- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৭, ২০২৬
পয়লা বৈশাখের আগে ফের বাংলার ভোটপ্রচারে নরেন্দ্র মোদি। ‘পরিযায়ী পাখি’, কটাক্ষ তৃণমূলের
বৈশাখের আগেই ভোটের উত্তাপে ফুটতে শুরু করেছে বাংলা। রাজ্যের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত ভোটপ্রচারে ঘাম ঝরাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। ইতিমধ্যেই একের পর জেলায়, সভার পর সভা করে, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিশানা শানিয়ে ভোটযুদ্ধের শঙ্খ ফুঁকে দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। পিছিয়ে নেই বিজেপিও। অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা, নিতীন নবীন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের নদীর রাজ্যে আনাগোনা বেড়েছে।
সে আবহেই ফের পশ্চিমবঙ্গে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ৯ এপ্রিল থেকেই শুরু হতে পারে তাঁর টানা নির্বাচনী সফর। শুধু তাই নয়, একদিনে সর্বোচ্চ ৩টি পর্যন্ত জনসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর সূচিতে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলায় প্রচারে ঝড় তুলতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সে কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতেই রাখা হচ্ছে মোদিকে। জানা যাচ্ছে, ৯ এপ্রিল বীরভূমের সিউড়িতে সভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়াতেও তাঁর জনসভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে হলদিয়ার সভাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ। এর মধ্যেই পয়লা বৈশাখের আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আরও একগুচ্ছ কর্মসূচি সাজিয়ে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
এরপর ১১ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পরপর তিনটি সভা করতে পারেন মোদী। ওই দিন রাতেই তাঁর শিলিগুড়িতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরের দিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল শিলিগুড়িতে একটি রোড-শো করার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ টানা ২ দিন বাংলার মাটিতেই নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির অন্দরে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হওয়া প্রচারের আবহকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাইছে দল।
গেরুয়া শিবিরের মতে, বিধানসভা ভোটের আবহে মোট ১৪ থেকে ১৫টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের সভা দিয়ে বাংলায় তাঁর প্রচারের সূচনা হয়েছে। ব্রিগেড ময়দানের সমাবেশের পর কোচবিহারের জনসভাতেও ‘ইতিবাচক সাড়া’ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি দলের। সেই সুরকে কাজে লাগিয়েই ভোটের লড়াইয়ে নামতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্তরে এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাখির চোখ’ করা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলছে। এ প্রচারে মোদীর পাশাপাশি ঝাঁপাতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডা, বর্তমান সভাপতি নবীন নিতীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি, যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, দেবেন্দ্র ফডণবীস, মোহনচরণ মাঝি, মানিক সাহা-সহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রচারে অংশ নিতে পারেন।
রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে থাকছেন দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য প্রমুখ। এমনকি রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজের নামও রয়েছে তারকা প্রচারকদের তালিকায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন ‘তারকা প্রচারক’-কে সামনে রেখে বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে গেরুয়া শিবির। এখনো একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে বিজেপির। সে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন জমা শেষ হলেই প্রকাশ করা হতে পারে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। ওই কর্মসূচিতে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির সম্ভাবনাও জোড়ালো। অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ঘনঘন সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা মন্তব্য করেছেন, ভোট এলেই বিজেপি নেতারা ‘পরিযায়ী পাখির মতো’ বাংলায় আসেন, আর ভোট মিটলেই রাজ্যকে বঞ্চনার মুখে ফেলে ফিরে যান। তাঁর দাবি, এই সফর মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বাংলার মানুষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, কোচবিহারের প্রথম জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন, সীমান্ত সুরক্ষা—একাধিক ইস্যু তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রশাসনিক মদতেই বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে রাজ্যের জনসংখ্যার কাঠামো বদলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বাস করছেন। নির্বাচনের পর সে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ‘ভয়ের বদলে ভরসা ফেরানো’র বার্তাও উঠে আসে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন সভাগুলিতেও সেই আক্রমণাত্মক সুরই বজায় রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
❤ Support Us







