Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

আদিবাসী কুড়মি সমাজের রেল-সড়ক অবরোধ — বাতিল ট্রেন, পুরুলিয়ায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আদিবাসী কুড়মি সমাজের রেল-সড়ক অবরোধ — বাতিল ট্রেন, পুরুলিয়ায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে

কলকাতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পুজোর আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজ ‘রেল টেকা’ ও ‘ডহর ছেঁকা’ নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে। জাতিসত্তার স্বীকৃতির দাবিতে রাজ্যের পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১০০টি জায়গায় শনিবার থেকে অবরোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত বৃহিস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের অবরোধ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। সে অনুযায়ী রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মেনে পুরুলিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় প্রশাসন এবং রেল পুলিশ সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। পুরুলিয়ার কুস্তাউর, ঝালদা, কোটশিলা এবং জেলা সদর স্টেশনে শনিবার সকাল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। একইভাবে সড়কপথেও বড়ো ধরনের কোনো বাধার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ও সড়কে মোতায়েন রয়েছে রেল সুরক্ষা বাহিনী এবং জেলা পুলিশ। তবে রেল অবরোধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রেল একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে। বাতিল ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে হাতিয়া-বর্ধমান মেমু (১৩৫০৪), টাটানগর-গয়া-টাটানগর মেমু (৬৮০১৯/৬৮০২০) এবং টাটানগর-গয়া-টাটানগর (৬৮০০৩/৬৮০০৪)। অন্যদিকে আদ্রা-বোকারো স্টিল সিটি এক্সপ্রেস ঘুরপথে চালানো হচ্ছে এবং রাঁচি-দুমকা এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাঁচি-বারাণসী বন্দে ভারত, টাটানগর-পাটনা বন্দে ভারত, হাতিয়া-পূর্ণিয়া কোর্ট এক্সপ্রেস এবং আলাপ্পুজা-ধানবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অংশে রেল অবরোধ হলেও পুরুলিয়ায় দুপুর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। বান্দোয়ান-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত, বরাবাজার এবং কাটিন চকবাজার এলাকায় কড়া নাকা চেকিং চলছে। এসব এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।

আন্দোলনের মূল সংগঠক অজিত প্রসাদ মাহাতোকে শুক্রবার গভীর রাতে কোটশিলা থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো। তিনি জানান, তাঁর বাবা ছাড়াও অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে জেলার কোনো কোনো গোলযোগ হয়নি। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর। তিনি বলেন, অসাংবিধানিক কোনো কর্মসূচিকে অনুমতি দেওয়া হবে না। গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে আদালতের রায় মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শনিবার সকালেও কোটশিলা, জিউদারু, আড়শা সহ বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশের নজরদারি ছিল দৃশ্যমান। কিছু এলাকায় কুড়মি সমাজের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হলেও পরিস্থিতি বড়ো আকার নেয়নি। ট্রেন ও সড়কপথে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে পুরুলিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!