- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ১৬, ২০২৬
কারাবন্দী মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন আন্তর্জাতিক সংগঠনের
সাংবাদিক, লেখক, তথ্যচিত্র নির্মাতা, মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবিরের জীবন বর্তমানে গুরুতর সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটেছে। তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে উদ্বেগে রয়েছে বিশ্বের নানা মহল। এমত অবস্থায় রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস, বিভিন্ন এনজিও এবং বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে অবিলম্বে কবিরকে মুক্তি দেওয়া হয়, যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার কবির হুইলচেয়ার ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারেন না, একাধিক দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছেন তিনি, গ্রেফতারীর পর তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বারবার আবেদন সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের পরও তাঁর চিকিৎসা পরিস্থিতি কোনো উন্নতি হয়নি। এ বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনগুলো আরও জানিয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি শাহরিয়ার কবিরের আটককে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর আগে জাতিসংঘের ইচ্ছাকৃত আটক-সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ ‘ওপিনিয়ন নম্বর ৪০/২০২৫’-এ তাঁর আটককে ‘ইচ্ছাকৃত, অবৈধ এবং দণ্ডমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে অবিলম্বে মুক্তি, ক্ষতিপূরণ এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। সংগঠনগুলোর দাবি বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিক।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের হেফাজতে মৃত্যুসহ একই সময়ে শতাধিক বন্দির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি শাহরিয়ার কবিরের জীবন ‘স্পষ্ট ও আসন্ন ঝুঁকি’-র মধ্যেই রয়েছে বলে মত আবেদনকারীদের একাংশের। ফলে তাঁরা, বাংলাদেশের সরকারের কাছে ৩টি জরুরি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শাহরিয়ার কবিরসহ সকল প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, তাঁদের জন্য জরুরি ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দেশের সব কারাগারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মানদণ্ড বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংঠন আরএসএফ বলছে, শাহরিয়ার কবিরের জীবন রক্ষা কেবল ন্যায়বিচারের বিষয় নয়, মানবতারও মাপকাঠি। তাঁর সুরক্ষা এবং মুক্তি বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের চেতনা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করবে।
ইউরোপ ও বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যে যৌথ আবেদন করা হয়, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউরোপীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের ক্লাউস স্ট্রেমপেল, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্কের তারিক গুনেরসেল এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্সের অধ্যাপক এ বি এম নাসির। তাঁরা তাঁদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের বহু সাংবাদিক, লেখক, কবি, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং অন্যান্য সৃজনশীল ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। অধিকাংশেরই জামিন মেলেনি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও, এ পর্যন্ত পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটে নি।
সম্প্রতি, কলকাতাতে বাংলাদেশের বন্দি লেখক, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং শিল্পীদের মুক্তির দাবিতে একটি কনভেনশন আয়োজন করা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে ধৃতদের মুক্তির জন্য জোরালো দাবি জানায়। কনভেনশনে গৃহীত, উপস্থিত সকলের স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশের উপ হাইকমিশন অফিসে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কনভেনশন আয়োজক ভিরাসত আর্ট পাবলিকেশন জানিয়েছে, মহাবোধি সোসাইটি হলে আয়োজিত এই কনভেনশনে বিশেষভাবে শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির দাবি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
কনভেনশনে বক্তারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছিল, বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়েছে তাঁদের। শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে রাজাকার ও আল বদরদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম সংগঠক হওয়ায় একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয়ের কারণে বারবার তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নির্বাচন প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের জন্য লড়াই করে চলেছেন। কনভেনশন আয়োজকরা বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে ধৃত সকলের অবিলম্বে মুক্তি ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
❤ Support Us







