Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৬, ২০২৫

পদ্ম থেকে ঘাসফুল, শিবির বদলেই বিস্ফোরক সংঘমিত্রা । বললেন, “তৃণমূল-বিজেপির সম্পর্ক ভাল,…মমতার উত্থানে বাজপেয়ীর মদত ছিল”

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পদ্ম থেকে ঘাসফুল, শিবির বদলেই বিস্ফোরক সংঘমিত্রা । বললেন,  “তৃণমূল-বিজেপির সম্পর্ক ভাল,…মমতার উত্থানে বাজপেয়ীর মদত ছিল”

২০২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার হুঙ্কার ছেড়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সেই দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভানেত্রী সংঘমিত্রা চৌধুরী সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। বলা যায় শুভেন্দুর হুঙ্কারের পর দক্ষিণ কলকাতা বিজেপিতে তৃণমূলের হাত শক্ত করতে বিজেপি ছেড়ে সংঘমিত্রা চৌধুরী তৃণমূলে যোগ দিলেন। তবে কি বিজেপির ভাঙ্গন শুরু হল? এই প্রশ্ন উঠেছে বংগো রাজনীতির অন্দরে।

তবে দলবদল করে সংঘমিত্রা তৃণমূলের লাভ, বিজেপির ক্ষতি করলেন কি না সেটা পরে বোঝা যাবে, তবে দল বদল করেই করেই সংঘমিত্রা চৌধুরী তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান দল সম্পর্কে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন। বললেন, দু’টোই ডানপন্থী দল। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু একদিন অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরেই নেত্রী হয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। হাজরা মোড়ে এই যোগদান অনুষ্ঠানে ১৫ অগাস্ট হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বিধায়ক দেবাশিস কুমার। সংঘমিত্রার এই বক্তব্যের সময় তাঁদের চোখে-মুখে অস্বস্তি ধরা পড়েছে।

দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভানেত্রী ছিলেন সংঘমিত্রা চৌধুরী। বিজেপির রাজ্য কার্যকরী সমিতির বর্তমান সদস্য ছিলেন তিনি। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের সকালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন সেই সঙ্ঘমিত্রা চৌধুরী। আর দল বদল করেই যা বললেন, তা শুনে অনেকেরই বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না।

বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানকারী সঙ্ঘমিত্রা চৌধুরী বলেন, “যেহেতু আমরা বিরোধী, তাই আমরা এক অপরের বিরোধিতা করি কিন্তু দু’টোই ডানপন্থী দল। এটা কিন্তু নয় যে তৃণমূল বামপন্থী দল। আর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু একদিন অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরেই নেত্রী হয়েছিলেন। আমি কোনওদিন মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কোথাও আমার বক্তব্য়ে, আমার ফেসবুকে মানে কোনও সমাজ মাধ্যমে কোনওদিন কোনও খারাপ কথা বলিনি। কারণ আমি তাঁকে সম্মান করেছি। আমরা বিধানসভায় যতই চিৎকার করি না কেন ভিতরে ভিতরে সবার সঙ্গে সবার কিন্তু ভাল সম্পর্কই আছে।”

যদিও এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সেই তৃণমূল আর বিজেপি এক হলে আমি কি সেই তৃণমূল ছাড়তাম? আমি এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। বিজেপি কোনও ব্যক্তিনির্ভর দল নয়।”

সদ্য বিজেপি ছে়ড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেত্রীর মুখে, তৃণমূল-বিজেপি সম্পর্কে এই পারস্পরিক বোঝাপড়ার তত্ত্ব শুনে সিপিএম উচ্ছ্বসিত। সিপিএম নেতারা বলছেন, “আমরা বহুদিন আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল-বিজেপি একই কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। ওদের ভেতরকার লড়াই আসলে ছায়া যুদ্ধ। আসলে ওরা দুটো দলই সমান, েকে ওপরের থেকে আলাদা নয়। বিজেপি ছেড়ে এসে এই সাফাই কারও দেওয়ার দরকার নেই। বাংলার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলকেই ভালো করে চেনে।

এদিকে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা কমিটির প্রাক্তন সভানেত্রী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় এই জেলায় বিজেপির ভাঙনের আনন্দে উচ্ছসিত তৃণমূল শিবিরে। তবে তৃণমূলের কোনও নেতানেত্রী সংঘমিত্রা চৌধিরীর বিজেপি-তৃণমূলের অলিখিত বোঝাপড়ার তথ্য ফাঁস করা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। প্রশ্ন একটাই কেন সংঘমিত্রা মমতার উত্থানের পিছনে বাজপেয়ির হাত আছে বললেন? কেন বললেন তৃণমূল-বিজেপি যতই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিধানসভায় সরব হোক না কেন আসলে এই দুই দলের মধ্যেকার সম্পর্ক নিবিড়। তা আবার যেদিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন সেদিন, সেই যোগদান মঞ্চে! এই কথা তো সিপিএম ২০১১ সালে পরাজিত হওয়ার পর থেকে বলে আসছে তৃণমূল-বিজেপি সম্পর্কে। এই কথা কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা কোনও সদ্য তৃণমূল নেত্রীর মুখে উচ্চারিত হলে রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে সুখকর?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!