- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
- জুন ২৯, ২০২৫
পথ ভুবনের দিনলিপি। পর্ব ১০
অলঙ্করণ : দেব সরকার
অনিবার্য কারণে ১৫ জুন রোব-e-বর্ণের এই ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়নি। এজন্য আমরা পাঠকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ২৯ জুন থেকে ‘পথ ভুবনের দিনলিপি’ প্রতি রবিবার প্রকাশিত হবে নিয়মিত ।
পথ
পাহাড়ে সেদিন অনেক মেঘ৷ পাথুরে রাস্তায়ও মেঘের হালকা নাচানাচি৷ একটি খাঁজ চেয়ারের মতো হয়ে আছে৷ বোকা মানুষগুলো মাঝে মাঝে এত ওপরে ওঠার বায়না করে যে পাহাড় নিজেকে কেটে বেশ কয়েকটি চেয়ার, সোফা কাম বেড বানিয়ে রেখেছে কালো পাথরের শরীরটায়৷ সেইরকমই একটি পাথরের সোফা কাম বেডে দাঁড়িয়ে মালিঙ্গা গাছটায় জল দিচ্ছে নাদিম৷ আমি অবশ্যি বেশ কিছুক্ষণ পরে তার নাম জেনেছিলাম৷ ছেলেটার এই অদ্ভুত কাজটা আমাকে টেনে এনেছিল৷ প্রথম কথা — জলটা দিচ্ছিল সে মা মাসীদের মতো করে৷ ঠিক যেমন করে তাঁরা পোয়াতি বউকে থালায় নানা মাছ তরকারী সাজিয়ে খেতে দেন — তেমন করে অনেক সাদা বেগনে লাল ফুল কন্ট্রাস্ট মালিঙ্গার চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল৷ মালিঙ্গা গাছ তার হাতে ঝকমকে মালা পড়েছিল — জল খাচ্ছিল৷ নাদিমের কাছে যাওয়ার -কি পিছন থেকে তার ধপধপে পাঞ্জাবিটি ছোঁয়ার দ্বিতীয় কারণ ছিল — একটি নির্দিষ্ট দিনে মালিঙ্গা বা ছোট বাঁশ গাছের পুজো করাটা একেবারেই পার্বত্য রীতি৷ অথচ মেঘলা ইদের দিনে নাদিম তন্ময় বাঁশ গাছের পুজোয় !
পিঠে দুটো টোকা দিলাম৷ কোনোদিনও চেনা অচেনা মানি না৷ দেখলাম এ ছেলেটিও মানে না ৷বাহ রে ! কথা ফোটার আগেই আমার ছেলের সঙ্গে ভাব! নাদিম ইশারায় আমায় অপেক্ষা করতে বলে জল দেওয়া শেষ করল৷ তারপর — এই যে ! এত সময় লাগালে কথা বলতে ! যাওয়ারই সময় হয়ে গেল আমার৷ শিশু নিয়ে কাজ করতে এসেছি৷ এসব কাজে তাড়া থাকে বোঝ না৷ গাছ পুজো করছ কেন ?
পাখির শিষের মতো উত্তর — গাছেরও শিশুর মতো ব্রেকফাস্টের তাড়া থাকে৷ না সাজালে গাছও শিশুর মতো রাগী হয়ে যায়৷ দেখছেন না -গাছটা রাগ দেখাতে গিয়ে খড় হয়ে যাচ্ছে !
— তা বলে পুজো ৷
— পুজো নয় -আমার বাচ্চা সাজিয়েছি৷
— কী আশ্চর্য ! তুমি তো ইদের পোশাক পরেছ-চোখে কত সুর্মার নিখুঁত দাঁড়ি টেনেছ !
নাদিম বললে– নিজেকে সাজিয়েছি৷ হক আছে আমার৷
গ্রামের স্কুলের বাচ্চাগুলো হয়ত না খেয়ে বসে আছে আমার জন্য৷
কথা শেষ করার জন্য বললাম – শুভ দিন হোক৷ আমার ঈশ্বর তোমার – তোমার আল্লাহ আমার৷
আমার গাড়ির দরজা বন্ধ করতে করতে পাহাড় কোলের নিরাসক্ত সক্রেটিস বলল – আমার আল্লাহও নেই – আপনার ঈশ্বরও ঘন্টা আছে৷ কেবল পরস্পরের নয়—সবার ভালগুলো নিয়ে ভাবি আমরা – তারপর একে অপরের মধ্যে ভালগুলো যোগান দি৷
নাভি টনটন করছিল৷ নাভিতে কি ময়লা জমল আমার ! নাকি সে সন্তান দর্শনে রক্তে টুসটুসে হচ্ছিল ! ইদ নয় –অষ্টমীও নয় – প্রতিদিন আমার নাভি ছিঁড়ে পৃথিবীতে ছেয়ে যা নাদিম৷দৈত্য হয়ে যা – তবে তো গান্ধারীকে হারিয়ে দেব আমি ! আমারও মানবজন্মের শোধবোধ৷
♦·♦–♦·♦♦·♦–♦·♦
ক্রমশ..
আগের পর্ব পড়ুন: পথ ভুবনের দিনলিপি । পর্ব ৯
❤ Support Us








