Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ২৬, ২০২৬

ভোটকর্মীর সংকটে নির্বাচন কমিশন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কড়াকড়ি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটকর্মীর সংকটে নির্বাচন কমিশন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কড়াকড়ি

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন চার লক্ষাধিক ভোটকর্মী। এর পাশাপাশি রিজ়ার্ভ কর্মী এবং ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে দৈনন্দিন নির্বাচনী কাজ সামলাতে আরও অন্তত এক লক্ষ কর্মীর দরকার। অর্থাৎ মোট প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লক্ষ কর্মীর। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ফলে এত বিপুল সংখ্যক স্থায়ী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মী কোথা থেকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন।

সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষকদেরও ভোটের কাজে নিয়োগ করা হয়। তবে সম্ভাব্য কর্মী সংকটের কথা মাথায় রেখে কিছু জায়গায় অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, হুগলির আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৩৪ জন চিকিৎসকের নাম পাঠানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যদিও পরে সেই তালিকা বাতিল করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার কারণে চিকিৎসকদের ভোটের কাজে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কর্মীসংকট মেটাতে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। একইসঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কর্মীদের ভোটের কাজে টেনে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে এসএসসি কলকাতা হাইকোর্টে যায়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্ট ৩১ অগস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে বলেছে। কিন্তু সংস্থার মোট ৩৫ জন কর্মীর মধ্যে ২৪ জনকেই ভোটের কাজে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ফেরত না পেলে নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এসএসসি আরও দাবি করেছে, তারা একটি স্বশাসিত সংস্থা, তাই এভাবে কর্মী তুলে নেওয়া আইনসঙ্গত নয়।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) কঠোর নির্দেশ দিয়েছে—কোনও অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে ভোটের কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করায় পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, কেউ এই নির্দেশ ভাঙলে শো-কজ় থেকে শুরু করে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিইওদের ৩০ মার্চের মধ্যে মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে যে ভোটের কাজে নিযুক্ত সকল কর্মীই স্থায়ী সরকারি কর্মচারী। পাশাপাশি দু’টি পৃথক তালিকা তৈরি করতে হবে—একটিতে রাজ্য সরকারি এবং অন্যটিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নাম ও দায়িত্ব উল্লেখ করতে হবে। তালিকার শেষে ডিইওকে সার্টিফাই করতে হবে যে এঁদের কেউই অস্থায়ী নন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু জেলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদেরও ভোটের কাজে ডাকা হচ্ছে। অন্যদিকে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে কলেজের স্যাক্ট শিক্ষকদের দাবিও মেনে নিয়েছে কমিশন। ‘কুটাব’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুচন্দ্রা চৌধুরী জানিয়েছেন, স্যাক্টরা স্থায়ী কর্মী নন এবং তাঁরা ডিএ বা পেনশন পান না। তবুও তাঁদের বারবার ভোটের কাজে লাগানো হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়। আদালত তখনই স্যাক্টদের ভোটের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়, যার ভিত্তিতেই কমিশনের নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কঠোর নিয়মের মধ্যে থেকে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী কর্মী জোগাড় করাই এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!