- দে । শ
- মার্চ ২২, ২০২৫
ট্যাবের টাকা গায়েব! ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্কুলশিক্ষা দফতর
রাজ্যের স্কুল-শিক্ষা দপ্তর পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকা গায়েবের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই ঘটনায় তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাঁদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের একাধিক জেলার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য সরকার ১০ হাজার টাকা করে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিল। অভিযোগ, সেই টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশি তদন্ত শুরু হয়, যেখানে কয়েকজন শিক্ষকের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ট্যাবকাণ্ডে এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় শিক্ষক থেকে কৃষক সবাই রয়েছেন। পুরো বিষয়টির পিছনে বড়ো কোনো জালিয়াত চক্র আছে বলে পুলিশের অনুমান।
সূত্র অনুসারে, স্কুল-শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অভিযুক্ত ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের নাম গোপন রাখা হলেও জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে ২ জন পূর্ব বর্ধমানের, অপরজন মুর্শিদাবাদের স্কুলের শিক্ষক। তাঁরা সরকারি প্রকল্পের নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা পড়ুয়াদের প্রকৃত অ্যাকাউন্ট নম্বরের বদলে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নম্বর বসিয়ে সেই টাকাগুলি অন্যত্র সরিয়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা যাচাইয়ের সময় অভিযুক্ত শিক্ষকরা মিথ্যা তথ্য দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তাঁদের শো-কজ নোটিস পাঠায় এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিশদ অনুসন্ধান চালানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁরা এটিকে ‘ট্যাব কেলেঙ্কারি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে জানানো হয়েছে, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেসব পড়ুয়া এখনো ট্যাবের টাকা পাননি, তাঁদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। এই দুর্নীতির কারণে রাজ্য সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। দ্বিতীয়বার পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যে ট্যাবের টাকা চুরির ঘটনা স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিকস্তরে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, মধ্যশিক্ষা পরিষদ জানিয়েছে।
❤ Support Us






