Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৪, ২০২৫

২২ আগস্ট কলকাতা মেট্রোর নতুন ত্রিমুখী পথ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২২ আগস্ট কলকাতা মেট্রোর নতুন ত্রিমুখী পথ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

পুজোর আগেই কলকাতার যাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ঐতিহাসিক উপহার’। আগামী ২২ আগস্ট শহরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। থাকবেন দমদমে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে। পাশাপাশি উদ্বোধন করবেন কলকাতা মেট্রোর ৩টি নতুন রুট। এর মধ্যে রয়েছে বহুচর্চিত, গ্রিন লাইনের এসপ্লানেড–শিয়ালদহ, ইয়েলো লাইনের নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ (বিমানবন্দর) এবং অরেঞ্জ লাইনের বেলেঘাটা–হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি মোড়) করিডোর। রেল দফতর জানাচ্ছে, এই নতুন করিডোরগুলি চালু হলে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে এখনকার বিভক্ত লাইনগুলি। অর্থাৎ, গ্রিন লাইন ১ (সেক্টর ফাইভ–শিয়ালদহ) ও গ্রিন লাইন ২ (হাওড়া ময়দান–এসপ্লানেড) এবার যুক্ত হবে এসপ্লানেড–শিয়ালদহ স্ট্রেচ চালুর মাধ্যমে। অন্যদিকে, রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ ইয়েলো লাইনের সঙ্গে সংযোগ ঘটাবে।

এবার থেকে পাতালরেল ছুটবে শিয়ালদহ–এসপ্লানেড, নোয়াপাড়া–বিমানবন্দর এবং বেলেঘাটা–রুবি মোড় স্টেশনগুলোর মধ্যে। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর (গ্রিন লাইন) ১৬.৬ কিমি করিডোর এখন সম্পূর্ণরূপে যুক্ত হতে চলেছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী শুধু মেট্রো নয়, হাওড়া মেট্রো স্টেশনের সাবওয়ে-এরও উদ্বোধন করবেন। মেট্রো রেলের পাশাপাশি রাজ্যের রেল পরিকাঠামোতেও চলছে ব্যাপক উন্নয়ন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতর থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে রাজ্য রেল বাজেটে পেয়েছে ১৩,৯৫৫ কোটি টাকা। এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৮৩,৭৬৫ কোটি টাকার রেল প্রকল্প কাজ চলছে। ১০১টি স্টেশন বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৯টি বন্দে ভারত ও ২টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হয়েছে রাজ্যে। এরমধ্যে, কলকাতার পাতালপথে নতুন মেট্রো রুট যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বছর পেরোলেই রাজ্যে নির্বাচন। সময় যত এগোচ্ছে, কেন্দ্রের ততই আগ্রহ বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গমুখী কর্মসূচির দিকে। বিজেপি সূত্রে খবর, ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মোট ১০টি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বড়ো সভা করতে পারে বঙ্গ বিজেপি। তবে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম এই কলকাতা সফর। ২৯ মে আলিপুরদুয়ার এবং ১৮ জুলাই দুর্গাপুর সফরের পর এবার মোদির শহর কলকাতা ‘অভিযান’। দমদমে প্রশাসনিক কর্মসূচি ছাড়াও একটি বৃহৎ জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। সেখানে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে আক্রমণের সুযোগও নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ খবর, প্রথম জানান প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে বলেন, ‘এই উপহার শুধু কলকাতার জন্য নয়, গোটা বাংলার জন্য। দুর্গাপুজোর আগে এ যেন ঐতিহাসিক প্রাপ্তি।’

মেট্রোর কর্ম কর্তাদের দাবি, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শহরবাসীর আরও মসৃণ যাতায়াতের পথে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মেট্রো রেল। হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ যাত্রা হবে মাত্র ৩৫ মিনিটে। হাওড়া থেকে শিয়ালদহ যেতে লাগবে মাত্র ১২ মিনিট। পিক আওারে প্রতি ৮ মিনিটে ট্রেন, আর নন-পিক আওারে থাকবে ১০ মিনিটের ব্যবধান। সাড়ে ১৬ কিমির পূর্ব-পশ্চিম করিডোরটি দীর্ঘদিন ধরেই ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে চলছিল। এক দিকে হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্লানেড, অন্য দিকে সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ। মাঝে পড়ে থাকা ২.৫ কিমি দীর্ঘ এসপ্লানেড-শিয়ালদহ স্ট্রেচটি তৈরি হয়েছিল এপ্রিলের শেষেই, কিন্তু যাত্রী পরিষেবা চালুর জন্য অপেক্ষা ছিল কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির অনুমোদনের। অবশেষে তা এসে পৌঁছেছে, আর সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। পরিচ্ছন্নতা, সময়নিষ্ঠতা ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে কলকাতা মেট্রো এবার সমান তালে হাঁটবে দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো শহরের মেট্রোর সঙ্গে, দাবি রেল বোর্ড চেয়ারম্যান সতীশ কুমারের। ট্রেন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সিবিটিসি প্রযুক্তি, যা শীঘ্রই আপগ্রেড হতে চলেছে অটোমেটিক ট্রেন অপারেশনস সিস্টেমে। এতে গতি বাড়বে, ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়বে।

মেট্রো সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর মূল অনুষ্ঠান হবে ইয়েলো লাইনের যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে। যেহেতু সেটি মাটির উপরে অবস্থিত , ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে সুবিধাজনক। প্রাথমিকভাবে শিয়ালদহ ও বিমানবন্দর স্টেশন বিবেচনায় থাকলেও, ২টি স্টেশনই ভূগর্ভস্থ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে সেগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্য সম্ভাবনা, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৩টি রুটের উদ্বোধন করবেন। এরপর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাবেন দমদমে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে বউবাজারে মাটির নিচে জল চুঁইয়ে পড়া ও মাটি ধসের ঘটনায় মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছিল পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো প্রকল্প। তাতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কাজ থমকে যায় দীর্ঘদিন। পরে ধাপে ধাপে চালু হয় হাওড়া ময়দান–এসপ্লানেড এবং সেক্টর ফাইভ–শিয়ালদহ অংশ। অবশেষে এবার মেলবন্ধন ঘটছে দুই প্রান্তের। নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৭ কিমি দীর্ঘ ইয়েলো লাইনের অংশটি এই প্রথম যাত্রী পরিষেবার আওতায় আসছে। অরেঞ্জ লাইনের রুবি থেকে মেট্রোপলিটন পর্যন্ত ৪.৫ কিমির নতুন স্ট্রেচটিও প্রস্তুত। এই দুটি নতুন করিডোর নিয়ে শহরের দক্ষিণ ও উত্তরের বহু এলাকায় মেট্রোর সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!