Advertisement
  • এই মুহূর্তে
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৩

নাগাল্যাণ্ড ও মেঘালয়ে ঝড়ো প্রচারে প্রধানমন্ত্রী। শানিত আক্রমণ কংগ্রেসকে। গেরুয়া হাওয়া বেপাত্তা। তৃণমূলের প্রবেশে মেঘালয়ে রাজনৈতিক সমীকরণে দিকবদলের ইঙ্গিত। প্রশ্ন উঠছে , তাহলে কি দেখা দেবে ত্রিশঙ্কু হকিকত ?

প্রকারান্তরে কংগ্রেসের সীমান্ত নীতি বিজেপিরও ক্ষমতা দখলের কৌশল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নাগাল্যাণ্ড ও মেঘালয়ে ঝড়ো প্রচারে প্রধানমন্ত্রী। শানিত আক্রমণ কংগ্রেসকে।  গেরুয়া হাওয়া বেপাত্তা। তৃণমূলের প্রবেশে  মেঘালয়ে  রাজনৈতিক সমীকরণে দিকবদলের ইঙ্গিত। প্রশ্ন উঠছে , তাহলে কি দেখা দেবে ত্রিশঙ্কু  হকিকত ?

চিত্রঃ এএনআই

নাগাল্যাণ্ডে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে  কংগ্রেসকে শানিত আক্রমণ করলেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  জনসভায়  তাঁর তীব্র কটাক্ষ,  পূর্বতন সরকার দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোকে এটিএমের মতো ব্যবহার করেছে। দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোকে ।  আজ  ভুগতে হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন দলকে।

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে  বলেছেন, উত্তর-পূর্বের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের  দৃষ্টিভঙ্গী বদলে গেছে। আগে যেভাবে পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি দিল্লি থেকে ডিমাপুর নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত, তার দিন শেষ। নাগাল্যাণ্ড ও  প্রতিবেশী অন্যান্য  রাজ্যে  দীর্ঘদিন কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা  ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বিকাশের  কোনো কাজ তারা করেনি। নাগাল্যাণ্ডে এখন  এনডিপির  সহযোগিতায় বিজেপি  ক্ষমতায় রয়েছে। আমরা উন্নয়নকে সর্বাধিক  অগ্রাধিকার  দিছি। শান্তি রক্ষায় নিরলস চেষ্টা করছি।   নির্বাচনে  জোটের জয় অবশ্যম্ভাবী। কারণ রাজ্যের উন্নয়নে তাঁদের  প্রয়াস  অক্লান্ত । নাগাল্যাণ্ডে বহু মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন। উত্তর-পূর্বকে  এটিএম রূপে ব্যবহারের অভিপ্রায় নেই । শান্তি, অগ্রগতি, উন্নতি এই তিন ‘মন্ত্র’ নিয়ে  নাগাল্যাণ্ডেও  বিকাশের কাজ  হচ্ছে ।  বিজেপির প্রতি মানুষের বিশ্বাস বাড়ছে।

নাগাল্যণ্ডের মতো মেঘালয়েও ক্ষমতা  দখল করতে  অদম্য প্রচার করছে  বিজেপি। আজ শিলং-এর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্মুখ  থেকে পুলিশ বাজার পর্যন্ত রোড শো করেন নরেন্দ্র মোদি। মেঘালয়েও প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় কংগ্রেসের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি।   শিলং-এর স্নায়ুকেন্দ্রে   ভিড়ঠাসা  জনসভা প্রধানমন্ত্রী  বললেন, ফ্যামিলি ফার্স্ট নয়, পিপলস ফার্স্ট সরকার চায় রাজ্য।


২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর -পূর্বের দুই রাজ্য মেঘালয় ও নাগাল্যাণ্ডে ভোট।   প্রচারে দু রাজ্যে একই দিনে সফর সারলেন তিনি। সকালে  নাগাল্যাণ্ডে , বিকেলে মেঘালয়ে।  দুই রাজ্যেই প্রচার সভায়  তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য  প্রধানত কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সীমান্ত ঘেঁষা রাজনীতি।
পুলিশ বাজারে  বিপুল সমানবেশকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে   কয়েকটি রাজনৈতিক দল  নিজেদের পরিবার ও ব্যক্তিবিশেষের উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।  রাজ্যের বিকাশ উপেক্ষিত । মেঘালয়ের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধিতে বিজেপি একমাত্র ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।

নরেন্দ্র মোদির ভাষণে উঠে এল  প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পবন খেরার সাম্প্রতিক যুক্তিহীন মন্তব্যের  প্রসঙ্গ–  ‘মোদি তেরি কবর খুদেগি।’ নাম না করে মোদিজি  বললেন, কিছু মানুষ ক্ষমতা হারানোর দুঃখে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে। দেশের মানুষ বলছেন, ‘মোদি তেরা কমল খিলেগা।’ দেশের জনকণ্ঠ বিরোধী কণ্ঠস্বরের পাশে নেই। নির্বাচনেই বিরোধীদের যোগ্য  জবাব দেবে  মানুষ। 

প্রসঙ্গত বলা দরকার, উত্তর-পূর্বের ইন্দো-তিব্বতি জনগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের  আলাদা ভাবে।  নিজের স্বতন্ত্র  রাজনৈতিক সত্ত্বাকে গুরুত্ব দেয়।  ব্রিটিশ আমলের আগে কখনো  ভারতীয় স্রোতের সঙ্গে একাত্মবোধ করেনি। ব্রিটিশরাই প্রথম ভারতের  বৃহত্তর মানচিত্রের সঙ্গে  এসব এলাকাকে জড়িয়ে নেয়। পশ্চিম সীমান্তও  একই কৌশল গ্রহণ করে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দিল্লি তার  রাজনৈতিক ক্ষমতা চাপিয়ে দিতে চাইলে প্রথমে  নাগাল্যাণ্ড, পরে মিজোরাম বিদ্রোহ ঘোষণা করে।  কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনে  সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়নি। বিভিন্ন রাজ্যকে কখনো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কিংবা প্রদেশের স্বীকৃতি দিয়ে অশান্তি ও সন্ত্রাসবাদকে রুখতে চেয়েছে। ব্রিটিশের  সীমান্ত নীতি গ্রহণ করলেও  তাতে পরিবর্তন এনেছে। সরাসরি কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়নি। বিজেপি নরেন্দ্র মোদির আমলে  বিজেপিও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার  নীতি চালু করে প্রতিটি রাজ্যে একই দলীয় মতবাদকে আঞ্চলিক রাজনীতির অভিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। এক সরকার, একদেশ, এক নীতি, এক ভাষা চালু করতে  কেন্দ্রীয় আধিপত্যকে প্রকারান্তরে  অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আঞ্চলিক আশা-আকাঙ্খা এখানে স্তম্ভিত।  বিদ্রোহ আর সন্ত্রাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিন রাজ্যে বিজেপির ভবিষ্যতের পথ কতটা নিরাপদ, কতটা মসৃণ বলা মুশকিল। আঁতাতের রাজনীতি ছাড়া এসব ভিন্ন  ভিন্ন, রাজ্যে ক্ষমতা দখল অসম্ভব। কেন্দ্রের ধর্মঘেঁষা রাজনীতি গৃহীত হবে না। খাদ্যাভ্যাস থেকে ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য সুরক্ষিত না হলে সাম্প্রদায়িকতা দুষ্ট রাজনীতি একসময় অচল আধুলির মতো থমকে যাবে।  বৈচিত্র্যের রাজনৈতিক মর্যাদা সমস্যার অন্যতম  সুরাহা হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে খিঁচুড়ি রাজনীতি, সুবিধাবাদী দলছুটদের রাজনীতি হোঁচট খেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর  কটাক্ষ   যতই আলঙ্কারিক  আর কংগ্রেস বিরোধী হোক না কেন, তলে তলে তাঁর দল শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর ব্যবহারিক রাজনীতির কৌশলের পথেই ছুটছে। আসন্ন নির্বাচনে এই কৌশলই আবার পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। কোথাও  কোনো দল একা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জোট বেঁধে লড়ছে। অতএব,  অনিশ্চিত লেজ ছুঁয়ে  ঝুলতে হবে বিজেপির মতো সর্বগ্রাসী দলকেও। মোদি ম্যাজিক   কার্যকর হবে না। মেঘালয়ে তৃণমূলের প্রবেশে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে।  গারো  পাহাড়  ও  সংলগ্ন  বঙ্গবাসী এলাকায় ঘাসফুলের উচ্ছ্বাস এবং  খাসি-জয়ন্তি ভূখন্ডে গেরুয়াকরণকে রুখে দিচ্ছে আঞ্চলিক রাজনীতি। সম্ভবত,ব্যাপক হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তৃণমূল জোটের অঙ্গীকারের রাজনীতি।    

 

উত্তর-পূর্বের ইন্দো-তিব্বতি জনগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের  আলাদা ভাবে।  নিজের স্বতন্ত্র  রাজনৈতিক সত্ত্বাকে গুরুত্ব দেয়।  ব্রিটিশ আমলের আগে কখনো  ভারতীয় স্রোতের সঙ্গে একাত্মবোধ করেনি। ব্রিটিশরাই প্রথম ভারতের  বৃহত্তর মানচিত্রের সঙ্গে  এসব এলাকাকে জড়িয়ে নেয়। পশ্চিম সীমান্তও  একই কৌশল গ্রহণ করে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দিল্লি তার  রাজনৈতিক ক্ষমতা চাপিয়ে দিতে চাইলে প্রথমে  নাগাল্যাণ্ড, পরে মিজোরাম বিদ্রোহ ঘোষণা করে।  কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনে  সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়নি। বিভিন্ন রাজ্যকে কখনো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কিংবা প্রদেশের স্বীকৃতি দিয়ে অশান্তি ও সন্ত্রাসবাদকে রুখতে চেয়েছে। ব্রিটিশের  সীমান্ত নীতি গ্রহণ করলেও  তাতে পরিবর্তন এনেছে। সরাসরি কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়নি। বিজেপি নরেন্দ্র মোদির আমলে  বিজেপিও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার  নীতি চালু করে প্রতিটি রাজ্যে একই দলীয় মতবাদকে আঞ্চলিক রাজনীতির অভিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। এক সরকার, একদেশ, এক নীতি, এক ভাষা চালু করতে  কেন্দ্রীয় আধিপত্যকে প্রকারান্তরে  অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আঞ্চলিক আশা-আকাঙ্খা এখানে স্তম্ভিত।  বিদ্রোহ আর সন্ত্রাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিন রাজ্যে বিজেপির ভবিষ্যতের পথ কতটা নিরাপদ, কতটা মসৃণ বলা মুশকিল। আঁতাতের রাজনীতি ছাড়া এসব ভিন্ন  ভিন্ন, রাজ্যে ক্ষমতা দখল অসম্ভব। কেন্দ্রের ধর্মঘেঁষা রাজনীতি গৃহীত হবে না। খাদ্যাভ্যাস থেকে ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য সুরক্ষিত না হলে সাম্প্রদায়িকতা দুষ্ট রাজনীতি একসময় অচল আধুলির মতো থমকে যাবে।  বৈচিত্র্যের রাজনৈতিক মর্যাদা সমস্যার অন্যতম  সুরাহা হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে খিঁচুড়ি রাজনীতি, সুবিধাবাদী দলছুটদের রাজনীতি হোঁচট খেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর  কটাক্ষ   যতই আলঙ্কারিক  আর কংগ্রেস বিরোধী হোক না কেন, তলে তলে তাঁর দল শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর ব্যবহারিক রাজনীতির কৌশলের পথেই ছুটছে। আসন্ন নির্বাচনে এই কৌশলই আবার পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। কোথাও  কোনো দল একা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জোট বেঁধে লড়ছে। অতএব,  অনিশ্চিত লেজ ছুঁয়ে  ঝুলতে হবে বিজেপির মতো সর্বগ্রাসী দলকেও। মোদি ম্যাজিক   কার্যকর হবে না। মেঘালয়ে তৃণমূলের প্রবেশে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে।  গারো  পাহাড়  ও  সংলগ্ন  বঙ্গবাসী এলাকায় ঘাসফুলের উচ্ছ্বাস এবং  খাসি-জয়ন্তি ভূখন্ডে গেরুয়াকরণকে রুখে দিচ্ছে আঞ্চলিক রাজনীতি। সম্ভবত,ব্যাপক হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তৃণমূল জোটের অঙ্গীকারের রাজনীতি।    


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!