- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৩০, ২০২৫
ললিত মোদির আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন সহ–সভাপতি তথা প্রাক্তন আইপিইল চেয়ারম্যান ললিত মোদির বিরুদ্ধে ১০.৫৬ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । ললিত মোদি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন, এই জরিমানার অর্থ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে দিতে হবে। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ ললিত মোদির এই আবেদন শুনানির যোগ্য নয় বলে অভিহিত করে বলেছে, ‘এই ব্যাপারে ললিত মোদি চাইলে তিনি দেওয়ানি আদালতে আইনি প্রতিকারের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরক ওপর সরারসি কোনও আদেশ দেওয়া যাবে না।’
২০০৯ সালে ভারত থেকে আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আইপিএল স্থানান্তরের সময় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইডি মোদিকে ১০.৬৫ কোটি টাকা জরিমানা করে। মোদির বিরুদ্ধে বিদেশী মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে মোদি বোম্বে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একা আবেদন করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আইপিএল চেয়ারম্যান এবং বিসিসিআই সহ–সভাপতি হিসেবে তিনি যে কাজই করুন না কেন, তার খরচ বিসিসিআই–কেই বহন করতে হবে। বোর্ডের নিয়মে এমনই বলা আছে।
ললিত মোদি তাঁর আবেদনে বলেছন যে, তিনি ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সহ–সভাপতি এবং ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আইপিএলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বিসিসিআইয়ের সংবিধানের ৩৪ নম্বর নিয়মে বলা আছে, কোনও কর্তার মেয়াদকালে সংশ্লিষ্ট কর্তার দ্বারা হওয়া ক্ষতি এবং ব্যয়ের জন্য বোর্ডই ক্ষতিপূরণ দেবে। মোদি আবেদনে আরও বলেন, বিসিসিআই এর আগে একই ধরণের মামলায় প্রাক্তন সচিব এন শ্রীনিবাসন এবং প্রাক্তন সচিব কোষাধ্যক্ষ এমপি পান্ডবকে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছন যে, তাঁর ব্যাপারে বিসিসিআই বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বোম্বে হাইকোর্ট ললিত মোদির আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট তখন বলেছিল যে, আবেদনটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির ওপর ভিত্তি করে। ফেমার অধীনে আরোপিত জরিমানা ব্যক্তিগত, যা মোদিকে দিতে হবে। আদালত মোদির ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও আরোপ করে, যা টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে জমা দিতে বলা হয়েছিল।
আদালত বলেছে, ভারতীয় সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিসিসিআই রাষ্ট্রের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না। তাই বিসিসিআই–এর বিরুদ্ধে কোনও রিট পিটিশন (আদেশ) দায়ের করা যাবে না। ললিত মোদির দাবি যে বিসিসিআই একটা পাবলিক সংস্থা এবং তাদের খরচ পরিশোধ করা উচিত, তা বিচারগতভাবে সঠিক নয়। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আদালত দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। মোদি চাইলে এখন এই মামলায় সিভিল কোর্টের মাধ্যমে বিসিসিআইয়ের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই ধরনের রিট পিটিশনের মাধ্যমে সরাসরি আদেশ চাওয়া আইনের আওতাভুক্ত নয়।
❤ Support Us






