- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- এপ্রিল ১৯, ২০২৫
পৃথিবী থেকে ১২৪ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব পেলেন বিজ্ঞানীরা
পৃথিবী থেকে ১২৪ আলোকবর্ষ বা প্রায় ৭০০ ট্রিলিয়ন মাইল দূরের এক গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব পেলেন বিজ্ঞানীরা। কে২–১৮বি নামক গ্রহের বায়ুমণ্ডল অধ্যয়নরত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন অণুর লক্ষণ সনাক্ত করেছে, যা পৃথিবীতে কেবল সরল জীব দ্বারা উৎপন্ন হয়। এটা নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দ্বারা ওই গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে এমন অণুর উপস্থিতির লক্ষণ পেয়েছেন। তবে গবেষক দল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, এই ফলাফলগুলি নিশ্চিত করার জন্য আরও তথ্যের প্রয়োজন।
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে আগেও এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক উপাদানের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই রাসায়নিক উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গেল। এবারের তথ্য আরও আশাজনক। গবেষক দল ও অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন। গবেষক দলের প্রধান ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক নিক্কু মধুসূদন বলেন, ‘এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, এখনও পর্যন্ত সম্ভবত প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। আমি বাস্তবসম্মতভাবে বলতে পারি যে আমরা এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই সংকেতটি নিশ্চিত করতে পারব।’
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এতটাই শক্তিশালী যে, এটি পৃথিবীর আড়াইগুণ আকারের বড় ওই গ্রহের সূক্ষ্ম বায়ুমণ্ডলে থাকা রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করে। পাশাপাশি গ্রহটির ছোট লাল রঙের সূর্য থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে। কে২–১৮বি পৃথিবী থেকে ৭০০ ট্রিলিয়ন মাইল বা ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, যা যে কোনও মানুষের জীবদ্দশায় ভ্রমণের চেয়ে অনেক বেশি।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, কে২–১৮বি গ্রহে তাঁরা ডাইমিথাইল সালফাইড ও ডাইমিথাইল ডিজালফাইডনামে অন্তত দুটি গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত পেয়েছেন। পৃথিবীতে সাগরের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এই গ্যাসগুলো উৎপন্ন হয়। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক নিক্কু মধুসূদন বলেন, ‘
আমাদের হিসেবে এই গ্যাস ওই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে হাজার গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে, যা পৃথিবীতে দেখা যায়। যদি এই গ্যাস সত্যিই প্রাণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে ধরে নিতে হবে এই গ্রহে প্রাণে ভরপুর।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কে২-১৮বি গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়, তবে সেটিই প্রমাণ করবে যে আমাদের এই ছায়াপথে প্রাণের অস্তিত্ব খুবই সাধারণ। এটি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। একটি প্রজাতি হিসেবে আমাদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
❤ Support Us






