- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- জানুয়ারি ১১, ২০২৬
পদ্মপাতায় স্বপ্ন
চিত্রকর্ম : সালভাদোর দালি । শিরোনাম: স্লাইস অব লাভ ।
আজ শ্যুটিং ফ্লোরে আসা থেকেই ঈশানীকে কেমন অন্যমনস্ক লাগছে। যদিও ও জানে একবার যখন এই প্রফেশনে এসেছে, তখন নিজের ব্যক্তিগত আনন্দ, দুঃখ, ইমোশনগুলো ঝেড়ে ফেলে শ্যুটিং ফ্লোরে আসতে হয়। তবু আজ যেন কিছুতেই নিজেকে সামলে উঠতে পারছে না ও । জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে, যখন এলোমেলো হয়ে যাওয়া ভাবনা, তার গতিপথ চাইলেও মানুষ গুছিয়ে নিজের ছন্দে বেঁধে রাখতে পারে না।
‘হচ্ছে না হচ্ছে না, এই সিনটায় এরকম এক্সপ্রেশন দিলে চলবে না। কনসেনট্রেট করো ঈশানী।’
– হ্যাঁ শুভদীপ দা, স্যরি আর একবার সিনটা রিটেক্ করুন প্লিজ।
– শোনো ও যখন তোমাকে সিঁদুর পরাবে, মুখে হালকা হাসি ভাব এনে তুমি চোখটা বুজে ফেলবে। সিঁদুর দানের মতো একটা ইজি সিন কেন যে বারবার বোঝাতে হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। এনিওয়ে…
‘অ্যাকশন’
ঈশানীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয় অগ্নিভ।
‘কাট, কাট’
ঈশানী তখনও চোখ বুজে আছে। দু-চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ওর। কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছে না।
– কিছু কি হয়েছে ঈশানী। ঠিকাছে আজ এটুকুই থাক। তুমি ছুটি কাটিয়ে এসো, বাকি শ্যুটটা এইটিনথ্-এর পরে হবে। সাবধানে ঘুরে এসো।
ঘন সবুজ পাহাড়ের দিকে চেয়ে থাকলে নেশা ধরে, মনে হয় এই যে গাছেরা এঁকে অপরকে জড়িয়ে বেড়ে উঠেছে, কই তাদের তো একে অপরের সাথে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না, মানুষের হয়, মানুষ কত নির্দ্বিধায় তার ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে থাকতে পারে।
জীবন যেন পাহাড়ি পথের গোলকধাঁধার মতো। পথটা উপরের দিকে উঠতে উঠতে কখন যে বাঁক ঘুরে নিচের দিকে নেমে যাবে আগের মূহুর্ত অবধি কিচ্ছু সিগন্যাল দেবে না। কিংবা হয়তো সিগন্যাল দেয়। চোখের সামনে তখন মেঘ-কুয়াশার আড়াল। তাই হয়তো সামনের পথ, তার ডিরেকশন ঠাওর করে ওঠা হয় না। ঈশানীও স্বপ্ন দেখেছিল, আগামীর স্বপ্ন, জীবনের বাকিটা পথ হাঁটতে চেয়েছিল অগ্নিভকে নিয়ে। ভাবেনি, সেই সম্পর্কে এভাবে বাঁক আসতে পারে। অগ্নিভ বদলে যেতে পারে। ওই যে গ্রীক দার্শনিক হেরাক্লিটাস বলে গেছেন ‘চেঞ্জ ইজ দ্য অনলি কনস্ট্যান্ট’। আজ যা আছে, যেভাবে আছে কাল তার থাকবে না। তবু তো মানুষ যা পায় সেইসব কিছু আঁকড়ে বাঁচতে চায়। যে অগ্নিভর সঙ্গে আর কখনও একসাথে পথ চলা হবে না সেই অগ্নিভর সঙ্গেই আজ মিথ্যা বিয়ের অভিনয় করতে হচ্ছে, বারবার শট দিতে হচ্ছে, ঈশানীর মনে হচ্ছে যেন ক্ষতস্থানে কেউ এসে বারবার আঘাত করে যাচ্ছে। অগ্নিভ চায়না বাস্তবে ওর আর ঈশানীর জীবন এক সুতোয় বাঁধা পড়ুক, কারণ ওর ধারণা বিয়ে করলে ক্যারিয়ার গ্রাফ নেমে যাবে। তবে, কেন সম্পর্কে জড়িয়েছিল সে, এ প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পায় না।
২
স্টেশনের নাম সূর্য কমল। এতো সুন্দর নাম এর আগে শোনেনি ঈশানী। এখানে ছেলেরা মাঠে খেলা করে, পুকুরে স্নান করে। গরু, ছাগল মাঠে ঘাস খায়। পদ্মপাতায় শিশির জমে। হঠাৎ ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করে ওঠে ঈশানী। তখন প্রায় ভোর চারটে। লোকটা ততক্ষনে ওর পার্স চুরি করে এসি কামরার গেট দিয়ে বেরোতে যাবে, ওমনি খপাত করে রেল পুলিশ এসে পাকড়াও করলো লোকটাকে। তারপর মার কাকে বলে ! বেধড়ক চড় থাপ্পড় মেরে ঈশানীকে ব্যাগ ফিরিয়ে দিলো পুলিশ। খানিক দম নিয়ে নিজের সিটে এসে বসলো ঈশানী। ঘুম আসছে না। একটা অজানা ভয় কাজ করছে। মনে মনে ভাবছে, প্রথমবার সোলো ট্রিপে এসেই এমনটা হতে হলো ! আরও যে কি কি ফেস করতে হবে! কোথা থেকে গাড়ি ধরবে, গাড়ির ড্রাইভার ঠিক মতো পৌঁছে দেবে কিনা, হোমস্টে কেমন হবে নানা আশঙ্কায় ব্যাগটা বুকে জাপটে গুটিশুটি মেরে বসে আছে। ফ্লাইটের টিকিট যে অ্যাফোর্ড করা যেতো না এমনটা নয়, এই দূরপাল্লার ট্রেনে করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, ঈশানীর কাছে ছোটোবেলার নস্টালজিয়া। ভোরের আলো ধীরে ধীরে ফুটছে। সাইড লোয়ার সিটের বন্ধ জানলার কাঁচে উঁকি দিচ্ছে কুয়াশার বিন্দু বিন্দু উপস্থিতি। ঈশানী সমস্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে আজ পাহাড়ের কাছে ছুটে যাচ্ছে। একটু শান্তির খোঁজে।
দূর থেকে জোনাকি আলো মেঘের পিঠে চেপে উড়ে আসে। মেঘের ভেতর মন ঢুকে পড়ে? নাকি মনের ভেতর মেঘ? নাকি একে অপরকে জড়াজড়ি করে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে? ঈশানী দূরের আকাশ দেখে। ঝাপসা দৃশ্য কেটে আলো ঝিকমিক সান্ধ্য আকাশ হাতছানি দেয়।
গাড়িতে বাজছে ‘ও দিল তেরে বিন/কাহি লাগতা নাহি/ ওয়াক্ত গুজারতা নাহি/ ক্যা য়েহি প্যায়ার হ্যায়’। ভুলবো ভাবলেই কি ভুলে যাওয়া সম্ভব ? পালিয়ে যাওয়ার পথ কোথায় ? মেঘ কেটে কেটে গাড়ি এগিয়ে চলেছে দার্জিলিং পাহাড়ের অন্দরে। ঘন সবুজ পাহাড়ের দিকে চেয়ে থাকলে নেশা ধরে, মনে হয় এই যে গাছেরা এঁকে অপরকে জড়িয়ে বেড়ে উঠেছে, কই তাদের তো একে অপরের সাথে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না, মানুষের হয়, মানুষ কত নির্দ্বিধায় তার ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে থাকতে পারে। এসব হাবিজাবি ভাবনা যতই দূরে সরাতে চায় ঈশানী, তারা পিছু ছাড়েনা কিছুতেই। মাঝে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে চা আর মোমোর ব্রেক। আবার গাড়ি চলতে থাকে…
৩
তাবাকোশি , দার্জিলিং এর কাছে অফবিট ডেস্টিনেশন। সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম। লাল, বেগুনী, হলুদ ফুলে ভরে আছে চারপাশ। এখানে হাল্কা ঠান্ডা। গাড়ি থেকে নেমে স্টোলটা গায়ে জড়িয়ে নেয় ঈশানী। মনে পড়ে যায় আগের বার যখন অগ্নিভর সাথে এসেছিল ছুটি কাটাতে, অগ্নিভ পেছন থেকে এসে স্টোলটা জড়িয়ে দিয়ে কানের পাশে আদর করে দিয়েছিল। ওটা ভেবেই চোখটা ছলছল করে উঠলো ওর। চোখের ঝাপসা ভাব মুছে, ট্রলিটা টেনে এগিয়ে গেল। রডড্রেনডন হোমস্টে। গৌরি তামাং এখানকার ওনার। পনেরো বছর আগে তাঁর স্বামী ওনাকে ছেড়ে অন্য কারোর সাথে চলে গেছে। এদিক-ওদিক থেকে লোকের কাছে খবর নিয়ে জানা গেছিল, সে নেপালে সংসার পেতেছে। তারপর থেকে তাঁর আর খোঁজ করেননি গৌরি, হাতে পায়ে ধরে ফিরিয়েও আনতেও যাননি। এমনই তাঁর আত্মসম্মানবোধ। খুব কষ্ট করেই ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছেন। সমাজে নারীদের যে কতরকম লড়াই, হেনস্থা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় ! এখানকার কর্মচারী রোহিলা থাপা রোজ এখানে কাজ করতে আসেন আট কিলোমিটার দূরের পাহাড়ি গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে তাঁর সন্তানদের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দেন। এই পাহাড়ী নারীদের জীবন নিয়ে একখানা ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানানোর ইচ্ছে হয় ঈশানীর। তাদের লড়াই সমাজের অন্য নারীদের উদ্বুদ্ধ করার দাবি রাখে বইকি।
লোকটা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে, মরিচীকার মতো। ছুঁতে পারছেনা ঈশানী, শুধু ছুটে যাচ্ছে। ছুটতে ছুটতে ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে সে, খাদের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে, আর লোকটাকে দেখতে পাচ্ছে না।
রুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে বিকেলের দিকে একটু হাঁটতে বেরিয়েছে ঈশানী। সামনে সবুজ ও লাল পাথরে খোদাই করা ছোট্ট পাহাড়ি মন্দির। তারাদেবী এখানে অধিষ্ঠিত। বৌদ্ধধর্মের মহাযান এবং বজ্রযান শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ আরাধ্যা। তাঁকে দর্শন করে নদীর ধারে যখন পৌঁছলো, ততক্ষনে সূর্যাস্তের সময় হয়ে এসেছে। হোমস্টে থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল সন্ধ্যার পর যেন বাইরে কেউ না থাকে। পাহাড়ি লেপার্ডের আনাগোনা আছে এ অঞ্চলে। অগত্যা হোমস্টেতে ফিরে সান্ধ্য স্ন্যাক্স আর চায়ে চুমুক দিতে দিতে ব্যালকনিতে এসে বসেছে সে। দূর থেকে জোনাকি আলো মেঘের পিঠে চেপে উড়ে আসে। মেঘের ভেতর মন ঢুকে পড়ে? নাকি মনের ভেতর মেঘ? নাকি একে অপরকে জড়াজড়ি করে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে? ঈশানী দূরের আকাশ দেখে। ঝাপসা দৃশ্য কেটে আলো ঝিকমিক সান্ধ্য আকাশ হাতছানি দেয়। বুঝিয়ে দেয়, এই বিষাদ, মনের আঁধার একদিন ঠিক কেটে যাবে। ঈশানী গুনগুন স্বরে গাইতে শুরু করে —
‘আমি শ্রাবণ-আকাশে ওই দিয়েছি পাতি
মম জল-ছলো-ছলো আঁখি মেঘে মেঘে।’
রোহিলা পকোড়া আর চা দিয়ে যায়। ইদানিং, এই একার সাথে একা সময় কাটানো বেশ উপভোগ করতে শিখছে ঈশানী। বুঝেছে, একবার একা থাকা রপ্ত করতে পারলে আর কারোর সঙ্গ প্রয়োজন হয়না।
‘আমাকে পারতেই হবে, এই ট্রমা কাটিয়ে অগ্নিভর মুখোমুখি হতে যেন আর কোনো অসুবিধা না হয় ভগবান, ফিরে গিয়ে শ্যুটিংটা ভালো মতো শেষ করতেই হবে।’ রাতে শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গেল। গভীর ঘুমের ভেতর স্বপ্ন, উঁহু দুঃস্বপ্ন এলো তার দু-চোখে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সে দেখছে, মস্তিষ্কের ভেতর একটি-দুটি করে হাজার খানেক ক্লোন সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি ক্লোনে একটি আবছা হাসিখুশি মুখ, সে কি অগ্নিভ ? হাতছানি দিয়ে ঈশানীকে ডাকছে কে ? ঈশানী সমস্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে ছুটে যাচ্ছে অগ্নিভ থু্রি ওই আবছা অবয়বটির দিকে। আর লোকটা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে, মরিচীকার মতো। ছুঁতে পারছেনা ঈশানী, শুধু ছুটে যাচ্ছে। ছুটতে ছুটতে ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে সে, খাদের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে, আর লোকটাকে দেখতে পাচ্ছে না। ‘মা বাঁচাও, মা বাঁচাও’ করে চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যায় ঈশানীর । গলা শুকিয়ে আসে, জল খায়, বুঝতে পারে ওটা দুঃস্বপ্ন।
৪
– তুমি এভাবে আমায় ব্ল্যাকমেল করতে পারো না। আমি তো ঈশানীর সঙ্গে সম্পর্কটা ভেঙে দিয়েছি। পাঁচ লাখ টাকা কমপেনসেশন চেয়েছিলে, সেটাও দিয়েছি। আর কী চাও তুমি?
– এতো সহজে তো তুমি রেহাই পাবেনা ডিয়ার..
– শোনো এতো কিছু করেছি শুধু একটাই কারণে। এই ঘটনার কথা ঘুণাক্ষরেও যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল না হয়। এবার আমাকে রেহাই দাও…
মেঘ, পাহাড়, বৃষ্টি, কুয়াশাকে পেছনে ফেলে গাড়ি এগিয়ে চলেছে। গন্তব্য বলতে আবার সেই চেনা মানুষ, তাদের বদলে যাওয়া মুখ, কেরিয়ারে টিকে থাকার লড়াই, পলিটিক্স, জটিলতা। ভাবতে ভাবতে যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে ওর।
দীর্ঘি তখনই তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফোন খুলে দেখায় অগ্নিভকে। কেঁচোর মতো সিঁটিয়ে যায়, চুপ করে যায় অগ্নিভ। বুঝতে পারছে, সে একটা ব্লানডার করে ফেলেছে। ঈশানীকে চিট করে দীর্ঘির সঙ্গে ফ্লার্ট করা তার উচিত হয়নি। আজ সে পাপের ফল তাকে ভোগ করতে হচ্ছে। কী করবে এখন ? কীভাবে এই ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবে ? আরও টাকা দিয়ে দীর্ঘির মুখ বন্ধ রাখবে ? নাকি ঈশানীকে সব খুলে বলবে ? অগ্নিভ মনে মনে ভাবে, ঈশানী ঠিক ওকে ক্ষমা করে দেবে। প্রথমে হয়তো কথাটা শুনে খুব আঘাত পাবে ঠিকই, অগ্নিভ জানে ঈশানী ওকে খুব ভালবাসে। ক্ষমা চাইলে বেশিদিন ওর ওপর রাগ, অভিমান করে থাকতে পারবেনা ।
‘তুই তাড়াতাড়ি ফিরে আয় ঈশা, আমার তোকে কিছু বলার আছে’ ঈশানীর ফোনে ম্যাসেজ আসে। ও ম্যাসেজটা সিন করে রেখে দেয়। ছেড়ে যাওয়া মানুষের সাথে কি বা কথা থাকে ? কিছু বলার মতো শব্দ ব্যয় করতে ইচ্ছে করে না আর।
মেঘ কেটে গেছে। পরিষ্কার আকাশ। বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে দুপুর তিনটে কুড়ির ফ্লাইট। সকাল সকাল স্নান, ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়েছে ঈশানী। মেঘ, পাহাড়, বৃষ্টি, কুয়াশাকে পেছনে ফেলে গাড়ি এগিয়ে চলেছে। গন্তব্য বলতে আবার সেই চেনা মানুষ, তাদের বদলে যাওয়া মুখ, কেরিয়ারে টিকে থাকার লড়াই, পলিটিক্স, জটিলতা। ভাবতে ভাবতে যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে ওর।
‘ইঞ্জিনের জটিলতায় ভেঙে পড়ল বাগডোগরা-কলকাতাগামী এয়ারজেনের ফ্লাইট। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে চল্লিশজন যাত্রীর…’ । নিউজ চ্যানেলে খবরটা দেখে ঈশানীকে পাগলের মতো ফোন করতে থাকে অগ্নিভ। নট রিচেবল্। কী করবে বুঝে উঠতে পারে না। ছুটে যায় এয়ারপোর্টে। কোনো খোঁজ পায় না। মৃত যাত্রীদের উদ্ধারকার্যের পর যোগাযোগ করা হলে, অগ্নিভ গিয়ে দেখে সেখানে ঈশানীর দেহ সদৃশ কোনো দেহ নেই। তবে কোথায় গেল ঈশানী? একটা জলজ্যান্ত মানুষ তো কর্পূরের মতো উবে যেতে পারেনা…
তিন-চার দিন বাদে অগ্নিভর ফোনে ম্যাসেজ আসে, ‘বলো, কী বলবে বলছিলে ? আমি ফিরেছি।’ ম্যাসেজটা দেখে চমকে ওঠে অগ্নিভ। ‘কোথায় তুই, কেমন আছিস, কোথায় ছিলি, তুই জানিস তোকে আমি কত খুঁজেছি…’ বলতেই থাকে সে। ওকে থামিয়ে দিয়ে ঈশানী বলে, ‘আমার কী হয়েছিল, সেসব জেনে তোমার কী লাভ, ছেড়ে গেছো যখন, জীবনটাকে নিজের মতো গুছিয়ে নাও।’
অভিযোগ-অভিমানের সূক্ষ সেলাই এর ওপর দিয়ে অদৃশ্য পথে হাঁটতে থাকে তারা। টের পায় না কখন ‘দূরত্ব’ শব্দটা মুছে দিয়ে আবার কাছাকাছি চলে আসে তারা। অগ্নিভ ভয়ে ভয়ে দির্ঘীর কথা খুলে বলে, ক্ষমা চায়। ঈশানী চুপচাপ বসে থাকে। স্নিগ্ধ ছায়া দেয়। বর্ষায় ধ্বস নামার কারণে সেদিনের ওই নির্দিষ্ট সিডিউলের ফ্লাইটটি মিস করে সে, তাই সেদিনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ঈশানী। মরতে মরতে বেঁচে যায় যুগলবন্দী স্বপ্ন।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
❤ Support Us








