- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ৫, ২০২৬
উমর, শারজিলের জামিন খারিজ শীর্ষ আদালতে । মঞ্জুর বাকি পাঁচ অভিযুক্তের
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযু্ক্ত জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিন খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত । তবে একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচ জনের জামিন সোমবার মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ ।
গত সেপ্টেম্বরে দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন উমর খালিদ সহ সাত জন । দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয় । দাঙ্গার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে খালিদ ও ইমাম ছাড়াও মহম্মদ শাকিল খান, শিফাউর রহমান, আতহার খান, মীরান হায়দার, শাদাব আহমেদ এবং গুলফিশা ফাতিমার জামিনও খারিজ করে আদালত ।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তরা । এবার দেশের শীর্ষ আদালতে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের আবেদন খারজি হলেও মহম্মদ শাকিল খান, গুলফিশা ফাতিমা, শিফাউর রহমান, মীরান হায়দার, শাদাব আহমেদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে । আদালতের তরফে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানে বাকস্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে । কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো মন্তব্য গ্রহনযোগ্য নয় । বিচারপতি কুমার এবং বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি হিংসার পরিকল্পনায় যে ভাবে উমর ও শারজিলের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে, তার ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ বিচার-পূর্ব দীর্ঘ কারাবাসের উদ্বেগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ । তাদের বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, তাতে ষড়যন্ত্রে তাঁদের যোগ থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে । জামিনের আবেদনের মূল্যায়নে সেটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে । অন্যদিকে এই মামলায় বাকি পাঁচজনে জামিন প্রসঙ্গে বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছেন, উমর খালিদ এবং শারজিলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার সঙ্গে বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফারাক রয়েছে । তাই তাদের আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে । তবে জামিনের জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তন ছাত্র । এই মামলায় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এখনো শেষ হয়নি, তা সম্পন্ন হলেই নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন ওই দুজন ।
খালিদ এবং ইমামের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তর–পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল । এই হিংসায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হন।
দিল্লি পুলিশ খালিদ, ইমামকে হিংসার মাস্টারমাইন্ড বলে অভিযুক্ত করেছে । তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয় । দুজনকেই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ ।
❤ Support Us






