Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • জুন ২৭, ২০২৪

ইন্দো-ব্রিটিশ প্রযোজনায় প্রথম বাংলা ছবি, বিষয় বঙ্কিমের ‘দেবী চৌধুরানী’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইন্দো-ব্রিটিশ প্রযোজনায় প্রথম বাংলা ছবি, বিষয় বঙ্কিমের ‘দেবী চৌধুরানী’

ভবানী পাঠক, যার নামে এক সময়ের বরেন্দ্র ভূমির মাটি কাঁপত। সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের অন্যতম নেতা পন্ডিত ভবানীচরণ পাঠক । দেশে তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্ব। মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারত সম্রাজ্ঞী হতে বাকি প্রায় একশো বছর। সে সময়ে কিছুটা রবিন হুডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এই ডাকাত সর্দার। কোম্পানির শাসন হলেও দেশে তখন অরাজক পরিস্থিতি। সদ্য শেষ হয়েছে পলাশির যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে লুঠ তরাজের সম্পদে কলকাতার অনেকেই তখন রীতিমতো ‘বাবু’ সেজে বসেছেন। তবে প্রান্তিক মানুষের দুঃখ দূর হয়নি। সে সময়ে আগমন তাঁর ও তাঁর অনুগামিনী ‘প্রফুল্ল’-র , যাকে ইতিহাস চেনে ‘দেবী চৌধুরানী’ নামে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রধান ক্ষেত্র ছিলো রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, কোচবিহার ও ময়মনসিংহের বিস্তৃতঅঞ্চল। তিনি সমগ্র উত্তরবঙ্গ কে মুঘল নবাব ও ইংরেজদের থেকে মুক্ত করেন। তিনি এই বিদ্রোহের অন্যতম নায়িকা দেবী চৌধুরানীর সক্রিয় সাহায্য ও সমর্থন লাভ করেন। ১৭৮৭ সালের মাঝামাঝি থেকে ভবানীচরণ পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর নামের পাশাপাশি উল্লেখ দেখা যায়। তাদের যৌথ আক্রমণে ময়মনসিংহ এবং বগুড়া জেলার একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় শাসন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ফলে ইংরেজ শাসকদের তরফ থেকে তাদের দু জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭৮৭ সালের জুন মাসে রংপুর জেলার গোবিন্দগঞ্জের কাছে পুনরায় তিনি ইংরেজদের সঙ্গে জলযুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সেই যুদ্ধে তিনি পরজিত ও নিহত হন। আহত ও বন্দী হয়েছিলো আরো ৫০ জন।

খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবী চৌধুরানী’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন শ্রাবন্তি চট্টোপাধ্যায় । তাঁর গুরু ভবানী পাঠকের চরিত্র সাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ভূমিকায় দেখা যাবে প্রসেঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়কে। মাথায় লাল পাগড়ি , কপালে রক্ত তিলকের ফোঁটা , গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, একগাল খোঁচা খোঁচা দাড়িতে তাঁর চেহারা বেশ কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। ছবির শুটিং শুরু হয়েছে বহুদিন। ছবির নির্দেশনা করছেন শুভ্রজিত মিত্র। তবে দেবী চৌধুরানী নিয়ে ছবি এই প্রথমবারই নয়। এর আগে বিশ্ববরেণ্য চিত্রপরিচালক সত্যজিত রায় এই ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলেন ।তাঁর পছন্দের তালিকায় প্রথমে ছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি । ফলে সে যাত্রা সত্যজিৎ রায়ের উদ্যোগ বাদ গেলেও ১৯৭৪ সালে দীনেন গুপ্তের পরিচালনায় ‘দেবী চৌধুরানী’র ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন সুচিত্রা সেন। ভবানী পাঠকের ভূমিকায় প্রসেঞ্জিত ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে আছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, অর্জুন চক্রবর্তী, কিঞ্জল নন্দ প্রমুখ।

তবে ২০২৪ সালের নব সংস্করণটি পুরনোটির থেকে অনেকাংশে আলাদা । শুধু নির্মাণ বা অ্যাকশনের ক্ষেত্রে নয়, এই প্রথম ইন্দো-যুক্তরাজ্য যৌথ প্রযোজনায় প্রযোজিত হবে একটি বাংলা ছবি , কলকাতা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই প্রথম। ফলে ভারত ও ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান সংঘটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। LOK আর্টস কালেকটিভ (ইন্ডিয়া/ইউকে) এর সৌম্যজিৎ মজুমদারের সঙ্গে এডিটেড মোশন পিকচার্স (ইউএসএ/ইন্ডিয়া) এর অপর্ণা এবং অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত যৌথ ভাবে এই ছবি প্রযোজনা করছেন। এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় আছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, এনএফডিসি (ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন), এফএফও (ফিল্ম ফ্যাসিলিটেশন অফিস), ইনভেস্ট ইন্ডিয়া, ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) ও ডিসিএমএস (সংস্কৃতি বিভাগ, মিডিয়া এবং ক্রীড়া) যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিবৃন্দ ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!