিএইচআইভিওএলসিএস সতর্ক করেছে যে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্প ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলিতে শক্তিশালী আফটারশক তৈরি করতে পারে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, আফটারশকের মাত্রা ৬.১ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পিএইচআইভিওএলসিএস বলেছে, স্বাভাবিক জোয়ারের স্তর থেকে এক মিটারের বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হানতে পারে এবং তা বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে। প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপনিন্সের কিছু উপকূল বরাবর তিন মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশে এক মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ দেখা যেতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থাও দেশটির উত্তর–পূর্বের উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। তাইওয়ান, জাপান, গুয়াম, পাপুয়া নিউ গিনি এবং বেশ কয়েকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ অঞ্চলে ছোট আকারের ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ ফিলিপিন্সের উপকূলীয় শহরগুলিরর কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসিন্দাদের উপকূল থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহরের দুর্যোগ প্রধান আরলিন হোলেরো বলেছেন, উপকূলীয় গ্রামগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরেই জল নেমে গিয়েছিল, কিন্তু সমুদ্র এখনো পর্যন্ত অস্বাভাবিক আছে। হোলেরো আরও জানান যে, একটা সেতুতে ফাটল ধরেছে এবং বিশাল ক্রুশবিদ্ধ একটা উপাসনালয় ধসে পড়েছে।
এদিকে, আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেঞ্জি আনচেটা বলেছেন, পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান চলাকালে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি সংবাদমাদ্যমকে জানান, ‘আমরা এ পর্যন্ত যত ভূমিকম্প দেখেছি, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী। কম্পনের সময় কয়েকজন জ্ঞান হারিয়েছিলেন।’ ফিলিপিন্সেরনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অবিলম্বে সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মিন্দানাওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সকল স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করবেন না। পেছনে ফেলে আসা যে কোনো কিছুর চেয়ে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’ তিনি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মার্কোস আরও বলেন, ‘জাতীয় সরকার এগিয়ে আসছে এবং আমরা মিন্দানাওকে পেছনে ফেলে যাব না।’ তিনি ত্রাণ ও জরুরি কার্যক্রমের জন্য সম্পদ একত্রিত করা হচ্ছে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
❤ Support Us







