Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
  • সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

মহা-ভারতে খণ্ডচিহ্ন

দেবদত্ত চক্রবর্তী
মহা-ভারতে খণ্ডচিহ্ন

ভারতবর্ষ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে যে, তার পরিচয় নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। এ কোনো অতিরঞ্জিত অভিপ্রায় নয়, সময়ের নিরিখে একটি জরুরি স্মরণিকা। শত শত বছর ধরে ভারতীয় সভ্যতা সহাবস্থান, সহনশীলতা, সমতা এবং বহুত্ববাদের মূল্যবোধ দিয়ে গঠিত। কিন্তু এ মুহূর্তে সে মৌলিক নীতি রাজনৈতিক সুবিধার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিচয়ের সংকীর্ণ সংজ্ঞার কাছে ভারতীয়তার ধারণা, তার সভ্যতার গভীরতা কি হারিয়ে যাবে?

পরিচয় শুধু কি রাজনৈতিক স্লোগান? না এটি এক দার্শনিক ও সামাজিক ধারণা, যা দিয়ে ব্যক্তি ও সমষ্টি নিজেদের কীভাবে বোঝে, তা নির্ধারণ করে? জাতীয়তা, ভাষা, ধর্ম এবং অঞ্চল সবই পরিচয়ের উপাদান, এগুলো তার সম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়। জঁ পল সার্ত্র বলেছিলেন — ‘অস্তিত্ব সারসত্ত্বার পূর্ববর্তী অবস্থান’ — এ সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, মানুষ কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিচয় নিয়ে জন্মায় না, নিজের সিদ্ধান্ত ও কর্মের মাধ্যমে নিজেকে নির্মাণ করে।

পরিচয় শুধু কি রাজনৈতিক স্লোগান? না এটি এক দার্শনিক ও সামাজিক ধারণা, যা দিয়ে ব্যক্তি ও সমষ্টি নিজেদের কীভাবে বোঝে, তা নির্ধারণ করে? জাতীয়তা, ভাষা, ধর্ম এবং অঞ্চল সবই পরিচয়ের উপাদান, এগুলো তার সম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।

ভারতীয় পরিচয় কখনো কোনো একটি বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা বা সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। উপনিষদের ‘তত্ত্বম্ অসি’ (তুমিই সেই) এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (সারা বিশ্ব এক পরিবার) — এই মহাবার্তা এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিকে মূর্ত করে, যা বৈচিত্রকে ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত করেছে। ছান্দোগ্য উপনিষদের ঘোষণা, — ‘সদেব সোম্যেদমগ্র আসীৎ’ — আদিতে সকলই কেবল সত্তা ছিল। এই গভীর উপলব্ধিতে অগণিত রূপের অন্তরালে অভিন্ন যে সত্তা নিহিত রয়েছে, তা বৈচিত্র ঐক্যের পরিপন্থী নয়, তারই সহগামী চিন্তার অভিব্যক্তি।

দুই

ভারতবর্ষের পাঁচ হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস ছয়টি মহান যুগ অতিক্রম করে এসেছে। প্রথমটি মহেঞ্জোদারো-হরপ্পা নিয়ে সিন্ধু সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-১৫০০): সুপরিকল্পিত নগর, পয়ঃপ্রণালী, পরিমাপ পদ্ধতিতে এ শহুরে সভ্যতায় অগ্নিবেদি বা ঘোড়ার কোনো অস্তিত্ব নেই, যা পরবর্তী আর্য সংস্কৃতি থেকে তার স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠিত করে। দ্বিতীয়টি বেদ-উপনিষদ-বুদ্ধ-ব্রাহ্মণ্য দর্শনের যুগ। তৃতীয়টি রামায়ণ-মহাভারতের মহাকাব্যিক যুগ এবং বৌদ্ধ ধর্মের সুদূরপ্রসারী বিস্তার। চতুর্থটি গুপ্তযুগের পরবর্তী রাজপুত-পাল যুগ। পঞ্চমটি পশ্চিম এশিয়া থেকে নতুন প্রেরণায় বিকশিত — নানক, চৈতন্য, চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, তুলসীদাসের যুগ। আর ষষ্ঠটি, সাগরপারের রেনেসাঁ-রিফর্মেশন-এনলাইটমেন্টের অভিঘাতে গড়ে ওঠা আধুনিক যুগ।

এই ছয় যুগ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মূলত তিনটি সাংস্কৃতিক ধারা, এবং তিনটির পূর্ণ সঙ্গম কখনো সম্পন্ন হয়নি — এ অসমাপ্তিই ভারতের সবচেয়ে বডড়ো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি এবং একই সঙ্গে তার সামনে সবচেয়ে বড়ো সম্ভাবনাও।

প্রথম সঙ্গম : আর্যপূর্ব ও আর্য সংস্কৃতির মিলন  — অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছিল। সিন্ধু সভ্যতার নগর-জ্ঞান ও আর্যদের অরণ্যদর্শন মিলে তৈরি করেছিল বেদ-উপনিষদ-বৌদ্ধ দর্শনের অসাধারণ সংশ্লেষণ। তারপর সংস্কৃত জ্ঞানচর্চা ক্রমশ অভিজাত বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। শূদ্ররা সংস্কৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকায় জ্ঞানের ধারা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছাতে পারেনি। রাশি রাশি টীকা-ভাষ্য রচিত হয়েছে, কিন্তু মৌলিক সৃষ্টির জোয়ার ভাটা পড়ে।

দ্বিতীয় সঙ্গম : হিন্দু ও পারসি–আরব সংস্কৃতির সহাবস্থান — এর সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু সমাপ্তির আগেই তৃতীয় ধারা এসে যায়। অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত, বাগদাদের বায়তুল হিকমায় (জ্ঞানের ঘর) গ্রিক, পারসি, ভারতীয় ও আরবি জ্ঞানের অভূতপূর্ব সংশ্লেষণ ঘটেছিল। আলখ্বারিজমি ভারতীয় সংখ্যাপদ্ধতি ব্যবহার করে বীজগণিতের ভিত্তি গড়ে তোলেন। আল-বিরুনি এগারো শতকে ভারতে এসে সংস্কৃত শেখেন এবং হিন্দু বিজ্ঞান ও দর্শনকে ঘিরে ‘কিতাব-উল হিন্দ’ রচনা করেন, যা দুই সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধনের মহৎ প্রচেষ্টা।

ভক্তি আর সুফিবাদের সাধনা এই মিলনেরই সামাজিক বহিঃপ্রকাশ। কবীর নির্বিশেষের উভয়ের কাছেই সমানভাবে গ্রাহ্য — তাঁর দোহায় রাম ও রহিম একই সত্তার দুটি নাম। অজমেরের খ্বাজা মঈনুদ্দিনন চিশতির সমাধিস্থল সমাজের সব অংশের তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, সিতার, তবলা, উর্দু কবিতা — এই সংস্কৃতিক ঐক্যচিন্তার ফসল

মুঘল শাসনে দ্বিতীয় সঙ্গম তার সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছায়। সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) কিতাবখানা (অনুবাদ ব্যুরো) প্রতিষ্ঠা করে সংস্কৃত থেকে পারসিতে গ্রন্থ অনুবাদ করান, উপাসনাস্থলে বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের মধ্যে সংলাপ আয়োজন, ‘সুলহ-ই-কুল’ (সর্বজনীন শান্তি) নীতি প্রণয়ন করেন। শাহজাহানপুত্র দারা শিকোহ (১৬১৫-১৬৫৯) এ সংশ্লেষণের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিনিধি। তাঁর ‘মজমা-উল-বাহরাইন’ (দুই সমুদ্রের সঙ্গম, ১৬৫৫) সুফিবাদ ও বেদান্তের দার্শনিক ঐক্য প্রমাণ করে। তিনি পঞ্চাশটি উপনিষদ সংস্কৃত থেকে পারসিতে অনুবাদ করেন ‘সির্র-এ-আকবর’ (মহারহস্য) নামে।

ভক্তি আর সুফিবাদের সাধনা এই মিলনেরই সামাজিক বহিঃপ্রকাশ। কবীর নির্বিশেষের উভয়ের কাছেই সমানভাবে গ্রাহ্য — তাঁর দোহায় রাম ও রহিম একই সত্তার দুটি নাম। অজমেরের খ্বাজা মঈনুদ্দিনন চিশতির সমাধিস্থল সমাজের সব অংশের তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, সিতার, তবলা, উর্দু কবিতা — এই সংস্কৃতিক ঐক্যচিন্তার ফসল।

‘হিন্দু মুয়ে তো রাম কহো, মুসলমান কহো খুদাই,
কহে কবীর সো জীবত মরে, দুই মেহ রহা না কোই।’ — কবীর

কিন্তু এই দ্বিতীয় সঙ্গম পূর্ণ হওয়ার আগেই এল তৃতীয় ধারা — ব্রিটিশ। এবং তখন যা ঘটল তা আরও জটিল: মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির অসম্পূর্ণ সঙ্গমের সঙ্গে আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির নতুন ধারা এসে মিলল, এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সে মিলনও অসম্পূর্ণ থেকে গেল।

তিন

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে যা ইতিহাস ও রাজনীতির নিরিখে আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ‘রেনেসাঁ’ ও ‘রিভাইভাল’ এক নয় — এই দুটি শব্দ প্রায়ই সমার্থকভাবে ব্যবহৃত হলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিপরীত। রেনেসাঁর দৃষ্টি সামনের দিকে। প্রাচীন গ্রিসের জ্ঞানকে সে স্মরণ করে,  অতীতকে পুনরুজ্জীবিত করতে নয়, বরং সে জ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে নতুন কিছু নির্মাণ করতে। ইউরোপের রেনেসাঁ প্রাচীন গ্রিসের ধারাবাহিকতা ছাড়া সম্ভব হতো না, রেনেসাঁর লক্ষ্য ছিল অনন্ত ভবিষ্যতের দিকে, অতীতের পুনরাবৃত্তিতে নয়।

রিভাইভালের দৃষ্টি পিছনের দিকে। সে পদে পদে অতীতের দিকে তাকায়, যেন অতীতেই নির্দিষ্ট হয়ে গেছে তার ভবিষ্যৎ। অতীতকে অতিক্রম করার স্বাধীনতা তার নেই। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের যে ধারাটি সংকীর্ণ পরিচয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, তা মূলত ‘রিভাইভালিস্ট’। এই ধারায় ইহুদি, খ্রিস্টান, পারসি ও মুসলিমরা যেহেতু প্রাচীন ভারতের অংশ ছিলেন না, তাই তাদের বাদ দিয়ে কেউ কেউ জীবনচর্চা করতে চান। একইভাবে ভারতের আরেক ইসলামের আদিপর্বে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। উভয়ক্ষেত্রেই তৈরি হয় অন্তহীন দূরত্ব — তারা অভিন্ন প্রতিবেশী হয়েও বহু দূর গ্রহের অভিযাত্রী হয়ে ওঠেন।

ভারতীয় পরিচয় কখনো কোনো একটি বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা বা সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। উপনিষদের ‘তত্ত্বম্ অসি’ (তুমিই সেই) এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (সারা বিশ্ব এক পরিবার) — এই মহাবার্তা এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিকে মূর্ত করে, যা বৈচিত্রকে ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত করেছে। ছান্দোগ্য উপনিষদের ঘোষণা, — ‘সদেব সোম্যেদমগ্র আসীৎ’ — আদিতে সকলই কেবল সত্তা ছিল। এই গভীর উপলব্ধিতে অগণিত রূপের অন্তরালে অভিন্ন যে সত্তা নিহিত রয়েছে, তা বৈচিত্র ঐক্যের পরিপন্থী নয়, তারই সহগামী চিন্তার অভিব্যক্তি

ঊনবিংশ শতকের বাংলা নবজাগরণ সব অর্থে রেনেসাঁ ছিল না। সমাজের সব অংশকে, সব চিন্তাকে গ্রহণ করতে পারেনি। রামমোহন রায় পাশ্চাত্য যুক্তিবাদ ও বেদান্তের আলোয় সতীদাহ প্রথা রদ করলেন। বিদ্যাসাগর মেধার উপর দাঁড়িয়ে বিধবাবিবাহ প্রচলনের লড়াই করলেন। ডিরোজিও তরুণদের মনে মুক্তচিন্তার বীজ বুনলেন। মধুসূদন মিল্টনের মহাকাব্যিক ছন্দে বাংলা কাব্যকে নতুন আঙ্গিক দিলেন। এঁরা অতীতকে ফিরিয়ে আনতে চাননি — অতীতকে পার হয়ে এগোতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সমষ্টির সমগ্র পরিচয়ের বৃত্তায়নে তাঁদের আন্তরিক হতে দেখা যায়নি।

চার

দ্বিতীয় সঙ্গমটি অসম্পূর্ণ থাকার কারণগুলির মধ্যে ব্রিটিশ শাসনীতির ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে বহুমুখি সমাজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। তাদের ঐক্য ব্রিটিশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পরবর্তী দশকগুলোতে ব্রিটিশ প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক পরিচিতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারে পৃথক নির্বাচনমণ্ডলী — এ সব পদক্ষেপ পরস্পর বিরুদ্ধ রাজনীতিক পরিচয়কে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়।

শশী থারুর যথার্থ লিখেছেন, ব্রিটিশ ভারত নীতি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে ‘উস্কে দিয়েছিল’, সেটা ছিল ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার । আলাদা নির্বাচনমণ্ডলী ব্যবস্থায় রাজনীতিকরা বাধ্য হলেন সংকীর্ণ পরিচয়ের নামে ভোট চাইতে, জাতীয় স্বার্থের নামে নয়। এই কাঠামোগত বিষক্রিয়া ধীরে ধীরে কাজ করল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ তার চূড়ান্ত পরিণতি।

ভারতীয়তা বোধের উত্তরাধিকার ভারতীয়, পশ্চিম এশিয়, পশ্চিমি ভাবনায় প্রভাবিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা এসব  উত্তরাধিকারের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশকে গ্রহণ করেছি। একধরনের অজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে সংশয় ও অবিশ্বাস। ইতিহাসের যে সমৃদ্ধ সংলাপ একদিন বায়তুল হিকমা থেকে মজমা-উল-বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তা যদি জনচেতনার স্তরে নিয়ে আসা হতো,তাহলে আমাদের সংহতি, আমাদের আধুনিকতাবোধ, নিষ্কণ্টক হয়ে উঠত অনেকটাই।

পাঁচ

ভারতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছড়িয়ে আছে মানবিক মর্ম,  সামাজিক সম্প্রীতি, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং বৈচিত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। এসব নীতি থেকে বিচ্যুত হলে ভারত তার অনন্যতা হারাবে। যা হাজার হাজার বছরের ইতিহাস জুড়ে তাকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সর্বকালের সর্বোচ্চ শক্তি একরূপতা নয় — সমন্বয়। এটি কেবল আধ্যাত্মিক চেতনা নয় নয়, সামাজিক নীতি হিসেবেও সর্বদা সক্রিয়, যা সহাবস্থানের অনিঃশেষ ঐতিহ্য। তার সমন্বয় কৃত্রিম নির্মাণ নয় — সিন্ধু থেকে সুফি, উপনিষদ থেকে উর্দু, মজমা-উল-বাহরাইন থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা — সব স্তরেই চেতনা আর ঐতিহ্যের শ্বাস-প্রশ্বাস।

সুতরাং এ মুহূর্তে আমাদের সম্মুখের প্রশ্নটি যেমন সরল তেমনি গভীর: আমরা কি আদৌ ভারতের পরিচয় রক্ষা করতে সক্ষম? না কি কোনো অলীক স্বপ্নে গড়ে তুলছি আমাদের মহাভারতীয়তার নির্মাণের সত্যকে ? বিসর্জন দিচ্ছি, সজ্ঞানে নির্দেশিত বিশ্বাসে সায় দিয়ে, সাড়া জাগিয়ে ?

♦–♦  ♦–♦  ♦–♦  ♦–♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!