- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রান্ত ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব, বাম-ডান সংগঠনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সাহিত্য উৎসবের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হলেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক এস. ইরফান হাবিব। অভিযোগ, তাঁর বক্তৃতার মাঝেই প্রাচীরের ওপার থেকে প্রথমে জলভর্তি বালতি, পরে একটি ডাস্টবিন ছুড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ভবনের সামনে। বাম ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘আইসা’-র উদ্যোগে ‘সমতা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘পিপল্স লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল’-এ আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন হাবিব। উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ ছাত্রছাত্রী। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখার পরই আচমকা বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। ইতিহাসবিদ জানিয়েছেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের সামনে কথা বলার জন্য আমায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি প্রায় ২০ মিনিট বলেছি। সে সময় হঠাৎই পিছনের পাঁচিল টপকে বা ওপার থেকে আমার দিকে জলভর্তি বালতি ছুড়ে দেওয়া হয়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু তার পর আবার বক্তব্য চালিয়ে যাই।’ তাঁর সংযোজন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক পরিসর, যেখানে ভিন্ন মত থাকবে, সমালোচনাও হবে, তবে সকল মতের প্রতি সম্মান থাকা উচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বালতিটি অধ্যাপকের গায়ে সরাসরি না লাগলেও খুব কাছেই পড়ে। ছিটকে পড়া জলে ভিজে যান প্রবীণ ইতিহাসবিদ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই একটি ডাস্টবিনও ছুড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও তাতে বড়ো কোনো শারীরিক আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। আইসার অভিযোগ, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণপন্থী ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যেই এবিভিপি-র কয়েক জন সদস্য এ কাজ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ডিইউ অনুমোদিত সাহিত্য উৎসবের বিকল্প ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্যোগে বাধা দিতেই এই হামলা। তারা আরও জানায়, অনুষ্ঠানে জাতপ্রথা, সমতা এবং ‘রোহিত আইন’-এর অধীনে ইউজিসি ইক্যুইটি রেগুলেশনস ২০২৬ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
সমস্ত অভিযোগ অস্কীকার করেছে এবিভিপি । সংগঠনের দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা দাবি করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাদের নাম জড়ানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাম সংগঠনগুলি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি। তবে ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে আইসা আরও একটি কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকেও নিন্দার সুর শোনা গিয়েছে। সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক, ডি রাজা বলেছেন, ‘এটি মতবিরোধ নয়, ভয় প্রদর্শনের চেষ্টা। ভাবনার বিরুদ্ধে ভাবনাই হওয়া উচিত জবাব।’ উল্লেখ্য, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে ২ বছর আগেও উপস্থিত ছিলেন হাবিব। সে বার কোনো অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। হাবিব বলেছেন, ‘আমি বহুবার ডিইউ-তে এসেছি, বক্তব্য দিয়েছি, কিন্তু এ রকম ঘটনা এই প্রথম ঘটল। গত দুই বছরে… পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে।’ এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাঙ্গনে মতের ভিন্নতা কি ক্রমশ অসহিষ্ণুতার মুখে পড়ছে? সব বিতর্কের মধ্যে হাবিবের বার্তা স্পষ্ট— ‘এ সবের পরেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার প্রশ্নই যেন আবার সামনে এনে দিল এই ঘটনা।
❤ Support Us






