- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
- মে ২২, ২০২২
কৃষ্ণনগর ও বনগাঁয় নজরুল
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বনগাঁ ও কৃষ্ণনগরের সংযোগ ছিল গভীর ।
রেখাচিত্রে নজরুল
কাজী নজরুল ইসলামকে নানা চোখে মানুষ দেখেছেন, বিচার করেছেন, এখনও তেমনভাবেই বিচার করেন, দেখেন। কেউ বিদ্রোহী-কবি হিসাবেও দেখেন। সংগীতকারও ভাবেন কেউ কেউ । কিন্তু তাঁকে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে ভাবেন ক’জন বা তিনি সমাজকর্মীই বা নয় কেন? তিনি কবি পরিচযের পাশে এমনভাবে সমাজ নিয়ে ভেবেছেন, ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে ভাঙতে চেযেছেন, গরিব মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন নিয়ে বেবেছেন, যার কারমে তাঁকে অনায়াসেই একজন সমাজকর্মী বলাই যায়! তিনি রাজনৈতিক কর্মী বা সমাজকর্মীর মতো বাংলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরেছেন, কলম ধরেছেন। কখনো তিনি নির্বাচনের প্রচারক হয়েছেন। সেই কারণে কোনো রাজনৈতিক মহলকে তাঁকে ব্যবহার করতেও দেখা যায়। কৃষ্ণনগরে আশ্রয় নেওয়া ও বনগাঁয় দুবার আসার পিছনেও অনেকটা রাজনৈতিক সম্পর্কই কাজ করেছিল, বলেই মনে করা যায়।
তিনি কৃষ্ণনগর এসেছিলেন ১৯২৬ সালে, ম্যালেরিয়ার হাত থেকে উদ্ধার পেতে। দ্বিতীয় কারণ ছিল দেনার দায়ে তখন তিনি খুবই ভারাক্রান্ত। বনগাঁয় প্রথমবার এসেছিলেন যশোর-খুলনা থেকে ফেরার পথে ট্রেনে। বনগাঁয় কারোর বানইতে সেবার এসে রাত কাটিয়েছিলেন কিনা স্পষ্ট নয়। ১৯২৬ সালে কালিকলম-এর সম্পাদক মুরলীধর বসুকে লেখা নজরুলের এক চিঠিতে জানা যায়—‘খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, দৌলতপুর, বনগ্রাম প্রভৃতি ঘুরে ফিরলাম আজ ।’ দ্বিতীয়বার আসেন ১৯৪১ সালে, বনগাঁয় যখন ‘মীজান পার্ক’ উদ্ধোধন হয়। সেই সভায় বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক মীজান পার্কের উদ্ধোধন করতে এসেছিলেন। নজরুল ইসলাম উদ্ধোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। তখন তিনি ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদকও বটে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, দেশ স্বাধীন হলে ‘মীজান পার্ক’ তুলে দিয়ে স্থাপন করা হয় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল (ডাঃ জীবনরতন ধর মহকুমা হাসপাতাল)। নেতাজি ঘনিষ্ঠ শঙ্করেন্দ্রপ্রসাদ উকিলের ‘কুন্দিপুরের উকিল পরাবার’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, তিনি শঙ্করেন্দ্রপ্রসাদ উকিলের কাছে ১৯৩৯ সালে বনগ্রামে আসার খুবই আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
১৮৬২ সালে শিয়াসদা থেকে রানাঘাট রেললাইন পাতা সম্পূর্ণ হলে রেল চলাচল শুরু হয়। পরে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেলপথ সাম্প্রসারিত হয়। ১৮৮৪ সালে শিয়ালদা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেল চলাচল করে। বনগাঁ থেকে বরিশাল এক্সপ্রেস ও শিয়ালদা থেকে কুষ্ঠিয়া মেল চলাচল করত। ফলে বাংলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের মাধ্যম জলপথ ব্যতিরেকে রেল পথে যেতে গেলে রানাঘাট ও বনগাঁ হয়ে যেতেই হতো। বরিশাল, খুলনা, যশোর যেতে গেলেও বনগাঁ হয়েই যেতে হতো। ফলে নজরুল ইসলামের বনগাঁয় আসাটা অস্বাভাবিক ছিল না । নেতাজি ঘনিষ্ট নজরুল ইসলামকে আমরা কবি হিসাবেই দেখি। কিন্তু তিনি এক সময়ে শুধু কবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন না, রাজনৈতিক কর্মী হিসাবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। কখনও ব্রিটিশ বিরোধিতা, সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গান গাইতে মাঠে নেমেছেন। বক্তৃতাও করেছেন। কবিতায় তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বনগাঁ ও কৃষ্ণনগরের সংযোগ ছিল গভীর । কৃষ্ণনগরে তো তিনি জীবনে সংকটময় সময়ে কাটাতে বাধ্য হন। ১৯২৬ সালে ৩ জানুযারি হুগলি ছেড়ে কৃষ্ণনগরে এসে ওঠেন। ছিলেন ১৯২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। তাঁর কৃষ্ণনগরের আসার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। প্রথম কারণ, হুগলিতে থাকাকালীন তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিছুতেই সারাতে পারছিলেন না। দ্বিতীয় কারণ, তিনি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিছুতেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। নদিয়া জেলার সুখ্যাত অধ্যাপক, নেতাজি ঘনিষ্ঠ কৃষ্ণনগরের অধ্যাপক হেমন্তকুমার সরকারের চেষ্টায় তিনি এসে ওঠেন । ছিলেন ১৯২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। তাঁর কৃষ্ণনগরের আসার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। প্রথম কারণ, হুগলিতে থাকাকালীন তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিছুতেই সারাতে পারছিলেন না। দ্বিতীয়, কারণ, তিনি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কিছুতেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। নদিয়া জেলার সুখ্যাত অধ্যাপক, নেতাজি ঘনিষ্ঠ কৃষ্ণনগরের অধ্যাপক হেমন্তকুমার সরকারের চেষ্টায় তিনি এসে ওঠেন, গোলাপট্টির কাছে মদন সরকারের গলিতে, তাঁদেরই পুরোনো বাড়িতে। তাঁর বাবার নির্মিত বাড়িটি ছিল বেশ পুরোনো । অবশ্য হেমন্তকুমার সরকারের পরিবার পাশেই নতুন বাড়িতে কিছুদিন আগেই উঠে যান। হেমন্তকুমার সেই বাড়ির একটি ঘরে সপরিবারে নজরুল ইসলামকে থাকার ব্যবস্থা করেন। অসুস্থ নজরুল ইসলামকে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, ডাঃ জে, এন, দে। তিনি বিলেত থেকে ডাক্তারি পাশ করে কৃষ্ণনগরে প্র্যাকটিস করতেন। এই বাড়িতে বেশ কিছু দিন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর নজরুল চলে যান, ‘গ্রেস কটেজ’ -এ। বাড়িটি ছিল কৃষ্ণনগরে স্টেশনের কাছে। একতলা ঘরের চারিপাশে ছিল আমগাছ। বানিটির মালিক ছিলেন একজন খ্রিস্টান। পাশেই থাকতেন অধ্যাপক উমেশচন্দ্র দত্তগুপ্ত। এই সময়কালে জন্ম হয়েছিল কবির সন্তান বুলবুলের, ১৯২৬ সালের ৯ অক্টোবর। যার পুরো নাম ছিল অরিন্দম খালেদ। এখানে থাকার সময়েই যশোর, খুলনা, রাজসাহী জেলার বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে গিয়েছিলেন। বনগাঁতেও আসেন এই সময়ে।
নজরুল শুধু গান রচনা, সুর দিয়ে গান তৈরি করার মধ্যেই নিবিষ্ট ছিলেন না। তিনি রাজনৈতিক দলের প্রকূত ও নিষ্ঠ কর্মীর মতো পরিচয় দেন। রাজনৈতিক কর্মীরা যেমন সর্বদা দলের সাফল্য খুঁজতে সচেষ্ট থাকেন, দলীয় সমর্থন বাড়ানোর জন্যে মানুষকে বোঝাতে দিনরাত পরিশ্রম করে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন, নজরুলও তাই করতে থাকেন। নজরুল তখন প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ১৯২৬ সালে কৃষ্ণনগরে তিনটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলন, প্রাদেশিক যুব সম্মেলন ও প্রাদেশিক ছাত্র সম্মেলনে। তিনটিতেই তিনি অংশ নেন। প্রত্যেকটিতেই তিনি উদ্ধোধনী সংগীত গেয়েছিলেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে লিখেছিলেন ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটি । কবিতাটিতে সুর দিয়ে গেয়েছিলেন নজরুল। ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার/ লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার ।…’ সেই লিরিক কবিতার আবেদন ছিল এতই সুদূরপ্রসারী, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। দেশপ্রেমিক-সমাজকর্মীরও হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ১৯২৬ সালের ২২-২৩ মে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বীরেন শাসমলের সভাপতিত্বে। যদিও সেই সভায় প্রচণ্ড গণ্ডগোল হয়। সভা ছেড়ে চলে যান বীরেন্দ্র শাসমল। শেষ দিকে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। সম্মেলনের সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি সরোজিনী নাইডু উপস্থিত ছিলেন।
কদিন পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক যুব সম্মেলন উপলক্ষ্যে লেখেন সংগীত, চল চল চল/ ঊর্দ্ধ গগনে বাজে মাদল/ নিম্নে উতলা ধরণীতল/ অরুণ প্রাতের তরুণদল/ চলরে চলরে চল।’ গানটি গেয়েচিলেন তিনি। সভাপতিত্ব করেন উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
প্রাদেশিক ছাত্র সম্মেলন উপলক্ষ্যে লেখেন, ‘ছাত্রদলের গান।’ আমরা শক্তি আমরা বল/ আমরা ছাত্রদল।/ মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান/ ঊর্দ্ধে বিমান ঝড়-বাদল/ আমরা ছাত্রদল ।।// মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে/যাত্রা নাঙ্গা পায়,/ আমরা শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই / বিষম চলার ঘায়!/ যুগে-যুগে রক্তে মোদের/ সিক্ত হ’ল পূথ্বীতল ।/ আমরা ছাত্রদল।।’ এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সরোজিনী নাইডু। সেখানেও তিনি কবিতাটির সুর দিয়ে গান করেন। সম্মেলনে উপলক্ষ্যে কৃষ্ণনগর জুড়ে তিনি গঠন করেন ভলান্টিযার বাহিনী। গ্রেস কটেজে থাকার সময়ে লেখেন উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’। ১৯২৭ সালে কৃষ্ণনগর জুড়ে তিনি গঠন করেন ভলান্টিয়ার বাহিনী। গ্রেস কটেজে থাকার সময়ে লেখেন বঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক ধীবর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলন উপলক্ষ্যেও গান রচনা করেন। সম্মেলনে উপস্থিত থেকে উদ্ধোধনী সংগীত পরিবেশন করেন—‘আমরা নিচে পড়ে রইব না আর/ শোনরে ও ভাই জেলে / এবার উঠব রে সব ঠেলে/ আমরা আঁশবটিতে মাছ কাটি ভাই/ কাটব অসুর এলে।…’বনগাঁয় নজরুল, ১৯৪১
নজরুল ইসলামের সঙ্গে এ কে ফজলুল হকের সম্পর্ক হয় পত্রিকা প্রকাশ ঘিরে। ফজলুল হক পত্রিকা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে সভা ডাকেন, সেই সভায় সাপ্তাহিক ‘নবযুগ’ নামে পত্রিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়। সম্পাদনার দায়িত্ব পান নজরুল ইসলাম ও মুজফফর আহমেদ । এই পত্রিকায় নজরুল একাধিক নিবন্ধ লেখেন, যা ইংরেজদের কাছে থ্রেটের মতো। ইংরেজ প্রশাসন এই লেখার বিরুদ্ধে উজলুল হককে ডেকে সতর্ক করে। কিন্তু ফজলুল হক পিছিয়ে না এসে আরও তেড়েফুঁড়ে লেখার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত মতের মিল না হওয়ায় নজরুল ইসলাম ও মজফফর আহমেদ ‘নবযুগ’-এর সম্পাদনার কাজ থেকে সরে দাঁড়ান। ১৯৪১ সালে তখন বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বভার নিয়েছেন এ কে ফজলুল হক, তখন তিনি পুনরায় নবযুগ পত্রিকাটি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। পুরোনো পত্রিকা নবযুগটিই নতুন করে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। সাপ্তাহিক নয় এবার শুরু হয় ‘দৈনিক নবযুগ।’ সম্পাদনার দায়িত্ব পান নজরুল ইসলাম।ঠিক এই সময়ে দুটি ঘটনা সামনে আসে। এক—বনগাঁয় চতুর্থ বার্ষিক সাহিত্যসম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, এবং বনগাঁ শহরে একটি ‘ঈদগা ময়দান ও পার্ক’ উদ্ধোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হকের। ১৯৪০-৪১ বর্ষে বনগাঁ মহকুমার মহকুমা শাসক হয়ে আসেন মৌলবি মীজানুর রহমনা। তিনি বনগাঁ মহকুমায় মুসলমান জনসংখ্যা তুলনায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও বড়ো কোনো ময়দান ছিল না, যেখানে সমবেতভাবে নামাজ পড়া, সভা করা যায়। তিনি চাইছিলেন মুসলমান জনগণের জন্যে একটি লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হতে পারে, সঙ্গে বিশেষ সভা করারও ব্যবস্থা থাকে। কোর্টে এলে গ্রামের মানুষ কিছু সময় বিশ্রামও নিতে পারেন। মহকুমা শাসক মীজানুর রহমান স্থানীয় মুসলমান গাঁতিদার, ব্যবসায়ী, উকিলদের নিয়ে এক সভায় একটি ঈগদা ময়দান স্থাপনে স্থানীয়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চাঁপাবেড়িয়ার গাঁতিদার রব্বানি মণ্ডল, কাটু মল্লিক জমি দান করেন। অনেকে নগদ টাকা দিতে এগিয়ে আসেন। এই উদ্যোগে অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও সামিল হন। ইদগা ময়দান উদ্বোধনের ঠিক মুহূর্তে মহকুমা শাসক মীজানুর রহমান প্রয়াত হন। তখন স্থানীয় মানুষের ইচ্ছানুযায়ী ওই ঈদগার নামকরণ করা হয়—‘মীজান রহমান পার্ক। এই পার্ক উদ্বোধন করেন ১৯৪১ সালে ১৬ মার্চ অবিভক্ত বাংলার তখনকার প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক। আর সেই সভায় উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন কাজি নজরুল ইসলাম। তিনি দুটি গান গেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেছিলেন সেই সময়ে তবলায় ওস্তাদ নামে খ্যাত মধু ওস্তাদ। এই উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন—শার্সা থানার বাহাদুর পুরের তালুকদার মুন্সি হেরমৎ আলী, এম. এল.সি.সিরাজুল ইসলাম, গাঁতিদার বদিউজ্জমান সরকার, আলিকদর মণ্ডল, সুভাষচন্দ্রের সহযোগী মওলানা শওকত আলি, আইনজীবী হারেজউদ্দিন কাজী আব্দু ওয়াফি প্রমুখ। এই সভাকে ঘিরে বনগাঁয় শুধু নয়, মোটা বনগাঁ মহকুমায় ব্যাপক আলোড়ন পড়ে যায়। সেই সময়ে প্রজা কূষক পার্টির প্রবল প্রভাব ছিল। বনগাঁয় মুসলিম লিগ থাকলেও প্রজা কৃষক পার্টির সমর্থকরাও ছিল প্রচুর। এই সভার পরই ছিল কবি-লেখকদের সম্মেলন। বনগাঁ টাউন হল ও পাঠাগারে হয়েছিল এই সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন কেশবলাল দাস, মন্মথনাথ চট্টোপাধ্যায়, মহমম্দ ইসাহক, অজিত সেন, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্য সভাটি ছিল চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নজরুল ইসলাম। লেখক-কবিরা ছাড়াও বনগাঁর বহু সাহিত্যপ্রেমীরা সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন।’
♦–♦♦–♦♦–♦
❤ Support Us








