Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
  • মে ১৮, ২০২৫

উনিশের অবয়বের নির্মাণ

দিলীপকান্তি লস্কর
উনিশের অবয়বের নির্মাণ

১৯ মের স্মৃতিতে অসমের উধারবন্দে স্থাপিত মূর্তি

Thumbnail Image

 
উনিশের স্মৃতি বলতে আমি বুঝি, সেই সব উত্তাল দিন আর রাত। উনিশকে দেখিনি, এর মানে এই নয়, তখন আমার জন্ম হয়নি, বা খুব ছোট্ট ছিলাম। সেদিন আমি শিলচর রেল ষ্টেশন থেকে অনেক দূরে, করিমগঞ্জের গ্রামে, আমার পৈত্রিক বাড়িতে। সে কারণে, উনিশের মর্মান্তিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে পারিনি। তবে বলতে কোনও সঙ্কোচ নেই, উনিশকে ঘিরে স্মৃতি আছে আমারও, স্মৃতিটি শহিদদের প্রতিকৃতি নির্মাণের। এর আগে কেউই উনিশে মে-র যথাযথ অবয়ব তৈরির কাজ করেননি একথা বলাও ঠিক নয়। বলতে হবে, সনৎ কৈরি নামের একজন ভদ্রলোক নোট বইয়ের আদলে খুদে একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন, পুস্তিকাটি শুরু থেকে শেষ অব্দি ভুলে ভরা বোল ছাড়া আর কী ! 

 
উনিশের প্রথম বিশদ অবয়ব রচনা করতে গিয়ে আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, তথ্যের খোঁজে, সর্বত্র নজরে আসে যে, তথ্যহীন তত্ত্বের ছড়াছড়ি। সব তথ্য মিলিয়ে সত্যের সন্ধান, সে এক দুঃসহ কর্ম। কাজটি পূর্ণ করতে সময় আর অর্থক্ষয় কম হয়নি, জেদ আর যুক্তি বছরের পর বছর জুড়ে  আমাকে সঙ্গ দিয়েছে, প্রায় একক চেষ্টা, নথি-তথ্য ঘাঁটতে ঘাঁটতে ইতিহাসের পাতা থেকে জেগে উঠল উনিশময় অবয়ব। 
 
উনিশের গণ-সংগ্রাম গণ-অভ্যুত্থানের চেহারা নিয়েছিল। আর তা সম্ভব হয়েছিল গ্রাম ও শহরবাসীর বড়ো অংশের সম্মিলিত প্রয়াসে, প্রায় সরাসরি অংশগ্রহণে। গণ-বিস্ফোরণের এটাই ছিল প্রধান কারণ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়, নেতা আর তাঁদের সহযোগী কর্মীরা বুঝতে পেরেছিলেন, সংগ্রামকে অব্যাহত রাখতে প্রথমে প্রস্তুতি-সংগঠন গঠন করা জরুরি। গ্রামে-গ্রামে, গঞ্জ থেকে গঞ্জে, স্কুলকলেজে মিটিং-মিছিল করতে হবে। স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে যোগ দিলেন শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি ও রাজনীতির সব স্তরের মহাজন ও গণ-সাধারণ। কণ্ঠে তাঁদের রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল এবং অতুলপ্রসাদের– আ মরি বাংলাভাষা। নজরুল তখন বাকরুদ্ধ, জন্মশতবর্ষে রবীন্দ্রনাথ স্তম্ভিত মুখ নিয়ে ফিরে এলেন, দ্বিখণ্ডিত শ্রীভূমির এপারে । জাগছেন, জাগিয়ে তুলছেন অতুলপ্রসাদ, তাঁদের চোখের ভাষায় হুমকি দিলেন রাষ্ট্রবিধাতা। বেপরোয়া স্রোত বইছে জনারণ্যে, জনরোষে। আচমকা তারাপুর স্টেশনে, সত্যাগ্রহী ও সত্যান্বেষীদের ওপর ঝাঁপিয়ে সশস্ত্র প্ররোচিত আক্রোশ, শহিদদের রক্তে, লাল রং মেখে গর্জে উঠল নির্বিশেষের বাংলা– চালিহা তোমার বুলেট চাইনা, মুখের জবান চাই। 
 

♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦♦•♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!