- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জানুয়ারি ২৯, ২০২৪
শামার জোসেফের দুরন্ত বোলিংয়ে ইতিহাস ক্যারিবিয়ানদের, ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল দেখে প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান উইকেটকিপার জেফ দুজোঁ বলেছিলেন, ‘কসাইখানাই ভেড়ার দল পাঠানো হচ্ছে।’ দুজোঁ কেন, সকলেরই ধারণা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাস্তবে দেখা গেল অন্য ছবি। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতল ক্যারিবিয়ানরা। কোর্টনি ওয়ালসের নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শেষবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্রায়ান লারা। সেই সময় জন্মই হয়নি শামার জোসেফের। ২৭ বছর পর এই শামার জোসেফের হাত ধরেই ইতিহাস গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অ্যাডিলেডে সিরিজের প্রথম টেস্টে তিন দিনেই হার মানতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। অনেকেই মনে করেছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন না ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৩১১। অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২৮৯ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করে। ২২ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৩ রানে গুটিয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১৬। তৃতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২ উইকেটে ৬২।
চতুর্থ দিন সকালে ভাল শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এদিন কোনও উইকেট না হারিয়ে ১১৩ রানে পৌঁছে গিয়েছিল। দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন স্টিভ স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন। ৩১ তম ওভারে পরপর ২ দু’বলে ক্যামেরন গ্রিন (৪২) ও ট্রাভিস হেডের (০) স্টাম্প ছিটকে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফেরান শামার জোসেফ। ডিনার বিরতিতে যাওয়ার আগে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন এই ক্যারিবিয়ান জোরে বোলার। পরপর ফেরান মিচেল মার্শ (১০), অ্যালেক্স ক্যারি (২), মিচেল স্টার্ক (২১), প্যাট কামিন্সকে (২)। টানা ১০ ওভার বোলিং করে ৬ উইকেট তুলে নেন।
ডিনার বিরতিতে যাওয়ার সময় জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ২ উইকেট। বিরতির পর খেলা শুরু হতেই নাথান লায়নকে (৯) তুলে নেন আলজারি জোসেফ। এরপরই অস্থির হয়ে ওঠেন শান্ত মেজাজে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া স্টিভ স্মিথ। আলজেরি জোসেফকে একটা ছক্কাও হাঁকান। পরের ওভারেই হ্যাজেলউডের (০) স্টাম্প ছিটকে দিয়ে দলকে ৮ রানে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন শামার জোসেফ। কাজে এল না স্মিথের দুরন্ত লড়াই। ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৬৮ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা হন শামার জোসেফ।
❤ Support Us







