- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জানুয়ারি ৯, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুদ্ধংদেহী ট্রাম্প, ‘আগে গুলি পরে কথা’, পাল্টা হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের
গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ফের প্রকাশ্যে আগ্রাসী অবস্থান নিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—প্রয়োজনে সেনা নামাতেও পিছপা হবে না আমেরিকা। এই হুমকির জবাবে কোনও রাখঢাক না রেখে ডেনমার্ক জানিয়ে দিল, গ্রিনল্যান্ডে বিদেশি সেনা ঢুকলেই আগে গুলি চলবে, পরে কথা হবে।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে ১৯৫২ সালের ‘রুল অফ এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে, গ্রিনল্যান্ডে কোনও বিদেশি সেনা দেখা মাত্রই গুলি চালাতে পারবে ডেনমার্কের সেনা—এর জন্য আলাদা করে কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই। ১৯৫২ সালে চালু হওয়া এই আইন এখনও কার্যকর রয়েছে বলেই স্পষ্ট করেছে ডেনমার্ক।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই বিশাল ভূখণ্ডটি তার কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৯ সাল থেকেই গ্রিনল্যান্ডের উপর নজর রয়েছে ট্রাম্পের। সেই সময় তিনি দ্বীপটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ডেনমার্ক সরকার এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী—দু’পক্ষই সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর বিষয়টি কিছুদিনের জন্য চাপা পড়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকান সেনা আটক করার ঘটনার পর আবার নতুন করে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ উসকে দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, “আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার তা স্পষ্ট করেছেন। আর্কটিক অঞ্চলে আমাদের প্রতিপক্ষদের রুখতেই হবে। প্রেসিডেন্ট একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন, প্রয়োজনে সেনা নামানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।”
এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন সেনেটর মার্কো রুবিও। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চান না। তিনি দ্বীপটি কিনতে আগ্রহী।”
অন্যদিকে, ডেনমার্ক বারবার স্পষ্ট করেছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। দেশের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেডেরিকসেন কড়া ভাষায় বলেন, “ট্রাম্প যদি হামলার পথে যান, তাহলে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে পড়বে।” যদিও একই সঙ্গে তিনি মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “এই পরিস্থিতিতে আলোচনাই একমাত্র পথ।”
ট্রাম্পের সামরিক হুমকিতে ইউরোপ জুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা উচিত।” গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ছায়া স্পষ্ট।
❤ Support Us






