- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১২, ২০২৫
অপসারণ প্রক্রিয়ার মুখে বিচারপতি যশবন্ত বর্মা! লোকসভায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল বিপুল নগদের স্তূপ। সে ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। তবে আগুন কেবল রাশি রাশি টাকার বাণ্ডিলে লাগেনি, আঁচ ধাক্কা দিয়েছিল বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস আর ভরসাতেও। কারণ, কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। মঙ্গলবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব গ্রহণ করল লোকসভা। গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। এদিন, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন— ‘অপসারণ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়া উচিত। ভারতের সংসদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এককাট্টা।’
মার্চের ১৪ তারিখ। দিল্লির অভিজাত এলাকায় বিচারপতি বর্মার বাসভবনে আগুন লাগে। দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে যে দৃশ্যের সম্মুখীন হন, তাতে হতবাক পুরো দেশ। পুড়ে যাওয়া বিশাল টাকার স্তূপ। কোথা থেকে এল এত নগদ? তার কোনো জবাব দিতে পারেননি বিচারপতি বর্মা। বরং অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে, ‘ষড়যন্ত্র’ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সে দাবি মানেননি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি। মার্চের ২২ তারিখ তিনি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে সেই কমিটির রিপোর্টে বিচারপতি বর্মাকে ‘আচরণগতভাবে দোষী’ বলে উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম আদালত তদন্ত রিপোর্ট ও তার ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপের বৈধতাও স্বীকার করে নিয়েছে।
মঙ্গলবার লোকসভায় বিতর্কিত বিচারপতির অভিশংসনের প্রস্তাব পেশ করেন একাধিক সাংসদ। মোট ১৪৬ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেন লোকসভার স্পিকার। একইসঙ্গে, ৩ সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করবার নির্দেশ দেন। কমিটিতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মণীন্দ্র মোহন শ্রীবাস্তব এবং কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বি ভি আচার্য। ওম বিড়লা বলেছেন, ‘তদন্ত কমিটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। তার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিচারপতি বর্মা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন করেছেন অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে। যদিও শীর্ষ আদালত সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ‘এক্সএক্সএক্স বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ নামে পেশ হওয়া ওই মামলায় বিচারপতিকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করে আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র ডাকপিয়ন হতে পারি না। বিচারব্যবস্থার প্রতি আমারও কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন যে, বিচারপতি যখন তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন, তখনই কেন প্রতিবাদ করেননি? দেরিতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার উদ্দেশ্য কী? প্রসঙ্গত, বিচারপতি যশবন্ত বর্মার কার্যভার ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নজর থাকবে লোকসভা গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টই ঠিক করে দেবে বিচারপতির ভবিষ্যৎ— অপসারণ, না এ যাত্রায় অব্যাহতি।
❤ Support Us








