Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২৪, ২০২৫

শিক্ষাঙ্গনে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ শীর্ষ আদলতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিক্ষাঙ্গনে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ শীর্ষ আদলতের

সুপ্রিম কোর্ট ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলা আর উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য একটি জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দেখে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আইআইটি দিল্লির দুই ছাত্র, আয়ূশ আশ্না ও অনিল কুমারের আত্মহত্যার ঘটনায় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহত ছাত্রদের পরিবারের অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের সন্তানরা জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের দ্বারা হয়রানির মুখোমুখি হয়েছিলেন। নিহতদের পরিবারগুলি এই আত্মহত্যাগুলিকে সন্দেহজনক বলে দাবি করে, এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯-এর অধীনে স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানায়।

দিল্লি পুলিশ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড-এর ১৭৪ ধারার অধীনে একটি তদন্ত করেছিল। রিপোর্টে উঠে আসে, ২ ছাত্রের মৃত্যুর কারণ ছিল শিক্ষাগত চাপজনিত কারণে আত্মহত্যা। জাতিগত বৈষম্যের কোনো প্রমাণ তাঁরা পায়নি। ওদিন ওই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি জে বি পার্ডিওয়ালা আর বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ পুলিশি তদন্তের পদ্ধতিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে জানায়, পুলিশ আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে । আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, যদি কোনো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে, তবে সিআরপিসি-এর ১৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের দায়িত্ব এফআইআর দায়ের করা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা। শুধুমাত্র কিছু ছাত্রের বিবৃতি নিয়ে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ খারিজ করা পুলিশের পক্ষে আইনসঙ্গত ছিল না। আয়ূশ আশ্নার বাবা দাবি করেন, তাঁর ছেলে বারবার জাতিগত বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে। অনিল কুমারের ভাইও অভিযোগ করেন, অনিলকে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর হোস্টেল কক্ষে পাওয়া রক্তের দাগগুলি মৃত্যুর পেছনে অন্য ইঙ্গিত দেয়।

এদিন একাধিক পর্যবেক্ষণের পর আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রদের মানসিক সুস্থতা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করে। বিচারপতিরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে যদি কোনো ছাত্র আত্মহত্যা করে, তবে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এফআইআর দায়ের করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আদালত আরও বলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির এই ধরনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ৯৮ জন ছাত্র উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে ৩৯ জন আইআইটি, ২৫ জন এনআইটি, ২৫ জন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ৪ জন আইআইএম এবং ৩ জন আইআইএসইআর-এর ছাত্র ছিলেন। আদালত এই সংখ্যাগুলিকে ভীষণ উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে। বলে, এগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচায়ক নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহানুভূতির অভাব আর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবের ছবিও ফুটিয়ে তোলে।

এরপর আদালত জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতিবিদ্বেষ, র‍্যাগিং, যৌন হয়রানি আর শিক্ষাগত চাপে ছাত্রদের আত্মহত্যার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলা করার জন্য যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে আদালত জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। যেটি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, টাস্ক ফোর্স শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থাগুলির মূল্যায়ন করবে ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ৪ মাস পর টাস্ক ফোর্সের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট পেশ করা হবে। তখন আবার এ মামলা শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আদালত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় উল্লেখযোগ্য, দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবার ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!