Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২৭, ২০২৬

২০২৭ জনগণনায় ঘরে বসেই ‘সেল্ফ-এনুমারেশন’, বাংলায় ১ আগস্ট থেকে শুরু স্ব-গণনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২০২৭ জনগণনায় ঘরে বসেই ‘সেল্ফ-এনুমারেশন’, বাংলায় ১ আগস্ট থেকে শুরু স্ব-গণনা

দেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কাগজ-কলম, নথিপত্র ও ফাইলের দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের জনগণনায় নাগরিকদের জন্য চালু হচ্ছে ‘সেল্ফ-এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার ব্যবস্থা। এর ফলে দেশের যে কোনও নাগরিক ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করে se.census.gov.in পোর্টালে লগইন করে মাত্র ৩৩টি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের জনগণনার তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন।
এই বিশেষ স্ব-গণনার জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈধ মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করার পর ওই নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। সেই ওটিপির মাধ্যমে যাচাইকরণ সম্পন্ন করলেই নাগরিকরা ডিজিটাল ফর্ম পূরণ করে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন।
তবে যাঁরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে পারবেন না বা স্ব-গণনায় অংশ নেবেন না, তাঁদের জন্য থাকবে প্রচলিত বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা। প্রথমে ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘হাউস লিস্টিং’ বা বাড়ি চিহ্নিতকরণের কাজ হবে। এরপর সরকারি তথ্য সংগ্রহকারীরা সংশ্লিষ্ট বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই প্রক্রিয়া চলবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।
এই সমগ্র কর্মসূচি পরিচালনার জন্য রাজ্যজুড়ে দেড় লক্ষেরও বেশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এনিউমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারীকে নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁদের হাতে থাকবে স্মার্টফোন, যেখানে ‘এইচএলও’ (HLO) নামে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জনগণনার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
রাজ্যে এই বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি মাস থেকেই বিডিও, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। সাধারণভাবে ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ‘ফিল্ড ট্রেনার’-দের প্রশিক্ষণের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও সব জেলায় একই সময়ে এই প্রশিক্ষণ হবে না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ট্রেনাররাই পরবর্তী পর্যায়ে বুথ স্তরের কর্মীদের এইচএলও অ্যাপ পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
সমগ্র জনগণনা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালাতে প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ডেডিকেটেড সেন্সাস মনিটরিং রুম’। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া জেলায় এই মনিটরিং রুম চালু হয়েছে। পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান, কাগজ-কলমের জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করাই এই ডিজিটাল জনগণনার মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, এই কাজে মনিটরিং রুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।w
এই হাইটেক মনিটরিং রুম থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলার জনগণনার সমস্ত অগ্রগতি ও আপডেট সরাসরি সিএমএমএস (Computerized Maintenance Management System – CMMS) পোর্টালে আপলোড হবে, যার ফলে গোটা প্রক্রিয়ার উপর রিয়েল-টাইম নজরদারি ও সমন্বয় বজায় রাখা সম্ভব হবে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!