Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • নভেম্বর ১৩, ২০২৫

লাল কেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে জইশ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
লাল কেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে জইশ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, বিস্ফোরিত i20 গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ড. উমর মোহাম্মদ, যিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন। সূত্রের খবর, তাঁর ডিএনএ নমুনা তাঁর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ১০০ শতাংশ মিলেছে। গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়, দাঁত ও পোশাকের অংশের সঙ্গে এই মিল পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে, লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ট্রাফিক সিগন্যালের পাশে। ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। এই ঘটনার তদন্তভার বর্তমানে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র হাতে।

এর আগে উমরের মাকে পুলওয়ামা থেকে আটক করে ডিএনএ টেস্টের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “আমরা সন্দেহভাজনের মায়ের ডিএনএ সংগ্রহ করেছি যাতে তা বিস্ফোরণস্থল থেকে পাওয়া দেহাংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।”

বিস্ফোরণের রাতে উমরের মা ও দুই ভাইকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। একই দিন জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ফরিদাবাদের দুটি আবাসিক ভবন থেকে প্রায় ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হন ড. মুজাম্মিল শাকিল, যিনি তথাকথিত “সাদা কলার” সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। তিনিও আল ফালাহ মেডিকেল কলেজের কর্মী ছিলেন।

তাঁর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ড. আদিল রাথের, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দা, যিনি শ্রীনগরে জইশ-ই-মোহাম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে ধরা পড়েন।

সূত্রের দাবি, শাকিল ও রাথের গ্রেফতারের পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ড. উমর, এবং নিজেই রেড ফোর্টের কাছে বিস্ফোরণ ঘটান। তদন্তে শাকিল ও রাথের—দু’জনেরই নাম উঠে এসেছে এই বিস্ফোরণ-চক্রে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে উমর লাল কেল্লার কাছের একটি মসজিদে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সোমবার বিকেল ৩টা ১৯ মিনিট নাগাদ সুনেহরি মসজিদ পার্কিং লটে গাড়িটি রাখেন। এর আগে আসফ আলি রোডের একটি মসজিদে যান।

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগে কাশ্মীর ও হরিয়ানার দুই জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল দু’জনকে— একজন ইমাম, অন্যজন মওলানা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের সরাসরি যোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজনের দায়িত্ব ছিল তরুণদের মগজধোলাই করা, অন্যজন বিস্ফোরক মজুত রাখার জন্য ঘর ভাড়া দিয়েছিল।

অন্যদিকে কাশ্মীরের শোপিয়ানের নাদিগাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইমাম ইরফান আহমেদ ওয়াগেকে। তাঁর স্ত্রী ফাতিমার দাবি, “আমার স্বামী একজন ধার্মিক মানুষ।” স্থানীয়রা তাঁকে ‘মুফতি সাহেব’ নামে চিনত। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, তাঁর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর কোনও সম্পর্ক ছিল কি না।

ইরফানের স্ত্রী ফাতিমা ও তাঁর তিন বোন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। ইরফানের বড় বোন সাবি জান বলেন, “শনিবার শ্রীনগর থেকে ফিরে এককাপ চা খেয়ে নামাজ পড়তে গিয়েছিল ও। রাতে যখন সবাই ঘুমোচ্ছিল, তখনই পুলিশ এসে ওকে নিয়ে যায়।”

ইরফান সাত ভাইবোনের মধ্যে একজন। দাদুর কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষার সূচনা, পরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক শিক্ষাগ্রহণ করে। ২০২১ সালে ফাতিমাকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের একটি তিন বছরের সন্তান রয়েছে। ফাতিমা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণে ধৃত অন্যদের কাউকেই তাঁরা চেনেন না এবং এর আগে তাঁদের বাড়িতে কখনও পুলিশ আসেনি। পুলিশের হাতে ইরফানের ফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, হরিয়ানার ধৌজের বাসিন্দা মওলানা ইশতিয়াকের পরিবারও নজরবন্দি। তাঁর স্ত্রী মুখ খুলতে রাজি না হলেও ১৭ বছরের মেয়ে জানিয়েছে, বাবা ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত মসজিদের মওলানা হিসেবে কাজ করতেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিন চিকিৎসক—ড. মুজাম্মিল গণাই, ড. উমর মোহাম্মদ ও ড. শাহীন সাঈদ—কে দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইশতিয়াকের ফতেহপুর তাগা গ্রামের দাহার কলোনিতে একটি বাড়ি রয়েছে, যেখানে তিনি অভিযুক্ত ড. মুজাম্মিল গণাইকে একটি ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন। রবিবার ও সোমবার পুলিশ সেই ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ইশতিয়াকের সন্তানরা স্কুলে যায় না; তাদের বাড়িতেই পড়াতেন তিনি। প্রতি মাসের ৭ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন, পাশাপাশি গোরুর দুধ বিক্রি করে আরও ১০ হাজার টাকার আয় করতেন। তাঁদের সংসার চলত এই আয়েই।

উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁদের পরিবারের কোনও ফ্যামিলি ফটো ছিল না— একটি মাত্র ছবি ছিল, সেটিও তদন্তকারীরা নিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইশতিয়াকের মেয়ে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!