- দে । শ
- জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্যসভা নির্বাচন, প্রস্তুতি শুরু কমিশনের
বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ। চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ, আর তাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। ভোটপ্রচারে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির বাঘা বাঘা নেতাদের বাংলায় আনাগোনা বেড়েছে। পিছিয়ে নেই শাসক দল। এই মুহূর্তে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক জেলা সফর করে বিজেপি, কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি ইলেকশন কমিশন, ইডি সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর উপর তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছেন, জনসংযোগ করছেন, দলনেত্রী তুলে ধরছেন ‘উন্নয়নের পাঁচালি’; এমনই ঘটনাবহুল সময়ে বাংলায় রাজ্যসভার ভোট ঘিরে তৎপরতা শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সংবিধানগত বাধ্যবাধকতার কারণে ওই আসনগুলিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে কারণেই বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্যে রাজ্যসভার নির্বাচন করানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যাঁদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুব্রত বক্সী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌসম বেনজির নূর ও সাকেত গোখলে এবং সিপিআইএমের বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। নির্বাচন কমিশন সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা বাধ্যতামূলক। সে হিসেবে মার্চ মাসের মাঝামাঝির মধ্যেই রাজ্যসভার ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। ফলে, ‘এসআইআর’-এর মধ্যেই রাজ্যসভার নির্বাচন আয়োজনের বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের উপর। প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন, এসআইআর সংক্রান্ত কাজ এবং আসন্ন জনগণনা, বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির চাপের মধ্যেই এই অতিরিক্ত নির্বাচন পরিচালনা করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, একই সময়ে দেশের একাধিক রাজ্যেও রাজ্যসভার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশেও রাজ্যসভার আসন শূন্য হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব রাজ্যে একই দিনে ভোট না করিয়ে পৃথক পৃথক তারিখে রাজ্যসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাধারণত, রাজ্যসভার নির্বাচনে সাধারণত এক দিনেই দেশজুড়ে ভোট হয়। সে তুলনায় এ বার আলাদা তারিখে ভোট করানোর সিদ্ধান্ত ব্যতিক্রমী। রাজনৈতিক দিক থেকেও এ নির্বাচন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, বিধানসভায় বিধায়কদের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই রাজ্যসভার আসনে জয়ের সমীকরণ নির্ধারিত হয়। বর্তমান বিধানসভা সংখ্যার হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ৪টি আসন থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সিপিআইএমের পক্ষে এ বার আসন ধরে রাখা কার্যত অসম্ভব। বদলে, ওই একটি আসন বিজেপির দখলে যেতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। মৌসম নূর তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে তাঁর আসনে তৃণমূলকে নতুন প্রার্থী দিতে হবে, তা প্রায় নিশ্চিত। তবে বাকি ৩টি আসনে বর্তমান সাংসদদেরই ফের মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরমহলে আলোচনা চলছে।
অন্য দিকে বিজেপির অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কাকে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে। এখনো পর্যন্ত রাজ্য থেকে বিজেপির দুজন প্রতিনিধি রাজ্যসভায় রয়েছেন— অনন্ত মহারাজ ও শমীক ভট্টাচার্য। এ বার নতুন মুখ না কি পরিচিত নেতাকেই সামনে আনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে, এসআইআর পর্বের মধ্যেই রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং তার পর বিধানসভা ভোট—এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যস্ততা আগামী কয়েক মাসে বাংলার রাজনীতিতে বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
❤ Support Us






