Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৩, ২০২৩

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে “পেশাদারী সংস্থা”-র সাহায্য নিতে উদ্যোগী মোদি!

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে “পেশাদারী সংস্থা”-র সাহায্য নিতে উদ্যোগী মোদি!

“সব কা সাথ,  সব কা বিকাশ”, অর্থাৎ  সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবার জন্য উন্নয়ন, নরেন্দ্র মোদির এই স্লোগানে কী খোদ নরেন্দ্র মোদিরই বিশ্বাস, ভরসা কিছুইননেই? এনডিএ- সাংসদদের সঙ্গে বুধবারের বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি যা বলেছেন তাতে তো সেটাই মনে হচ্ছে! বৈঠকে এনডিএ শরিকদের নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনী  প্রচার নিয়ে আপনারা ভাবনেন না। আপনারা সমস্ত জনমুখী প্রকল্পের সুযোগ যাতে সবার কাছে পৌঁছে যায় সেই ব্যবস্থা করুন। প্রচারের জন্য কোনও পেশাদারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
২০২১ -এর বিধানসভা নির্বাচনে আইপ্যাকের মাধ্যমে প্রচার ও নির্বাচনী কৌশল পরিচালনা করে তৃণমূল যে সাফল্য পেয়েছে এবার কি তাহলে সেই পথেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি?

আমরা দেখেছি, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপি ১৮টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছিল। আগে কোনওদিন বাংলায় বিজেপির এতজন সাংসদ বা এত দৃঢ় সংগঠন সেই অর্থে ছিল না। তবে তারপরই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক-কে নিযুক্ত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এবার এনডিএ সাংসদদেরও ‘পেশাদার এজেন্সি’ ভাড়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আমরা জানি, এর আগে ২০১৪ সালে  আইপ্যাক সংস্থাই নরেন্দ্র মোদিকে দিল্লির মসনদ দখলে সাহায্য করেছিল। সেই সময় থেকেই ভারতে এই ধরনের রাজনৈতিক পরামর্শ দাতা পেশাদার সংস্থার উত্থান। সম্প্রতি কর্ণাটকেও এক পেশাদার ভোটকুশলীর সাহায্যে বিজেপিকে পরাস্ত করেছে কংগ্রেস। এই আবহে পেশাদার সংস্থার প্রয়োজনীয়তা ভালো মতোই অনুধাবন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তাহলে মোদির উন্নয়নের রথ কি স্তব্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই? না হলে কেন ভোটকৌশলীর সহায়তা নিতে চাইছেন সারাদেশে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

৩১ জুলাই থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  এনডিএ-র মোট ৪৩০ জন সাংসদকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে ১১ দিন ধরে একাধিক বৈঠক করবেন বলে স্থির করেছেন। বুধবার সেই বৈঠকে ছিল। এই বৈঠকে দক্ষিণ ভারতীয় এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই নরেন্দ্র মোদি এনডিএ সাংসদদের পরামর্শ দেন, বিরোধীদের প্রচারের সুর কাটতে পেশাদার সংস্থা ভাড়া করতে। তাছাড়া সরকারের নীতি প্রচারের কথাও  সাংসদদের বলেন নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে এবং প্রচার চালাতে কলসেন্টার খোলার পরামর্শও দেন নরেন্দ্র  মোদি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারের জন্য এই নতুন কর্মসূচিতে মাথা ঘামাতে মিষেধ করেন সাংসদদের। প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের বলেন, সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে সবার কাছে পৌঁছায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে সাংসদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের বলেছেন, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, মহিলা এবং যুবকদের জন্য সরকার যে সব প্রকল্প চালু করেছে, সেগুলির বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিতে।

২০২১ সালে বাংলায় ক্ষমতা ধরে রাখতে তৃণমূলও আইপ্যাকের ওপর নির্ভর  করেছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। আইপ্যাক-এর সাহায্যে বিভিন্ন ফোনের কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের হয়ে প্রচার ঝড় তুলেছিল আইপ্যাক। বিভিন্ন নেতাদের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে  ‘কন্টেন্ট’ তৈরি করে দিয়েছিল আইপ্যাক। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তৃণমূল নেতাদের প্রচারের রূপরেখা পর্যন্ত করে দিয়েছিল প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। এই আবহে মোদিও চাইছেন, তাঁর সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির প্রচারে যেন দিন-রাত এক করে দেন জোটের সাংসদরা। পাশাপাশি সরকারের সাফল্য ও আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেন কোনও পেশাদর ভোটকুশলী সংস্থা প্রচার করে। তাহলে কি নরেন্দ্র মোদির মুখ আর এবার লোকসভা নির্বাচনে কাজে লাগছে না?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!