Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৩, ২০২৬

‘আহত, পরাজিত নই’— দলীয় পদ খোয়ানোর পর বিস্ফোরক রাঘব। ‘মোদি-ভীতি’-র পাল্টা তোপ আপ নেতৃত্বের  

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘আহত, পরাজিত নই’— দলীয় পদ খোয়ানোর পর বিস্ফোরক রাঘব। ‘মোদি-ভীতি’-র পাল্টা তোপ আপ নেতৃত্বের  

দলের অন্দরেই ‘চুপ’ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। তবু নীরবতা যে পরাজয়ের সমার্থক নয়, তা এদিন স্পষ্ট করে দিলেন রাঘব চাড্ডা। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির ডেপুটি লিডারের পদ থেকে অপসারণের একদিনের মাথায় শুক্রবার এমনই বিস্ফোরক বার্তা দিলেন তরুণ সাংসদ। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কথা বলার ‘অপরাধেই’ তাঁকে কার্যত থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভার সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে চাড্ডাকে ওই পদ থেকে সরানোর অনুরোধ জানায়। তাঁর জায়গায় পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তলকে প্রস্তাব করা হয়। শুধু পদচ্যুত করাই নয়, দলের কোটা থেকে চাড্ডাকে যাতে আর বক্তৃতার সুযোগ না দেওয়া হয়, সে আবেদনও করেছে কেজরীওয়ালের দল। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় চাড্ডার সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘মানুষের সমস্যা তুলে ধরা কি অপরাধ? সংসদে সাধারণ মানুষের কথা বললে কি দোষ?’ তাঁর অভিযোগ, দলই রাজ্যসভা সচিবালয়কে জানিয়েছে, তাঁকে যেন আর কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়। তবু সুর নরম করেননি তিনি। স্পষ্ট উচ্চারণ, ’আমাকে চুপ করানো হয়েছে, কিন্তু আমি হার মানিনি।’

চাড্ডার এই বার্তা সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা চরমে ওঠে। পাল্টা আক্রমণে নামেন আপ নেতা সৌরভ ভরতদ্বাজ। তিনিও ভিডিও বার্তায় চাড্ডার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, চাড্ডা ‘নরম’ বিষয় নিয়েই বেশি সরব, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুতে দলকে সমর্থন করতে দেখা যায় না তাঁকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর অসক্রিয়তা নিয়েও কটাক্ষ করেন ভরদ্বাজ। এতেই শেষ নয়। আবগারি নীতির মামলায় যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাপে, তখন চাড্ডার ‘অনুপস্থিতি’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভরদ্বাজের অভিযোগ, ‘দলের নেতারা যখন জেলে, আপনি তখন দেশেই নেই। কঠিন সময়ে সামনে না এসে দূরে থাকা কি দায়িত্বশীলতার পরিচয়?’ তাঁর দাবি, ‘বাস্তব’ রাজনৈতিক লড়াইয়ে সাহস দেখানোই আসল, শুধু ‘নরম’ ইস্যু তুলে ধরে জনসমর্থন আদায় সম্ভব নয়।

একই সুর আপ-এর জাতীয় মিডিয়া প্রধান অনুরাগ ঢান্ডার। তাঁর অভিযোগ, ‘গত কয়েক বছর ধরে রাঘব ভয় পাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কথা বলতে সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে তাঁর। দেশের আসল ইস্যুগুলো তুলতেও ভয় পান।’ ঢান্ডার সাফ বার্তা, আপ নির্ভীক লড়াইয়ের দল, যারা ভয় পায়, তারা দেশের জন্য লড়তে পারে না। সংসদে রাঘবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ঢান্ডার কটাক্ষ, ‘সংসদে আমরা খুব সীমিত সময় পাই। সেই সময় হয় দেশের জন্য লড়াই করা যায়, নয়তো বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে সিঙাড়ার দাম কমানোর মতো ‘নরম’ ইস্যু তোলা যায়।’ তাঁর অভিযোগ, গুজরাটে আপ কর্মীদের গ্রেফতারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাঘব সংসদে সরব হননি। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবেও নাকি সই করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

অন্য দিকে, নিজের অবস্থানে অনড় রাঘব তুলে ধরছেন সংসদে তাঁর সাম্প্রতিক সক্রিয়তার খতিয়ান। বিমানবন্দরে খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গিগ অর্থনীতির কর্মীদের অধিকার, শহুরে যানজট— এসব ‘অপ্রচলিত’ কিন্তু জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ইস্যুতে ধারাবাহিক ভাবে সরব ছিলেন তিনি। পদচ্যুতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর সেই সব বক্তব্যের একটি সংকলনও প্রকাশ করেন সমাজমাধ্যমে, যেখানে দল বা নেতৃত্বের উল্লেখ না থাকলেও ছিল এক প্রতীকী বার্তা, ‘নজর’ কাটানোর চিহ্ন।

দলের অন্দরে দ্বন্দ্বের আবহ নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে চাড্ডার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় যাঁকে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ঘনিষ্ঠতম সহযোগী হিসেবে দেখা হত, সেই রাঘবের এই প্রকাশ্য ‘বিদ্রোহ’ ঘিরে স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ‘ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশন’ আন্দোলনের দিনগুলো থেকে কেজরিওয়ালের পাশে থাকা এই তরুণ নেতা আপের উত্থানের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। জাতীয় মুখপাত্র থেকে কোষাধ্যক্ষ, দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০২০ সালে দিল্লির রাজিন্দর নগর থেকে জয়, তার পর ২০২২-এ পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় সব মিলিয়ে দ্রুত উত্থানের এক প্রতীক ছিলেন রাঘব। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লি ও পাঞ্জাবে দলের উত্থানের অন্যতম কারিগর এবং কনিষ্ঠতম সাংসদদের একজন হিসেবে যাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল, সেই রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে এই সরাসরি আক্রমণ স্পষ্টই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেজরিওয়ালের দলে তাঁর জায়গা ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। এখন দেখার, এই ‘নীরবতা’ ভাঙে কোন পথে, সমঝোতায়, সংঘাতে না কি দলবদলে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!