Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

আইপ্যাক-কাণ্ড: ইডির বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আইপ্যাক-কাণ্ড: ইডির বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে ইডি অভিযান, মুখ্যমন্ত্রীর নাটকীয় উপস্থিতি, রাজনৈতিক বিক্ষোভ, কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্যের আইনের দ্বারস্থ হওয়া; সব মিলিয়ে ভোটমুখী বঙ্গে উত্তেজনা চরমে। গতকালই কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি ঘটিয়েছে। তাই সর্বস্তরের লক্ষ্য ছিল বৃহস্পতিবারের সুপ্রিম চত্বরের দিকে। আজ সকাল সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুরু হয় জোড়া মামলার শুনানি। ইডির পক্ষে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুরুর মুহূর্তে বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, ‘আমরা নোটিস জারি করছি। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাই।’ এ মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সুপ্রিম কোর্ট পুরো বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইডি অভিযোগ করেছে, কলকাতার আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে পৌঁছন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে  সেসময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা এবং দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায়। তুষার মেহতা আদালতে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, তিনি রীতিমতো ইডির কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সে কাজে সহায়তা করেছিলেন। এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে সিবিআই দফতরে পাথর ছোড়া হয়েছিল, আবার বিভিন্ন তদন্তেও বাধা দেওয়া হয়েছে।’ মেহতা আরও বলেন, এই অভিযানটি ছিল অবৈধ কয়লা পাচারের একটি মামলার অংশ। তদন্তে দেখা গেছে, নগদে লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। তল্লাশির সময় নথি ও তথ্য অনুমতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে। একজন ইডি অফিসারের মোবাইল ফোনও সাময়িকভাবে নেওয়া হয়েছে। মেহতার মতে, এ ধরনের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙবে এবং তদন্তে প্রভাব ফেলবে। তিনি আদালতকে জানান, ইডি পূর্বেই রাজ্যের কর্মকর্তাদের ইমেল করে জানিয়েছিল, তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।শুনানিতে ইডি আদালতকে অনুরোধ করেন, অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হোক।

রাজ্য সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর কপিল সিব্বল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ইডির অভিযোগকে একতরফা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। সিব্বল বলেন, ‘পঞ্চনামা অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত কেবল প্রতীক জৈনের একটি ল্যাপটপ এবং একটি ব্যক্তিগত আইফোন নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তল্লাশির সময় কোনো বাধা তৈরি হয়নি। সমস্ত কার্যক্রম নথিভুক্ত হয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইডি এই মামলা ব্যবহার করছে আদালত ও জনমনে পূর্বধারণা তৈরি করতে। আইনজীবী মনুসিঙ্ভি আরও বলেন, ‘এই মামলাটি হাই কোর্টে শুনানো উচিত। সুপ্রিম কোর্টে আনা হয়েছে ফোরাম শপিংয়ের মাধ্যমে।’ সওয়াল-জবাব শুনে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সৎ উদ্দেশ্যে করা তদন্তে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কতটা যৌক্তিক, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিচারপতি মিশ্র বলেন, ‘পিএমএলএ আইনের অনুমোদন নিয়ে ইডি কর্মকর্তারা যদি তল্লাশি চালান, ধরে নেওয়া যাবে তারা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেছেন।’ এরপরই আদালত ইডির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি, আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়াও, মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তও স্থগিত থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, দেশের একক বা একাধিক রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার স্বাধীন তদন্তের জন্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সর্বশেষ, শুনানি থেকে পরিস্কার হলো, এই মামলার প্রভাব শুধুমাত্র আইপ্যাক-সংক্রান্ত অভিযান বা কয়লা পাচারের মামলার সীমায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে ক্ষমতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, এবং আইনের শাসন বজায় রাখার ক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট নোটিস জারি করে সমস্ত পক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!