Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫

মৈপীঠে বাঘের হামলায় গুরুতর জখম বনকর্মী, চিকিৎসাধীন হাসপাতালে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মৈপীঠে বাঘের হামলায় গুরুতর জখম বনকর্মী, চিকিৎসাধীন হাসপাতালে

রবিবার রাতে মৈপীঠের লোকালয়ে ফের ঢুকে পড়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাঘের পায়ের ছাপ দেখে আগেই সতর্ক হয়েছিল বন দফতর। রাতে জালও পেতে রাখা হয় তাকে ধরার জন্য। কিন্তু ধরা পড়ে নি সে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় বাঘের খোঁজ। পায়ের ছাপ দেখে বাঘের সন্ধান শুরু করেন বনকর্মীরা। হঠাৎ ঝোপের পাশে ধানক্ষেতে বনকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা দক্ষিণ রায়ের।

কুলতলির মৈপীঠে গ্রামের আবার ঢুকে পড়ল বাঘ। গ্রামবাসীদের সামনেই বনকর্মীদের ওপর হামলা চালাল সে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক বনকর্মী। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামে। ওদিকে স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কী করে বাঘটিকে কাবু করা হবে তা ভেবে দিশাহার বনদফতরের আধিকারিকরা। রবিবার এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাঘের আতঙ্ক ছড়ায়। এদিন সকালে স্থানীয়রা প্রথম বাঘের পায়ের ছাপটি লক্ষ্য করেন। তারপর খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরকে। বনদপ্তরের কর্মীরা এসে বাঘের পায়ের ছাপটি দেখেন। বাঘের পায়ের ছাপটি লক্ষ্য করে তাঁরা মনে করেছিলেন, নতুন করে এলাকায় আবার বাঘ ঢুকেছে। এরপর সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় বাঘের খোঁজ। পায়ের ছাপ দেখে সন্ধান শুরু করেন বনকর্মীরা। তখনই হঠাৎ ঝোপের পাশে ধানক্ষেতে বনকর্মীদের ওপর অর্কিতে হামলা চালায় বাঘ। ৩ জন বনকর্মীর মধ্যে ১ জনের মাথা কামড়ে ধরে সে। সঙ্গীকে বাঁচাতে বাকি দুই বনকর্মী লাঠি দিয়ে বাঘটিকে পেটানো শুরু করেন। তার জেরে ওই বনকর্মীকে ছেড়ে পালায় সে। এর পর আহত বনকর্মী গণেশ শ্যামলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত আহত কর্মীকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে মৈপীঠে ঢুকে এসেছিল বাঘ। দীর্ঘ ‘বাঘবন্দি খেলা’-এর পর অবশেষে খাঁচাবন্দি করা হয়েছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এই নিয়ে এক সপ্তাহে তিনবার লোকালয়ে বাঘ চলে আসার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাতের ঘুম কেড়েছিল তাঁদের। আবার নতুন করে শার্দুলের আনাগোনায়, বাঘে-মানুষের লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে রয়েছেন মৈপীঠ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার কুলতলি ব্লকের মৈপীঠ-বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নগেনাবাদে ৯ নম্বর মুলার জেটি ঘাটের কাছে একটি বাঘ দেখতে পান স্থানীয় যুবক রাজকুমার সাফুঁই। তিনি দাবি করেন, বাঘটি জেটিঘাট সংলগ্ন শ্মশানে ঘোরাঘুরি করছিল। পরে সে গ্রামের রাস্তা ধরে। সাইকেলে চেপে বাড়ি ফেরার পথে তা দেখতে পান রাজকুমার। তিনি ভয়ে সাইকেল ফেলে আর্তনাদ করতে করতে বাড়ি ফেরেন। নিমেষে ফের বাঘ ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। এরপরেই স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গ্রাম লাগোয়া ম্যানগ্রোভের জঙ্গলের মধ্যে বাঘের টাটকা পায়ের ছাপ লক্ষ করেন। যদিও সেই সময় বাঘটিকে দেখতে পাননি তাঁরা। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরের রায়দিঘি রেঞ্জের অন্তর্গত নলগোড়া বিট অফিসে। সোমবার সকালে বাঘের দেখা মেলে, কিন্তু তার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হন বনকর্মী। বনদপ্তরের তরফে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।

বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গল ঘেরার নাইলনের নেট কেউ কেটে ফেলায় সেখান থেকে গ্রামে বাঘ ঢুকছে বলে মনে হয়। গ্রামবাসীরা কাঁকড়া ও মাছ ধরতে গিয়ে অনেক সময় নাইলনের জাল কেটে ফেলেন। এব্যাপারে তাদের সতর্ক করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন যাবৎ আজমলমারি জঙ্গল থেকে বারবার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একাধিক বাঘ। প্রতিবারই বনদপ্তর তাকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে। গত দু’সপ্তাহে প্রায় চারবার বাঘ হানা দিয়েছে ওই এলাকায়। তবে প্রতিবারই নিজে থেকে জঙ্গলে চলে গিয়েছে বাঘ। মইপিঠের বাঘটিকে দিনকয়েক আগে জঙ্গলে ফেরানো হলেও, সেটিই ফিরে এসেছে দাবি করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা

যেখানে বাঘের ভয়…

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তারইমধ্যে বঁরই-আতঙ্কে কাঁপছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরের পরিক্ষার্থীরা। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে গত বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে হাতির আতঙ্কে ভুগছিল পরীক্ষার্থী। এবছর গ্রাস করেছে বাঘের আতঙ্ক। বান্দোয়ানে পরীক্ষা কেন্দ্র তিনটি। গঙ্গামান্না জঙ্গল লাগোয়া স্কুলে এসে হাজির হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এই গঙ্গামান্না জঙ্গল থেকে বেড়িয়েছিল বাঘ। বান্দোইয়ানের এক পরীক্ষার্থী হিরামুই দোলুই জানিয়েছেন, সে বান্দোয়ানের যেই অঞ্চলে থাকে সেখান থেকে পরীক্ষা দিতে গেলে সাইকেল করে গভীর জঙ্গল দিয়ে যেতে হবে। সেখান দিয়ে বাস যাতায়াত করে না। সেই কারণে বাঘের আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু বনদপ্তর এই বাঘের পরিস্থিতির ওপর সব সময় নজর রেখেছে যাতে কোনও পরীক্ষার্থীদের কোনও ভাবেই অসুবিধা না হয়।

ভয়ের বাতাবরণ কাটাতে বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজিব লোচন সোরেন, রাজ্য সরকার এবং বনদপ্তর সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। বাঘের আতঙ্কে পরীক্ষা দিতে পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও রকম ভাবে অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন। পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারে সেদিকে খেয়াল রেখে পরিবহন দপ্তর বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করেছে। পরীক্ষার্থীদের বান্দোয়ানের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। কোনভাবে যাতে অসুবিধা না হয় সেই জন্য এই ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি, বিধায়কের তরফ থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাগুলিকে সবসময় হেল্পলাইন চালু রাখতে বলা হয়েছে। সব জায়গায় বাস পরিষেবা প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষার্থীর যদি অসুবিধা হয় তারা এই হেল্পলাইনগুলিতে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে বিধায়কের দল সেই স্থানে পৌঁছে যাবে।

বাঁকুড়ার জঙ্গলপথে পরীক্ষার্থীদের হাতির হানার মুখে পড়া রুখতে কড়া নিরাপত্তায় ছাত্রছাত্রীদের পৌঁছে দেওয়া হল পরীক্ষাকেন্দ্রে। বাঁকুড়া জেলায় মোট ৬২টি হাতি আছে। বাঁকুড়া জেলার বেশ কিছু পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে যেগুলি হাতি উপদ্রুত এলাকার মধ্যে পড়ে। হাতি উপদ্রুত জঙ্গলপথে পরীক্ষার্থীদের ওই কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছতে হয়। পুরুলিয়া জেলায় মোট ৪৩,১৬৪ জন পরীক্ষার্থী এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। যার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২০১৬০ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ২৩০০৪ জন। জেলায় মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ১০৮টিতে নেওয়া হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পর্ষদ, জেলা প্রশাসন এবং বনদফতর নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। জঙ্গলমহলের যে সমস্ত স্কুলগুলি রয়েছে সেখান থেকে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে গাড়ি করে। বান্দোয়ানের জঙ্গলমহলের দুর্গম গ্রামগুলি থেকে পরীক্ষার্থীদের বন দফতরের গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রে। সব মিলিয়ে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত প্রশাসন। আউশগ্রামের ২টি ব্লকের জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় চলছে টহলদারি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!