- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
ক্লিন্টনের বেলজিয়াম নারীসঙ্গ, এপস্টেইন কাণ্ডে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকেই কি ‘ঢাল’ করছেন ট্রাম্প?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে হাজার হাজার পাতার নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। সদ্য প্রকাশিত এই নথি ও ছবিতে বারংবার উঠে এসেছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের নাম। বিপরীতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি সেখানে প্রায় নেই বললেই চলে—যা ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলির মধ্যে একটিতে দেখা যাচ্ছে তরুণ বিল ক্লিন্টনকে একটি হট টাবে বিশ্রাম নিতে, যদিও ছবির একটি অংশ কালো আয়তাকার চিহ্ন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আরেকটি ছবিতে তাঁকে এক মহিলার সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা যায়—অনেকের ধারণা, ওই মহিলা এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রেমিকা গিসলেন ম্যাক্সওয়েল। আরও একটি ছবিতে ক্লিন্টনের সঙ্গে রয়েছেন কিংবদন্তি পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন এবং গায়িকা ডায়না রস।
এই সব নথি ও ছবিতে ট্রাম্পের প্রায় অনুপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অতীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নব্বইয়ের দশক ও নতুন সহস্রাব্দের শুরুর দিকে এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতার কথা সামনে এসেছিল। এমনকি, আগের কিছু নথিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ট্রাম্পকে দেখা যাওয়ার কথাও উঠে আসে। অথচ নতুন প্রকাশিত ফাইলে ট্রাম্পের কোনও ছবি নেই। শুধু একটি যোগাযোগের খাতায় তাঁর নাম পাওয়া গেছে, তাও সেই খাতার মালিকানা বা প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।
এই বৈপরীত্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শোনা যাচ্ছে। অনেকের মতে, নিজেকে বিতর্কের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে রাখতেই ট্রাম্প বিল ক্লিন্টনকে সামনে আনতে চাইছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাসখানেক আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে বিল ক্লিন্টনের সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন ট্রাম্প, এবং সেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা যায়।
এদিকে বিল ক্লিন্টন শিবির এই বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত কোনও এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়। তাঁর বক্তব্য, “ওঁরা চাইলে বিশ বছরেরও বেশি পুরনো ছবি প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি শুধু বিল ক্লিন্টনকে ঘিরে নয়। এখানে মূলত দুই ধরনের মানুষ আছেন—একদল এপস্টেইনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁর সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করেছিলেন, আরেক দল তারপরও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। আমরা প্রথম দলে। দ্বিতীয় দল যতই চেষ্টা করুক, এই বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।” নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত যে ট্রাম্পের দিকেই, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা—ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই চেষ্টা করুন না কেন, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি থেকে নিজের নাম পুরোপুরি আলাদা রাখা তাঁর পক্ষে সহজ হবে না। এই নতুন নথি প্রকাশ সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল।
❤ Support Us






